ঢাকা, সোমবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মাহে রমজান

পুরান ঢাকার বাহারি ইফতার

আহমেদ ইফতেখার

২৯ মে ২০১৭,সোমবার, ১৩:৪৮


প্রিন্ট

বাহারি ইফতারের শত শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে পুরান ঢাকা। মোগল আমল থেকেই ঢাকায় বাহারি ইফতারের প্রচলন ঘটে। কালক্রমে এর জৌলুস ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীজুড়ে। বিশেষ করে বাহারি ইফতারের আলোচনা এলেই সবার আগে চলে আসে পুরান ঢাকার চকবাজারের কথা। যাতায়াত সুবিধার জন্য চকবাজার ছাপিয়ে এখন ইফতারবাজার ছড়িয়ে পড়েছে পুরান ঢাকার বিস্তৃত এলাকায়। বর্তমানে বাংলাবাজার, সদরঘাট, নবাবপুর, বংশাল, সিদ্দিকবাজার, গুলিস্তান, কোর্ট-কাচারী এলাকা, ওয়ারী, লক্ষ্মীবাজার, বাবুবাজার, মিটফোর্ড, আরমানিটোলা, সুরিটোলা, কাপ্তানবাজার, চানখাঁরপুল, আজিমপুর, টিপুসুলতান রোর্ড, ধোলাইখালসহ নানাস্থানে এখন বাহারি ইফতার পাওয়া যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে পুরান ঢাকার ইফতারবাজার এখন জমজমাট। বেলা ১টার পর পরই ইফতারবাজার বসছে রাস্তার ধারে। আছর নামাজের আগেই হাজার হাজার ক্রেতা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ইফতারবাজারে। প্রতিদিন পুরান ঢাকার ইফতারবাজারে কোটি টাকার ইফতারসামগ্রী বিকিকিনি হচ্ছে। আস্ত খাসি থেকে মুরগির রোস্ট সবই মিলবে এখানে। গত সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পৌনে দুই লাখ টাকার ইফতার বিক্রি করেছেন বলে জানান এক বিক্রেতা।
চক বাজারের চারদিকে ৫ শতাধিক ইফতারির দোকান বসে। এসব দোকানে বিশাল শিকের সঙ্গে জড়ানো সুতি কাবাব, জালি কাবাব, শাকপুলি, টিকা কাবাব, ডিম চপ, কাচ্চি, তেহারি, মোরগ পোলাও, কবুতর ও কোয়েলের রোস্ট, খাসির রানের রোস্ট, দইবড়া, মোল্লার হালিম, নূরানী লাচ্ছি, পনির, বিভিন্ন ধরনের কাটলেট, পেস্তা বাদামের শরবত, লাবাং, ছানামাঠা, কিমা পরটা, ছোলা, মুড়ি, ঘুগনি, বেগুনি, আলুর চপ, জালি কাবাব, পিঁয়াজু, আধা কেজি থেকে ৫ কেজি ওজনের জাম্বো সাইজ শাহী জিলাপিসহ নানা পদের খাবার সাজিয়ে বসে পড়েছেন বিক্রেতারা। এ ছাড়া আতা-আনারস-বিলেতি গাব থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ফল, পিঠা-পায়েস, মিষ্টিসহ ইফতারের নানা সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে এ বাজারে।
বড় বাপের পোলায় খায়
‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়, ধনী-গরিব সবায় খায়, মজা পাইয়া লইয়া যায়’ এমন হাঁক-ডাক আর অচেনা নেই কারো কাছে। এমন ডাক শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজারের রকমারি মুখরোচক ইফতারের পসরা।চকের ইফতার বাজারের একটি জনপ্রিয় আইটেম ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। যার হাত দিয়ে এ আইটেমটির উৎপত্তি তিনি হলেন পুরান ঢাকার বাসিন্দা দাতা মোহাম্মদ কামাল মাহমুদ। যিনি কামেল মিয়া নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি বরাবরই ছিলেন একজন ভোজনরসিক মানুষ। তিনি নানা ধরনের মুখরোচক খাবার তৈরি করতে জানতেন। ৭০ থেকে ৭৫ বছর আগে তিনিই প্রথম খাবারটি তৈরি করে এখানে বিক্রি শুরু করেন। বটপাতার ডালায় করে তিনি বিক্রি করতেন ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। এটি তৈরিতে ডিম, গরুর মগজ, আলু, ঘি, কাঁচা ও শুকনা মরিচ, গরুর কলিজা, মুরগির গোশতের কুচি, মুরগির গিলা-কলিজা, সুতি কাবাব, গোশতের কিমা, চিঁড়া, ডাবলি, বুটের ডাল, মিষ্টি কুমড়াসহ ১৫ পদের খাবার আইটেম ও ২৪ ধরনের মসলা প্রয়োজন। একটি পিতলের বড় থালে সব কিছু দুই হাতে ভালোভাবে মাখিয়ে তারপর ঠোঙ্গায় করে বিক্রি করা হয়।
প্রতি কেজি বড় বাপের পোলায় খায় দাম ৪২০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, সুতি কাবাব গরু ৮০০ টাকা কেজি, খাসি ৯০০ টাকা কেজি, কবুতরের রোস্ট ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, কোয়েলের রোস্ট ৭০ থেকে ৮০ টাকা, আস্ত মুরগির রোস্ট ২৬০ থেকে ৩২০ টাকা, খাসির রানের রোস্ট ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, টিক্কা কাবাব ৩০ টাকা, শিক কাবাব ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া এক কেজি ওজনের একেকটি শাহী জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায়। অন্য দিকে ডাবাব খেজুর ১৬০ টাকা কেজি, বড়ই খেজুর প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, তিনিশীল কেজি ৫০০ ও চুপরি খেজুর ৪৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন দোকানিরা।
ঐতিহ্যবাহী ইফতার কিনতে গত সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ থেকে চকবাজারে আসেন মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, সত্যিই এখানকার ইফতারসামগ্রীর মধ্যে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ অন্য রকম। যে খায়নি সে বুঝবে না। ছেলেকে নিয়ে বাবুবাজার থেকে ইফতার কিনতে এসেছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, এবার ইফতারের দাম বেশি। এজন্য সবকিছু কম পরিমাণে হলেও কিনেছি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫