ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২২ আগস্ট ২০১৯

মজা.কম

‘কেউ আম্রে মাইরালা’

শামসুল হক শামস্

০৮ জুন ২০১৬,বুধবার, ১৭:২৭


প্রিন্ট

-হ্যালো ০৪২০, এটা কি ফায়ার সার্ভিস’
-জি বলেন কী চাই?
-আমাগো নাকভাঙ্গা বাজারে আগুন লাগছে। তাড়াতাড়ি নেভানোর ব্যবস্থা করেন ভাইয়ো।
-কী! কখন শুনলেন?
-এইমাত্র আমার কাজের ছেলেটা বাজার থাইক্যা আইসা কইল। আমি শুইন্যাই সরাসরি আফনাগো ফোন দিলাম। যা করার তাড়াতাড়ি করেন। বাজার পুইড়্যা তামাতামা হইয়্যা যাইতাছে।
-আমরা এক্ষুনি আসছি। ধন্যবাদ আপনাকে।
-ধন্যবাদ পরে দিয়েন, আগে আগুন নিভান ভাইয়ো।
তাড়াতাড়ি ফোনের লাইনটা কেটে এক বালতি পানি নিয়ে বাজারের দিকে দৌড়াতে লাগলেন বেসিক আলী। বাজারটাকে আগুনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য। কিছু দূর যেতেই রাস্তায় পড়ে থাকা আমের আটিতে আছাড় খেয়ে ধিরিম করে পড়ে গেল মাটিতে। সাথে সাথে বালতির তলা গেল ফেটে। আম খেয়ে রাস্তায় আটি ফেলে যাওয়া আমপাবলিককে আচ্ছামতো বকা দিতে দিতে উঠে দাঁড়াল বেসিক আলী। এই মুহূর্তে সামনে পেলে ঠিকি চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়ত। ততক্ষণে বালতির পানি শেষ। বাজারের কাছাকাছি যেতেই কিসের যেন একটা শোরগোল শুনতে পেল। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন কাকে যেন খুঁজছে। ইয়া লম্বা আর মোটা গোঁফওয়ালা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দেখে কিছুটা ভড়কে গেল বেসিক আলী। মনে মনে দোয়া পড়তে লাগল আর বুকে থু থু দিতে লাগল। তাদের একজন বলছে ‘মিথ্যাবাদী হারামীটা এখন মোবাইল বন্ধ করে রেখেছে’। বেসিক আলীর এখন আর বুঝতে বাকি নাই তারা কাকে খুঁজছে। বেসিক আলী মনে মনে বলে ‘ভাগ্যিস পথে আওনের সময় আছাড় খাইয়া পড়ছিলাম আর মোবাইলের ব্যাটারি ও সিম আলাদা হইছিল। দৌড়ের উপ্রে আছিলাম বইল্যা মোবাইল অন করি নাই। তা না হইলে আজ আর রক্ষে ছিল না। সব দোষ কাজের পোলাডার। বাজার তো ঠিকি আছে তাহলে হুদাই মিছা কথা কওনের কী আছিল? আইজ ওর একদিন কি আমার যে কয়দিন লাগে’। রাগান্বিত অবস্থায় বাড়ির দিকে রওনা দিলো বেসিক আলী। বউকে দেখে দাঁত কটমট করে জিগ্যেস করল ‘তোমাকে পল্টু কী কইছিল? বউ পাল্টা প্রশ্ন করল ‘কেন, কী হইছে? বেসিক আলী বলল ‘কি হওনের আর বাকি আছে? তুলকালাম কাণ্ড একটা ঘইট্যা গেছে। ও তোমারে কি কি কইছে খুইল্যা কও দেহি’।
করম আলীর বউ বলল ‘আমি পল্টুক্কেরে বাজারে পাঠাইছিলাম রোজার আগের কিছু কেনাকাটা করতে। খরচের জন্য যে পরিমাণ টাকা দিছিলাম তার অর্ধেক জিনিস লইয়্যা বাড়ি ফিরে আইছে।’
বেসিক আলী বলল ‘তারপর?
লম্বা একটা নিশ্বাস নিয়ে বউ বলল ‘তারপর আর কী? জিগাইলাম হিসাব কইরা টাকা দিছি কিন্তু যা আনার কথা তার অর্ধেক জিনিসপত্র আনছস ক্যাড়ে? পল্টুক্কে কইল সামনে রোজার মাস তাই বাজারে নাকি আগুন লাগসে। সব জিনিসপত্রের দাম লাফ মাইরা বাইড়্যা গেছে। কিন্তু এটার সাথে তোমার তুলকালাম কাণ্ড ঘটার রহস্য কী?
বেসিক আলী বলল ‘আমি ত হেইডা শুইন্যাই ফায়ার সার্ভিসে খবর দিছিলাম। এখন যদি অফিসে যাইয়্যা চেক করে তাইলে ত সরাসরি বোল্টআউট হইমু। আমার মোবাইলের সিম তো আবার বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করা। হেই লাইগ্যা ডরাইতাছি’।
‘অন্যায় করলে ডরাইতে হইবই, পুরা কথা না শুইন্যা দৌড় দিলে এমনটাই হওয়া দরকার’ বলল বেসিক আলীর বউ।
বেসিক আলী জিগ্যেস করল ‘আচ্ছা যাউগ্গা, বাজার থাইক্যা আমার চুলের জেল আনছে নাকি?
বেসিক আলীর কথা শুনে বউ বলল ‘ওরে আমার লায়ক রে, খরচের টাকা দিয়া পিঁয়াজ মরিচ তেল কিনতেই সব টাকা সাবাড়। আর উনি আছে মাথার চুলের জেল নিয়া! একটা কাজ কর, দ্রব্যমূল্যের বেসম্ভব ঊর্ধ্বগতির কারণে ঈদ পর্যন্ত চুলে জেলের পরিবর্তে আলকাতরা মাখা শুরু কর। জেল আর আলকাতরার মধ্যে তেমন একটা পার্থক্য নাই’।
বউয়ের কথা শুনে বেসিক আলী মুচকি হেসে বলে ‘ওরে কেউ আম্রে মাইরালারে!

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫