ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২২ আগস্ট ২০১৯

মজা.কম

চোর

শফিক ইব্রাহিম

১৮ মে ২০১৬,বুধবার, ১৮:৪৬


প্রিন্ট

আমরা প্রায় সবাই কোনো-না-কোনোভাবে চোর। হ্যাঁ, অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটাই সত্য। কেউ জিনিস চোর, কেউ বা আবার টাকা চোর। কেউ জমি চোর, কেউ কথা চোর। কেউ লেখা চোর, কেউ পড়া চোর। কেউ আবার প্রেম চোর, কেউ চিঠি চোর। কেউ আদর্শ চোর, কেউ মিচক্যা চোর। কেউ দিনের চোর, কেউ রাতের চোর। কেউ ক্ষণিকের চোর, কেউ সারা জীবনের চোর। কেউ ভদ্র চোর, কেউ অভদ্র চোর। কেউ শিক্ষিত চোর, কেউ অশিক্ষিত চোর। কেউ মাদক চোর, কেউ জুতা চোর। কেউ স্বর্ণ চোর, কেউ অস্ত্র চোর, কেউ খাবার চোর। কেউ নিজের অধীনে চোর, কেউ চোরের দলের সদস্য চোর। কেউ পুরনো চোর, কেউ আবার চোরের সর্দার। কেউ মোবাইল চোর, কেউ পকেট চোর, সে-ও চোর। 

এক কথায় চোরের প্রকৃত কোনো ধরন নাই। যে সত্য কথা না বলে সে-ও চোর। মাঝে মধ্যে আমিও মিথ্যা বলি, তাই আমিও চোর। কেউ সত্যকে চুরি করে, কেউ মিথ্যাকে চুরি করে। কেউ অন্যকে ফাঁসাতে চুরি করে, কেউ চুরি করে নিজেই ফাঁসে।
বন্ধুরা, আপনারা কি এর বাইরে আরো কোনো চোর দেখেছেন, নাকি নাম শুনেছেন? যত রকমের চোরই থাকুক না কেন, আপন মানুষ যদি চোর হয় তবে লজ্জার আর শেষ থাকে না। সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো, কেউ যদি ভদ্র বেশে চোর হয় তাহলে তাকে ধরা বেশ কঠিন। আবার দৈনন্দিন জীবনে আমরা আমাদের পরিবারের, এমনকি আমাদের ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক কিছু লুকানোর চেষ্টা করি। সেটাও এক ধরনের চোট্টামি। মোটকথা চোরের প্রভাব এখন রাষ্ট্র থেকে বেডরুমে। এ থেকে কি বের হওয়ার উপায় নেই?
আছে। কিন্তু ওই যে, চোরায় না শোনে ধর্মের কাহিনী? তার মানে ধর্ম থেকে একটা উপায় পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই উপায় ক’জনই বা গ্রহণ করি? যখন কোনো ক্ষুধার্ত খাবার চুরি করে, তখনো সে চোর। যখন কেউ ব্যাংকের টাকা মেরে দেয়, সে-ও চোর।
ভালো হলে ভালো, কিন্তু যদি না হয়, তবে? না বন্ধুরা, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। মিছেমিছিই কাউকে সন্দেহ করার কারণ নেই। কারণ সন্দেহ রোগ ক্যান্সারের চেয়েও ভয়ঙ্কর। সব সময় ভালো ধারণা রাখা অবশ্য কর্তব্য। যদি আপনি ধার্মিক হন। কিন্তু একরকম চোট্টামি কোনোভাবেই আপনাকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না। সেটি কী? যখন কোনো স্বামী বা স্ত্রী একে অপরের কাছে কথা চুরি করে তো সেখানে মহা ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। একইভাবে সে হয় যখন কোনো প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু বা আত্মীয়স্বজন, সেটা হয় ছাইচাপা আগুনের মতো। তাহলে কি চোর ধরা পড়বে না?
একটি গল্প শোনাই, একটি বড় গৃহস্থবাড়ি। সে বছর কোনো ধানই উৎপাদন হয়নি। এক কথায় মারাত্মক আকাল। তো সারা দিন মাত্র একবেলা ভাত রান্না হয়। শাশুড়ি আবার চাল মেপে দেন। তাই ভাতও হয় একদম মাপা। কিন্তু প্রতিদিনই ভাত পড়ে কম। ব্যাপারটা কী? মেজবউ করে ভাত রান্না। তো রান্না শেষেই একগামলা ভাত নিয়ে সে চলে যায় মাচার নিচে। খেয়ে তারপর এসে ধরে অন্য কাজ। এভাবেই চলে আসছিল। একদিন ছোট ননদ ভাবল, ভাত তো অনেকই রান্না হয়, আমিও কিছু নিয়ে খেলে মন্দ হয় না। তো সেও ওই দিন গামলায় ভাত নিয়ে ঢুকল মাচার নিচে। গিয়ে দেখে মেজভাবী খাচ্ছে ভাত। এখন দু’জন সামনাসামনি। হঠাৎ ননদ বলে উঠল, ‘ভাবলাম তোমার মনে হয় আরো কয়টা ভাত লাগবে, তাই নিয়ে এলাম’। মজার ব্যাপার হলো, সে দিনের পর থেকে আর ভাত চুরি হতো না।
বন্ধুরা আপনারাই বলুন, চোর ধরতে কি চোর হতে হবে? না, চোর হওয়ার দরকার নেই। নির্দ্বিধায় সৎ থাকুন, দেখবেন যে চোর, সেই লজ্জিত হবে। হতে বাধ্য।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫