ঢাকা, শনিবার,০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

শেষের পাতা

কোরবানির পশুর হাড়গোড় খুর শিং সবই মূল্যবান

এবার রফতানি আড়াই শ’ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে

সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
হাজারীবাগে কোরবানির পশুর মাথার চামড়া সংগ্রহে ব্যস্ত শ্রমিকেরা  : নাসিম সিকদার

হাজারীবাগে কোরবানির পশুর মাথার চামড়া সংগ্রহে ব্যস্ত শ্রমিকেরা : নাসিম সিকদার

হাজারীবাগের ঠিক শেষ প্রান্তে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের কাছাকাছি কয়েকটি টিনের ঘর। এর ভেতরে ড্রামে ড্রামে কি যেন নাড়াচাড়া করা হচ্ছে। কাছেই গিয়ে জানা গেল, এগুলো হচ্ছে গরুর চর্বি। আগুনে এসব চর্বি গলিয়ে বিশাল ড্রামে ভরা হচ্ছে। হাসি দিয়ে সেখানে এক যুবক বলল, বাংলা সাবান (কাপড় কাঁচা) থেকে শুরু করে চকলেটেও দেয়া হয় এসব চর্বি। নামমাত্র মূল্যে কেনা এসব চর্বি চড়া দামে বড় বড় কোম্পানি কিনে নিয়ে যায় ।
এ দিকে একই ঘরের পাশে রয়েছে গবাদি পশুর হাড়গোড়, খুর, শিংয়ের বিশাল স্তূপ। জানতে চাইলে সেই যুবকই জানাল, আরে ভাই পশুর হাড়গোড়, খুর, শিং কোনো কিছুই ফেলনা না। এগুলোও মেলা দামি। বিদেশে রফতানি হয়। দেশেও হাজার হাজার মানুষ এসব বিক্রি করে জীবনযাপন করছে।
হাজারীবাগ ঘুরে দেখা গেল কোরবানির বর্জ্য নিয়ে যত রকম মাথাব্যথা বলে প্রচার হচ্ছে বাস্তবে গিয়ে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। গবাদি পশুর হাড়গোড়, খুর, শিং, লেজ সবই মূল্যবান। ক্রেতারা লুফে নিচ্ছে এসব কাঁচামাল।
গোশত ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম নয়া দিগন্তকে জানান, গরুর উচ্ছিষ্ট রফতানি করে কোটি কোটি টাকা আয় হয় বাংলাদেশে। গত বছর শুধু কোরবানির পশু থেকে এক হাজার মণ হাড়, ছয় হাজার কেজি যৌনাঙ্গ এবং পাঁচ শ’ মণ গোল্লা (নাড়িভুঁড়ি বিশেষ) সংগ্রহ করা হয়েছিল।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১৭০ কোটি টাকার পশুর হাড়, যৌনাঙ্গ ও গোল্লা বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়েছে। গোশত ব্যবসায়ী সমিতির রবিউল আলম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবার তা আড়াইশ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। 
হাড় দিয়ে ক্যাপসুল সেল
হাজারীবাগে গবাদি পশুর হাড়গোড়, খুর, শিং নিয়ে ব্যবসায় করেন প্রায় কয়েক শ’ ব্যবসায়ী। তবে এসব ব্যবসায়ী ুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। এসব হাড় নিয়ে বড় আকারে আসলে কি হচ্ছে তা তাদের অনেকেই জানেন না। তবে রবিউল আলম জানান গরুর হাড় দিয়ে তৈরি ছয় কোটি ক্যাপসুল কভার প্রতি মাসে ১৭টি দেশে রফতানি হচ্ছে। গরু-মহিষের দাঁত ও হাড় থেকে ক্যাপসুলের কভার তৈরি হয়। তা ছাড়া ‘বিদেশে পশুর বর্জ্যরে চাহিদা অনুযায়ী আমরা রফতানি করতে পারি না। তিনি বলেন, আমাদের ল্য একটি পশুর বর্জ্যও যেন নষ্ট না হয়। দেশের বেশির ভাগ মানুষ পশুর বর্জ্যরে গুরুত্ব সম্পর্কে জানেন না। জানা গেছে পশুর হাড়গোড়, খুর, শিং এক ধরনের মেশিনে গুঁড়া করে সার বানানো হয়, যা খুবই মূল্যবান। শিং থেকে বোতাম ও চিরুনি বেশি তৈরি হয়। মহিষের শিংয়ের ডগা থেকে জাপানে এক ধরনের খেলনা তৈরি করা হয়।
গরুর মাথার চামড়ার দাম কত?
গরুর মাথার চামড়ার দামই ধরে না বিক্রির সময়ে। অনেক সময়ে কসাই নিয়ে যায় একেবারে উচ্ছিষ্ট বলে। কিন্তু এগুলো অনেক মূল্যবান, যা হাজারীবাগের বিভিন্ন ট্যানারির সামনে গিয়ে দেখা গেছে। এসব চামড়া জমিয়ে রাখতে অপেক্ষাকৃত কম জায়গা লাগে। একটু পুঁজি পেলে দাঁড় করানো যায়। তাই এসবের কদর অনেক। জানা গেছে, একটি গরুর মাথার চামড়া সর্বোচ্চ ৪০ টাকায় কেনা হয়, যা প্রসেসিং করে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায় বলে জানালেন ুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিকী। হাজারীবাগে প্রায় তিন শ’র মতো ব্যবাসায়ী আছেন যারা মাথার চামড়া নিয়ে ব্যবসায় করেন। জানা গেছে, মাথার চামড়া নিয়ে ছোট ব্যাগ, মানিবাগ, জুতাসহ অনেক দামি পণ্য তৈরি করা হয়।
এ দিকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ট্যানারি থেকে পাওয়া উচ্ছিষ্ট চামড়া জুতার সোল এবং প্রক্রিয়াজাত করা চামড়ার ফেলে দেয়া অংশ থেকে সিরিশ কাগজ তৈরি হয়। জানা গেছে, রক্ত থেকে তৈরি হয় মুরগি ও পাখির খাবার। অপর দিকে জাপান, চীন, কোরিয়া আর থাইল্যান্ডে উপাদেয় খাবার সুপ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয় গবাদি পশুর লিঙ্গ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫