ঢাকা, শুক্রবার,২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মাহে রমজান

পথচারীদের ইফতারে আহ্ছানিয়া মিশন

০৩ জুন ২০১৭,শনিবার, ১৪:০০


প্রিন্ট

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পয়েন্টে আহ্ছানিয়া মিশন ইফতারের সময়ের ৩০ মিনিট আগে ট্রাফিক সিগনালে বাসযাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করছে। গত বছর থেকে তারা এ সেবামূলক উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এ সব নিয়ে লিখেছেন শওকত আলী রতন

রাজধানী ঢাকায় নানা পেশাজীবী মানুষের বসবাস। কর্মব্যস্ত মানুষ ছুটে চলে শহরের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। রাজধানীবাসী এসব মানুষের কথা বিবেচনা করে মানবতার সেবায় নিয়োজিত ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন রোজাদারদের ইফতারের উদ্যোগ নিয়েছে। রোজাদারদের ইফতার করানো আমাদের দেশের একটি প্রাচীন রেওয়াজ। এ ছাড়া রোজাদারদের ইফতার করানোর ব্যাপারে কুরআন-হাদিসে তাগিদ এসেছে। কিন্তু পথচারীদের ইফতার করানোর বিষয়টি সচরাচর দেখা যায় না। প্রতিদিন আড়াই হাজার পথচারী মানুষের ইফতারের আয়োজন করছে আহ্ছানিয়া মিশন। যদিও রাজধানীর মোট জনসংখ্যার তুলনার এই সংখ্যাটি খুবই নগণ্য। তার পরও এই উদ্যোগটিকে ব্যতিক্রমী চিন্তাচেতনার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন অনেকেই। ইতোমধ্যেই রাজধানীবাসীর কাছে উদ্যোগটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পয়েন্টে আহ্ছানিয়া মিশন ইফতারের সময়ের ৩০ মিনিট আগে ট্রাফিক সিগনালে বাসযাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করছে। যুগে যুগে মানুষের কল্যাণে নানামুখী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর খবরটি অতি পরিচিত হলেও পথচারীদের ইফতার করানোর উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না।
তাই মাহে রমজানের প্রথম দিন থেকে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন রাজধানীর ঢাকার শাহবাগ মোড়, নিউ মার্কেটের ওভার ব্রিজ সংলগ্ন, শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন, মহাখালী ফ্লাই ওভারের নিচে ও ফার্মগেট তেজগাঁও কলেজের সামনে প্রতিদিন ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে অর্থাৎ ৬টা ১৫ মিনিট থেকে রোজাদারদের হাতে ইফতার সামগ্রী হিসেবে এক বোতল পানি, দুই পিস খেজুর, একটি রুটি ও এক প্যাকেট বিস্কুট হাতে তুলে দিচ্ছেন। গত বছর থেকে স্বেচ্ছাসেবামূলক এ প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যেই উদ্যোগটি সব শ্রেণীপেশার মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে। আগামীতে সবার সহযোগিতা পেলে আরো ব্যাপকভাবে এ আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় ইফতারের প্যাকেট ভর্তি একটি পিকআপ শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়। গাড়িটিকে লক্ষ্য করে ক্রমেই উৎসাহী কিছু মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। ঘড়ির কাঁটায় যখন ৬টা ১৫ মিনিট ঠিক সেই মুহূর্তে আহ্ছানিয়া মিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা গাড়ি থেকে ইফতারের প্যাকেট নামিয়ে পথচারী ও শাহবাগ মোড়ে সিগন্যালে থামানো গাড়ির জানালা দিয়ে যাত্রীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই আগ্রহসহ ইফতারের প্যাকেটটি হাতে নিচ্ছেন। বাসে থাকাকালীন ইফতারের সময় হয়ে গেলে খুব সহজেই একজন রোজাদার ইফতার করে নিতে পারবেন। এ ব্যাপারে কথা হয় একজন পথচারীর সাথে। তিনি জানান, অফিস শেষে এ পথ দিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় এক প্যাকেট ইফতার নিয়ে যান তিনি। রাস্তায় ইফতারের সময় হলে এগুলো দিয়েই ইফতার করেন। তিনি বলেন, মানব কল্যাণে এটি খুবই মহৎ উদ্যোগ। আহ্ছানিয়া মিশনের পাশাপাশি এ উদ্যোগে অন্যরাও এগিয়ে এলে আরো বেশি মানুষ সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এ ব্যাপারে কথা হয় স্বেচ্ছাসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার সাথে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে আড়াই হাজার মানুষের ইফতার সামগ্রী হিসেবে সামান্য কিছু রোজাদারের হাতে তুলে দিতে পেরে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এটি আহ্ছানিয়া মিশনের একার কাজ নয়, মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে সহযোগিতার মনোভাব আমাদের দেশে একদমই নেই। আমরা কেবল স্বল্পসংখ্যক মানুষ দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু করেছি। সম্মিলিতভাবে সবার সহযোগিতা পেলে সংখ্যা এবং পরিধি আরো বাড়ানো হবে। আহ্ছানিয়া মিশন দীর্ঘ দিন ধরে মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ও মানবকল্যাণে নানাবিধ সেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। সবশেষ রোজাদারদের হাতে ইফতার সামগ্রী তুলে দেয়ার বিষয়টি সংস্থাটির এমন উদ্যোগ তাদের কর্মকাণ্ডকে আরো গতিশীল করবে ও নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে এমনটাই মনে করছেন অনেকেই।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫