ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২২ আগস্ট ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

সামাজিক অসহিষ্ণুতা

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

১৬ জুন ২০১৭,শুক্রবার, ২০:২৬


 ড. আবদুল লতিফ মাসুম

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

প্রিন্ট

সমাজতত্ত্ববিদ ইবনে খলদুন সমাজ, রাষ্ট্র ও জনগণের মনস্তত্ত্ব নির্ণয়ের চেষ্টা করেছেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ আল-মুকাদ্দিমায় এতদসম্পর্কিত তত্ত্ব তুলে ধরেন তার নাম ‘আসাবিয়াহ’ বা গোত্রতত্ত্ব। খলদুন মনে করেন- গোত্র যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় নাগরিকে পরিণত হয়েছে, তারা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের আবহাওয়া, সাগর-নদী এবং পাহাড়-পর্বতের পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সে অনুযায়ী প্রাচীনকাল থেকে বেড়ে ওঠা গাঙ্গেয় অববাহিকার বাংলাদেশ সমভূমি স্বাভাবিকভাবেই এর প্রাকৃতিক পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। বেদ-পুরাণে এই পূর্বাঞ্চলীয় জনপদ সম্পর্কে কোনো ইতিবাচক ব্যাখ্যা নেই। বলা হয়েছে- এ অঞ্চলে মানুষসদৃশ পক্ষীজাতীয় প্রাণীও বসবাস করে। স্বাভাবিকভাবেই তারা কিচিরমিচির করে বেশি। মধ্যযুগে সম্রাট বাবর তার আত্মজীবনী তুযক-ই বাবর-এ বাংলাদেশকে অস্থিরতার দেশ বলে বর্ণনা করেছেন। অতীতে যারা বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন যেমন- মার্কোপলো, হিউয়েন সাঙ, ফাহিয়েন এবং ইবনে বতুতা, তারা কেউই বাংলাদেশ জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেননি। গল্প আছে এ রকম যে, শায়েস্তাখান লালবাগের কেল্লা অসমাপ্ত রেখেই দিল্লি প্রত্যাবর্তন করেন। ঐতিহাসিক কারণ যাই থাকুক না কেন গুজবটি এ রকম- তিনি দেখলেন বুড়িগঙ্গার পানি দুর্গের কাছাকাছি। পরে দেখেন পানি ধারে কাছেও নেই। জোয়ার-ভাটার এ খেলা দেখে শায়েস্তাখান নাকি বিস্মিত হয়েছিলেন। তিনি জনমনস্তত্ত্বেও বিষয়টি প্রয়োগ করেছিলেন। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ অভিহিত হয়েছিল ‘বুলগপুর’ বা ঝগড়ার দেশ হিসেবে। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় শের-ই কাশমির শেখ আবদুল্লাহ বাংলাদেশ জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অস্থিরতা সম্পর্কে নেতিবাচক উক্তি করেছিলেন। সেই প্রাচীন থেকে বাংলাদেশের ইতিহাস, ভূগোল ও রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন। কিন্তু বাঙালির মূল চরিত্রে পরিবর্তন হয়নি আদৌ। ইতিহাস তার সাক্ষী। এসব কথা মনে হলো সাম্প্রতিক সময়ের বাংলাদেশের ব্যাপক সামাজিক অস্থিরতা দেখে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা বোঝা যায় রাজা-রাজ্য-রাজধানীর ঘন ঘন উত্থান-পতন দেখে। কিন্তু সমাজ তো রাজনীতির চেয়েও ব্যাপক ও বিস্তৃত। সুতরাং সামাজিক অস্থিরতা নির্ণয়, নির্ধারণ ও চিহ্নিতকরণ এত সহজ নয়। ওয়েবস্টার অভিধানে সামাজিক অস্থিরতার কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ আছে। প্রথমত, কোনো নতুন বক্তব্য, ব্যক্তিত্ব বা যেকোনো কিছুকে গ্রহণ করতে অনিচ্ছা। দ্বিতীয়ত, অন্যকে কোনো কিছু প্রদান করতে অনীহা বা হিংসার মনোভাব পোষণ করা। এ মনোভাব হতে পারে রাজনৈতিক মত প্রকাশের ক্ষেত্রে, ধর্মীয় মতবাদ বা রীতিনীতিকে গ্রহণ-বর্জনের ক্ষেত্রে এবং পেশাগত অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে। বিষয়টি আরো একটু ব্যাখ্যা করলে এভাবে বলা যায়, সামাজিক অস্থিরতা হচ্ছে- ক. ব্যক্তিক, খ. গোষ্ঠীক, গ. স্থানিক, ঘ. সামাজিক, ঙ. রাজনৈতিক এবং চ. ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে বিবাদ-বিসম্বাদ। এভাবে ব্যক্তি অন্যের মতো প্রকাশের, মর্যাদা ধারণের এবং সম্পত্তি অর্জনের অধিকারকে বিদ্বেষের চোখে দেখে। শুধু তাই নয়, তার বিরোধী ব্যক্তিকে নির্মূলেও এরা পিছপা হয় না। ব্যক্তির স্বার্থকে প্রতারণা, প্রচারণা ও প্রলোভন দিয়ে তারা একে গোষ্ঠীস্বার্থে রূপান্তরে যাথার্থই সক্ষমতা প্রদর্শন করে। এ জন্য মারামারি-হানাহানি, কাটাকাটি- ফাটাফাটি, মামলা-মোকদ্দমা, হয়রানি-রাহাজানি, সন্ত্রাস-সহিংসতা, খুন-জখম এবং গুম- কোনো কিছুতেই পিছপা হয় না।
পৃথিবী যেমন এগিয়েছে বাংলাদেশ সমাজ, রাষ্ট্র ও এর জনগণও শিক্ষা, দীক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি- সব ক্ষেত্রেই সর্বতোভাবে এগিয়েছে। আমাদের অজপাড়াগাঁয়েও এখন ডিশ এন্টেনা আছে। আমাদের মেয়েরা এখন যথেষ্ট খোলামেলাভাবে চলাফেরা করে। আমাদের যুবকেরা ফেসবুক, টুইটার, ইন্সট্রাগ্রম, লিঙ্ডইন, ভাইবার, ওয়াটস্ অ্যাপ, ইউটিউব এবং গুগল প্লাস-এর মাধ্যমে গোটা পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় ধারণ করে। আমাদের নাগরিকেরা তাদের বুদ্ধিমত্তা ও কার্যক্রম দ্বারা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, চাঁদাবাজি, ব্যাংক ডাকাতি, মানিলন্ডারিং ও সেকেন্ড হোম প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় খ্যাতিমান। এসব দুষ্কর্মে তারা একে অপরকে সহযোগিতা করে। কিন্তু যখন এ পথে কেউ কাঁটা বসাতে চায়, প্রতিবাদ করে তখন এরা এতটাই অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে যে, সেখানে মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-সহপাঠী, শিক্ষক অথবা অভিভাবক কারো কোনো রক্ষা নেই। ঐশী তার মা-বাবাকে হত্যা করেছে তার ইচ্ছার বিরোধিতা করায়। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদপত্রে সামাজিক অসহিষ্ণুতার নির্মম চিত্র প্রকাশিত হচ্ছে। মনে পড়ে কয়েক বছর আগে সিগারেট বাকি না দেয়ায় গরিব দোকানদারকে হত্যা করেছিল এক যুবক। এক সাব-রেজিস্ট্রারকে সবাই মিলে হত্যা করেছিল এই অপরাধে যে, সে ঘুষ খেতে দেয় না। কত মেয়ের সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে মা-বাবা তো প্রাণ দিচ্ছেনই সাধারণ মানুষেরা অজানা, অচেনা মেয়ের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য প্রাণ দিচ্ছেন। কয়েক বছর আগে ছাত্রী উৎপীড়নকারীদের হাতে কতজনকে নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। বিষয়টি সাম্প্রতিকতার জন্য এ সপ্তাহের কয়েকটি সংবাদ উদ্ধৃত করছি।
এক. ‘শ্রীপুরে শিশুকে হত্যার অভিযোগে মা গ্রেফতার’। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এক মায়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আট মাসের শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তুচ্ছ স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার কারণে স্ত্রী রাতে ঘরে থাকা কীটনাশক দুধের ফিডারে মিশিয়ে ছেলেকে খাইয়ে দেয়। কিছু সময় পরই শিশুটি বমি করে এবং মারা যায়। আদালতে সেই নিষ্ঠুর মা সন্তানকে দুধে বিষ খাইয়ে হত্যা করার কথা স্বীকার করে (প্রথম আলো : ২ জুন ২০১৭)। যে মায়ের কাছে শিশুটির নিরাপত্তা ছিল ১০০ একভাগ সেখানে মায়ের হাতে শিশুকে প্রাণ দিতে হলো! এর চেয়ে কষ্টের কথা আর কী হতে পারে? ব্যক্তিক অসহিষ্ণুতা কিভাবে চরম নিষ্ঠুরতায় রূপান্তরিত হচ্ছে এ ঘটনা তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ।
দুই. ‘সাতক্ষীরায় ছেলের লাঠির আঘাতে বাবা, স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন।’ সাতক্ষীরায় ছেলের হাতে বাবা ও স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হয়েছে। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ- সদর উপজেলার হাজীপুর গ্রামের বাবা আকবর আলী ও ছেলে আবদুল সালামের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ছেলে তার বাবার মাথায় লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এতে বৃদ্ধ বাবা গুরুতর আহত হন। পরে তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অপর একটি ঘটনায় একই জেলার আশাশুনি উপজেলার গোয়ালভাঙ্গা গ্রামে রাতে ভাত খাওয়ার সময় স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হয়। স্বামী স্ত্রীকে আঘাত করলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। রাতেই মারা যায় স্ত্রী। পরে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে স্বামী লাশটিকে বাড়ির পাশে গাছে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করে। পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর স্বামী স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করে (যুগান্তর : ১২ জুন ২০১৭)। ছেলের হাতে বাবা খুন হওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক! কিন্তু অস্বাভাবিকতাই যেন আজকাল স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত যে পিতৃভক্তিকে অতিক্রম করেছে সেটাই নির্মম সত্য। অপর দিকে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী হত্যার বিষয়টি এতদদেশে একটি স্বাভাবিক ঘটনা। প্রায়ই সংবাদপত্রে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হতে দেখা যায়। বলা যায় বাংলাদেশে এ ধরনের মৃত্যু মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। স্বামীরা স্ত্রীর প্রতি প্রায়ই অসহিষ্ণু- এটি একটি অতি বাস্তব বিষয়। দেখা যায় দরজা খুলতে দেরি হলেও স্ত্রী স্বামীর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। শুধু অশিক্ষিত পরিবারে এ ঘটনা ঘটে তা
নয়। ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব, স্বার্থবুদ্ধি এবং পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাসের অভাব- এ ধরনের অসহিষ্ণুতার জন্ম দেয়। অপর দিকে স্ত্রী কর্তৃক স্বামী হত্যাও একটি বড় ধরনের অভিযোগ। পরিসংখ্যান নিয়ে দেখা যাবে যে, স্ত্রীর অসততা, পরকীয়া প্রেম এবং প্ররোচনা অধিকতর সংখ্যায় ঘটছে। পাশ্চাত্যের প্রভাব, টিভি সিরিয়াল, অশালীন সিনেমা এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলার কারণে এ ধরনের মৃত্যু বেশি ঘটছে।
তিন. ‘এ তথ্যের সমর্থনে হাতেনাতে একটি খবর আছে।’ আর তা হলো- সম্প্রতি গুলশান এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্বামীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, অন্যের সাথে সম্পর্ক আছে- এমন সন্দেহ থেকে ওই ব্যক্তি স্ত্রীকে হত্যা করে (প্রথম আলা : ১১ জুন ২০১৭)।
চার. আর একটি সামাজিক বিরোধের বড় একটি ক্ষেত্র হচ্ছে জমিজমা। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিস্ফোরণ এবং জমির স্বল্পতা এই বিরোধের কারণ। মামলা-মোকদ্দমার বেশির ভাগই হচ্ছে জমিজমা বিরোধকেন্দ্রিক। এই বিরোধে নিকটতম স্বজনের মধ্যেই সঙ্ঘাত সৃষ্টি হয়। জমিজমার চেয়েও জেদ, প্রতিহিংসা বড় হয়ে দাঁড়ায়। স্বী স্বার্থবুদ্ধি হাসিলের জন্য এমন কোনো অন্যায় নেই যে তারা তা করতে পারে না। মামলা করে করে নিঃস্ব হয়ে যায় উভয় পক্ষ, কিন্তু প্রতিহিংসার অবসান হয় না।
পাঁচ. ‘অপরাধপ্রবণতার সাম্প্রতিক বড় একটি ক্ষেত্র হলো কিশোর জগৎ।’ বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কিশোর যুবা। যুবাদের সংবাদে গণমাধ্যমে প্লাবন আছে, সেটি একটি নির্মম সত্য। ইদানীং কিশোর বাহিনীর সন্ত্রাসের সচিত্র প্রতিবেদন কোনো কোনো সংবাদপত্রে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। অতি সামান্য ঘটনায় কিভাবে এরা অতিনিষ্ঠুর হতে পারে তা সবাইকে বিস্মিত করে। এ ক্ষেত্রে একটি সংবাদ উদ্ধৃত করা যায়। নরসিংদী প্রতিনিধি প্রেরিত সংবাদে বলা হয়Ñ ১৫০ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে সহপাঠী বন্ধুদের সাবলের আঘাতে প্রাণ গেল এক কিশোরের। ঘটনাটি ঘটেছে ৩০ মে বিকেলে নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার বাজনাত ইউনিয়নের বীরবাঘবের গ্রামে। পাঁচ দিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন থাকার পর সে মারা যায়। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ নিহত কিশোর এবং তার ছয় সহপাঠীর মধ্যে সামান্য টাকার পাওনা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে একপর্যায়ে সহপাঠীরা তাকে রড ও সাবল দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় চলে যায় (যুগান্তর : ৬ জুন ২০১৭)।
ছয়. ‘সংবাদ শিরোনামটি এ রকম- লক্ষ্মীপুরে মুনাজাত নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত এক।’ লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি প্রেরিত সংবাদে বলা হয়- সদর উপজেলার মধ্যকালীরচর গ্রামের মনসুর আহমদ জামে মসজিদের ইমামের মুনাজাত না ধরা নিয়ে নিহত ব্যক্তির নাম নূর হোসেন। হামলায় তার বড় ভাই জাকির হোসেনও আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নূর হোসেনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সকালের দিকে মারা যান তিনি। নূর হোসেন স্থানীয় মরহুম রফিকুল্লার ছেলে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় মনসুর আহমেদ জামে মসজিদের ইমাম নামাজের পর মুনাজাত ধরতেন না। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুমার নামাজের পর ইমামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে ইমাম উত্তেজিত হয়ে তাকে মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এ সময় ইমামপক্ষ ও কমিটিপক্ষরা বাগি¦তণ্ডায় লিপ্ত হয়। এর জের ধরে রাতে তারাবি নামাজের পর ইমামপক্ষ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করে। এতে একজন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা জানায়, তিন-চার মাস ধরে ওই মসজিদে আল-আমিন ওই মসজিদের ইমামতি করেন।
সামাজিক অস্থিরতা ও সমাজের অরাজক অবস্থার ইঙ্গিত দেন। জনচরিত্রের গতানুগতিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এই কিছু দিন আগেও সমাজে মুরব্বিদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব শক্ত ছিল। কিন্তু এখন সে অবস্থার নেতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। সামগ্রিক মূল্যবোধের সাথে সাথে নতুন সামাজিক নেতৃত্বের প্রকাশ, প্রভাব ও প্রসার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এই পরিবর্তনে পুরনো মূল্যবোধ ভিত্তিক নৈতিক নেতৃত্ব ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়েছে তার পরিবর্তে রাজনৈতিক ক্ষমতাকেন্দ্রিক তরুণ নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটেছে। এই তরুণ নেতৃত্ব আইন, নৈতিকতা ও সদাচরণকে দুর্বলতার লক্ষণ মনে করে। এ থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় নৈতিক বিপ্লব ছাড়া কোনো উপায় নেই। ব্যক্তিগত বিরোধ, পারিবারিক কোন্দল, সামাজিক সঙ্ঘাত ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে যদি নৈতিকভাবে পরিচালিত করা যায় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে কিছু সফলতা পাওয়া যেতে পারে।
তবে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেভাবে জনমনস্তত্ত্বে অস্থিরতার বীজ রোপিত হয়েছে তা বিষবৃক্ষে পরিণত হওয়ার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সমাজ রাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নিতে হবে। পাল্টে দিতে হবে রাষ্ট্রের খোলনলচে। তবেই সার্বিক পরিবর্তন আশা করা যায়।
লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫