ঢাকা, শনিবার,২৪ আগস্ট ২০১৯

মজা.কম

ডাস্টবিন বৃত্তান্ত

ইকবাল খন্দকার

০১ জুন ২০১৬,বুধবার, ১৬:২১


প্রিন্ট

আমার এক বন্ধু কথায় কথায় বলে উঠল- অনেকেই বলে বিদেশীদের নাকি এটা আছে, ওটা আছে। কিন্তু আমাদের নেই। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে তাদের অনেক কিছুই আছে। কিন্তু আমাদের নেই, এটা কিন্তু ঠিক না। আমাদেরও আছে। যেমন ধর বিদেশীদের আছে মিস্টার বিন। আমাদের মিস্টার বিন না থাক, ডাস্টবিন তো আছে? বন্ধু কথাটা বলেছিল, বছর পাঁচেক আগে। কথাটা যদি সে এখন বলত, তাহলে হয়তো আরো জোর দিয়ে বলতে পারত। কারণ এখন আমাদের ডাস্টবিনের সংখ্যায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। শুধু সংখ্যায়ই নতুন মাত্রা যোগ হয়নি, গ্ল্যামারেরও একটা ব্যাপার আছে। ডাস্টবিন বলতে আগে আমরা দুর্গন্ধযুক্ত একটা বৃহদাকার জিনিসকে বুঝতাম। এখন বুঝি বেশ ছিমছাম একটা জিনিসকে। যেটা দেখলে আমাদের হাত অটোমেটিক নাকে চলে যায় না। তবে হাত নাকে না যাওয়ার কারণেই বোধ হয় চুরির আশঙ্কাটা বাড়ল। ডাস্টবিন চুরি হচ্ছে নিশ্চয়ই শুনেছেন? তো ডাস্টবিনগুলোর কাছে গেলেই যদি দুর্গন্ধে চোরদের নাক পচে যেত, দুই হাতে যদি তাদের নাক চেপে ধরে রাখতে হতো, তাহলে চুরি করার জন্য অতিরিক্ত হাত অবশিষ্ট থাকতো না। চিন্তা করতে পারেন? রাস্তায় রাস্তায় ডাস্টবিন স্থাপনের মতো ভালো একটা উদ্যোগও আমরা কিভাবে খেয়ে হজম করে ফেলার তালে আছি? এ প্রসঙ্গে অবশ্য অতিপুরনো একটা কৌতুক মনে করা যেতে পারে। 

এক লোক ট্রেনে করে কোথাও যাচ্ছে। হঠাৎ তার চোখে পড়ল ট্রেনের গায়ে লেখা- ‘রেল আপনার সম্পদ। এর হেফাজত করুন।’ একটু পরে লোকটা টয়লেটে ঢুকল। দেখল সেখানে চমৎকার একটা আয়না ঝুলছে। সে আয়নারা খুলে নিজের ব্যাগে নিয়ে সেখানে লিখে রাখল- রেল যেহেতু আমার সম্পদ, তাই আমার সম্পদের ভাগ আমি নিয়ে গেলাম। হেফাজতে কোনো প্রকার ত্রুটি হবে না।
পুরনো কৌতুক থেকে এবার মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। ঢাকা শহরে সদ্য বসানো ডাস্টবিনগুলো থেকে কিছু সংখ্যক ডাস্টবিন চুরি হয়ে গেছে। ব্যাপারটি আমাদের বিস্মিত করলেও চোররা হয়তো একটা যুক্তির ভিত্তিতেই চুরিটা করেছে। আর যুক্তিটা হয়তো ট্রেনের সেই লোকটার মতোই। রেল যেহেতু জনগণের সম্পদ, অতএব তার অংশ সে নিতেই পারে। ঠিক তেমনি ডাস্টবিন চোররা হয়তো মনে মনে এই যুক্তি দাঁড় করিয়ে চুরিটা করেছে- ডাস্টবিনের গায়ে যেহেতু লেখা থাকে ‘আমাকে ব্যবহার করুন’, অতএব এটা শুধু রাস্তায়ই ব্যবহার করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বাড়িতে নিয়ে চাল রাখার ড্রাম হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
একজন খুব আক্ষেপের স্বরে বললেন- এত ভালো ভালো ডাস্টবিনগুলো দেয়া হলো। এগুলো যাতে কেউ গায়েব করতে না পারে, এর জন্য ব্যবস্থা নেয়া দরকার ছিল না? পাশ থেকে আরেকজন বলে উঠলেন- জি, দরকার তো ছিলই। প্রতিটা ডাস্টবিনের চার পাশে কাচের বেড়া দিয়ে দিলে পারত। এবার আক্ষেপকারী ভদ্রলোক ক্ষেপে গেলেন- ধুর মিয়া, ইয়ার্কি করেন? ডাস্টবিনের চারপাশে কাঁচের বেড়া দিয়ে দিলে মানুষ ময়লা ফেলবে কিভাবে? এ
বার ইয়ার্কিকারী ভদ্রলোক বললেন- ময়লা ফেলার কী দরকার? জামার পকেটে নিয়ে ঘুরবে। ব্যাগে নিয়ে ঘুরবে। যে পাবলিক ডাস্টবিনের মতো সামান্য একটা জিনিস চুরি করার লোভ সামলাতে পারে না, তারা তো নিজেরাই ময়লা।
আমার এক প্রতিবেশী বললেন- ডাস্টবিন দিয়ে ফুটপাথের কিছু জায়গা দখল করা হয়েছে ঠিকই, আদৌ কি মানুষ ডাস্টবিন ব্যবহার করে? কলার খোসা, সিগারেটের প্যাকেটসহ আরো যত জিনিস আছে, বেশির ভাগই রাস্তায়ই ছুড়ে ফেলে। পাশেই আরেক প্রতিবেশী রিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি এগিয়ে এসে বললেন- আপনার কথা শুনে আমার মাথায় একটা ব্যবসার আইডিয়া চলে এলো। আমরা অবাক হলাম- ডাস্টবিন সংক্রান্ত কথা শুনে ব্যবসার আইডিয়া! প্রতিবেশী বললেন- জি। উনি বললেন না মানুষ নাকি ডাস্টবিন ইউজ করে না? কথাটা কিন্তু সত্য।
তাই আমি চিন্তা করছি একটা কোচিং সেন্টার খুলবো। যে কোচিং সেন্টারে ময়লা ফেলার বিভিন্ন কলাকৌশল বিশেষ করে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় শেখানো হবে। কোচিংয়ের নাম কি হবে জানেন? ডিএমএফ কোচিং সেন্টার।
আমরা জানতে চাইলাম- ‘ডিএমএফ’ মানে? প্রতিবেশী বললেন, ডাস্টবিনে ময়লা ফেলা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫