ঢাকা, শুক্রবার,২৪ মে ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

এবার অনলাইন গণমাধ্যমেও খড়গ

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

২৩ জুন ২০১৭,শুক্রবার, ২১:৪৩


 ড. আবদুল লতিফ মাসুম

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

প্রিন্ট

ক্রমাগত গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের সর্বশেষ প্রয়াস ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৭’। গত ১৯ জুন মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ খসড়া নীতিমালা অনুমোদন করা হয়। প্রস্তাবিত এ নীতিমালা মোতাবেক, ইলেকট্রনিক মাধ্যমের মতো দেশের সব অনলাইন গণমাধ্যমও চলবে সম্প্রচার কমিশনের অধীনে। এই কমিশনের কাছে সবাইকে নিবন্ধিত হতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, অনলাইনে সংবাদ, অনুষ্ঠান ও বিজ্ঞাপন প্রচারে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রযোজ্য হবে। তথ্য ও যোগযোগপ্রযুক্তি আইন, দ্য সেন্সরশিপ অব ফিল্ম অ্যাক্ট, কপিরাইটসহ দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করে তথ্য ও উপাত্ত প্রচার, প্রকাশ ও সম্প্রচার করা যাবে না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, সম্প্রচার কমিশন গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। কমিশন না হওয়া পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলবে অনলাইন গণমাধ্যম। নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনলাইন প্রতিষ্ঠানের কোনো তথ্য-উপাত্ত যদি কোনো নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের অধিকার ক্ষুণœ করে, তাহলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কমিশনের কাছে অভিযোগ দিতে পারবে। পরে কমিশন অভিযোগ শুনানি ও তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে আদেশ ও নিবন্ধন সম্পর্কে নির্দেশনা দিতে এবং জরিমানা করতে পারবে।
ক্ষমতাসীন সরকার তাদের গৃহীত বিভিন্ন আইন, অধ্যাদেশ ও নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে সার্বিকভাবে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। কারণ, আজকের পৃথিবীতে গণমাধ্যম তথা সংবাদপত্র যেকোনো দেশের জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব এবং এর অগণিত দর্শক-পাঠক নবতর গুরুত্বের মূল কারণ। তথ্যপ্রযুক্তির বৈপ্লবিক সম্প্রসারণের কারণে রাজনীতিতেও এর জোরালো প্রভাব ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে। গণমাধ্যমের ব্যাপক উপস্থিতি পুলিশের চেয়েও শক্তিধর প্রমাণিত হচ্ছে। সুতরাং ‘রাজা রাজ্য রাজধানী’তে গণমাধ্যম তথা সংবাদপত্রের প্রতি নজর, নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মমতা প্রকট হয়ে উঠছে। গণমাধ্যমের বিকাশ ও বিস্তৃতির সাথে সাথে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন পরস্পর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়ত সংবাদ অনুকূলে অথবা প্রতিকূলে প্রবাহিত হচ্ছে। ক্রমেই এগুলো হয়ে উঠছে রাজনীতির হাতিয়ার। রাষ্ট্রক্ষমতা, দলতন্ত্র এবং বাণিজ্যতন্ত্র এর মালিকমোক্তাররূপে আবির্ভূত হচ্ছে। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বে রাজনৈতিক ‘গডফাদার’-এর মতো ‘মিডিয়া ফাদার’দের ভীতিকর উত্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের বাহন হিসেবে নিত্যনতুন গণমাধ্যমের জন্ম হচ্ছে। বাণিজ্যিক স্বার্থে এরা স্বৈরতন্ত্রের বাহন হিসেবে কাজ করছে তারা। অপর দিকে স্বাধীন গণমাধ্যম সংবাদপত্র, চ্যানেল এবং স্বাধীনব্যক্তিত্ব রাজনীতিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশে এই অব্যাহতভাবে নিপীড়নের বাহন হিসেবে প্রণীত হয়েছে এই ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৭’। গণমাধ্যম অর্থাৎ অনলাইনে পরিচালিত সব প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ এবং মতামত নির্ধারণে বর্তমান আইন কার্যত খড়গ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। শাসক দল যথার্থভাবেই গণমাধ্যমের শক্তি ও তাৎপর্য অনুধাবন করছে।
আজকে গণমাধ্যম তথা সংবাদপত্রকে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের চাবিকাঠি বিবেচনা করা হয়। চলমান রাজনৈতিক যুদ্ধের ময়দানে গণমাধ্যম বা সংবাদপত্র অপ্রতিরোধ্য বলে বিবেচনা করা হয়। জার্মানির নাৎসি নেতা হিটলার সংবাদপত্রের রাজনৈতিক গুরুত্ব যথার্থভাবেই অনুধাবন করেছিলেন। তার প্রভাবশালী গ্রন্থ ‘মেইন ক্যাম্ফ’-এর প্রমাণ। মাকর্সবাদীরা স্বাধীন সংবাদপত্রকে এতটাই শত্রু জ্ঞান করেন যে, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কোনো গণমাধ্যম তথা সংবাদপত্রের অস্তিত্ব তারা স্বীকার করেন না। বাংলাদেশে বাকশালব্যবস্থার মাধ্যমে নিজস্ব স্টাইলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নাকচ করা হয়েছিল এবং শুধু চারটি সংবাদপত্র রেখে সব ধরনের মতামত প্রকাশের পথ রুদ্ধ করে দেয়া হয়। তাদের উত্তরসূরি, ক্ষমতাসীন সরকারও গণমাধ্যম তথা সংবাদপত্রকে ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরণের পথে বাধা মনে করে। পার্থক্য এই যে, বাকশাল একটি নেতিবাচক আইনি ঘোষণার মাধ্যমে বেআইনি কাজটি করেছে, আর বর্তমান সরকার ইতিবাচক আইনি ঘোষণার মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে দলন করতে চাচ্ছে।
ক্রমেই ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব করার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার কর্তৃক এ আইনটি প্রণীত হলে তা ব্যক্তিস্বাধীনতাকে আরো সঙ্কুচিত করবে। নতুন করে নাগরিক সাধারণের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হবে। স্মরণ করা যেতে পারে, বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সর্বসাধারণের রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রকারান্তরে রহিত করেছে। ব্যক্তিগোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলগুলো সভা-সমিতি করার অধিকার একরকম হারিয়ে ফেলেছে। বাকস্বাধীনতাবিরোধী কার্যব্যবস্থায় সম্পাদক, সংবাদপত্র, ইলেকট্রনিক মিডিয়া নানা অজুহাতে দমিত ও নির্যাতিত হয়েছে। অলিখিতভাবে এবং অপকৌশলে তথ্যনিয়ন্ত্রণ চলছে। ব্যক্তিস্বাধীনতাকে সঙ্কুচিত করার জন্য ইতিমধ্যে অন্তত তিনটি কালাকানুন জারি করা হয়েছে। প্রথমত, ২০০৬ সালের সম্প্রচার নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে এটাকে নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০০৬ সালের আইনে সম্প্রচার নীতিমালা দ্বারা অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনযোগ্য ছিলেন। ২০১১ সালের সংশোধনী মোতাবেক এটি জামিনের অযোগ্য। এরকম অনেক উদাহরণ রয়েছে যেখানে একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কটূক্তির জন্য চাকরিচ্যুত ও দণ্ডিত হয়েছেন। এমন দণ্ডের ভয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ কৌশলে দেশ ছাড়ছেন এবং যারা বিদেশে আছেন তারা আর ফিরতে পারছেন না। দ্বিতীয় কালাকানুনটি হচ্ছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন। সন্ত্রাস দমনের জন্য আইনটির প্রয়োজন ছিল বলা হলেও আইনটি এখন যত্রতত্র বিরোধী দলকে দমনের জন্য ব্যবহার হচ্ছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে, বিপদ দেখলেই ‘জঙ্গি’ আবিষ্কার করা হচ্ছে। নিরীহ সাধারণ মানুষ বিশেষত ধর্মীয় লেবাসধারীরা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন। তৃতীয় হাতিয়ার হচ্ছে, আদালত অবমাননা আইন। এখন আদালত অবমাননার অভিযোগ একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং সিভিল সোসাইটির ওপর অভিযোগ ক্রমেই দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এতদিন ধরে বিজ্ঞানের কল্যাণে অনলাইন প্রকাশনা ও মতামত জ্ঞাপন আইনের বাইরে উন্মুক্ত ছিল। প্রস্তাবিত নীতিমালা কার্যকর করা হলে তা ব্যক্তি স্বাধীনতার অবশেষটুকুও বিনষ্ট করবে।
অথচ বাংলদেশের সংবিধান প্রণেতারা ব্যক্তিস্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। সে হিসাবে যথেষ্ট রক্ষাকবচও সংযোজিত হয়েছে। সংবিধানের তৃতীয় ভাগে সবিস্তারে নাগরিক অধিকারের রক্ষাকবচ বর্ণনা করা হয়েছে। সবারই জানা কথা ‘গরু খাতায় আছে, গোয়ালে নেই’। সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার, যারা এই সংবিধানের প্রণেতা, তারাই এই সংবিধানের ব্যক্তিস্বাধীনতার বিধানকে বাতিল করেছেন। ১৯৭৪ সালের স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টের মাধ্যমে তারা বিনাবিচারে আটক রাখার বিধান প্রবর্তন করেছিলেন। সব নির্বাচনে সব দল এই কালো আইন বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিলেও আইনটি বাতিল হয়নি। বরং ব্যক্তিস্বাধীনতা হরনের হাতিয়ার হিসেবে, অন্য কথায় বিরোধীপক্ষের ব্যক্তিদের দমনের জন্য আইনটি ব্যবহৃত হয়েছে। আর ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে সাংবিধানিক ক্যুর মাধ্যমে ব্যক্তিস্বাধীনতা সার্বিকভাবে হরণকারী একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থার কথা সবারই জানা। এটি একটি কাকতালীয় ব্যাপার যে, সেসব ব্যক্তি বা দলগোষ্ঠী এখন বাংলাদেশের ক্ষমতায়। উপরোক্ত বিশ্লেষণে দেখা গেল, তারা একের পর এক কালাকানুন জারি করে ব্যক্তিস্বাধীনতাকে শূন্যে পরিণত করছেন। বাকশালের চেয়েও খারাপ সময় আমরা অতিক্রম করছি। শেখ মুজিব কর্তৃত্ববাদী হলেও নিপীড়নকারী ছিলেন না। বাকশাল কায়েম হয়েছিল আইনের মাধ্যমে। মানুষ জানত, অন্য যেকোনো দল করা বেআইনি। সুতরাং তারা দল গঠন বা অংশগ্রহণে প্রয়াসী হয়নি। এখন দল আছে, রেজিস্ট্রেশন আছে। নির্বাচনতো দূরের কথা, মানববন্ধনও করা যায় না। নীরবে নিভৃতে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনটি সাধিত হয়েছে, তা হলো সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে কিছু সংযোজনী। সংবিধানের ৭(ক) এবং ৭(খ) এর ধারা উপধারাগুলো সংবিধানের মৌলিক চেতনাবিরোধী বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত প্রকাশ করেছেন। এসব ধারা নাগরিকসাধারণের ব্যক্তিস্বাধীনতাকে একরকম বৃত্তাবদ্ধ করে দিয়েছে। তদুপরি, উল্লেখিত আইনগুলো ব্যক্তিস্বাধীনতাকে আরো সীমিত করেছে। এখন যদি ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৭-এর মাধ্যমে অনলাইনে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকেও নিয়ন্ত্রণ ও দলন করা হয়, তা ব্যক্তি স্বাধীনতার উপরে খড়গ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
যখনই কোনো আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়, তখন মহৎ শব্দাবলি উচ্চারিত হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রণীত নীতিমালা গণমাধ্যমকে সুশৃঙ্খল ও সুচারুভাবে পরিচালনায় সহায়ক হবে। এ নীতিমালার আওতায় প্রচলিতও অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে অনুমোদন নিতে হবে না সত্য, তবে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সরকারকে অবহিত রাখতে হবে। প্রস্তাবিত কমিশনের সাথে আলাপ-আলোচনা করে অনলাইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া সম্পর্কিত আইন প্রণীত হবে। কমিশনকে গণমাধ্যমের রেজিস্ট্রেশন দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হবে। তারা এতদসংক্রান্ত নির্দেশনা প্রণয়ন করবে। সরকারের তরফ থেকে আরো জানানো হয় যে, প্রস্তাবিত কমিশন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারবে, প্রয়োজনে তদন্ত পরিচালনা করবে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করবে সরকারের কাছে। এর আগে প্রণীত ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৪’ বিরোধী কোনো কিছু প্রকাশ করলে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারবে। সরকারি ভাষ্যে আরো বলা হয়Ñ প্রস্তাবিত কমিশন, দেশের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, শান্তি, জনশৃঙ্খলা এবং দেশের ঐক্যবিরোধী কোনো কিছু প্রকাশ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে। এতে আরো বলা হয়Ñ গণমাধ্যম অশ্লীল, মিথ্যা ও বানোয়াট কিছু প্রকাশ করতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এবং জাতীয় ইতিহাস বিকৃতির কোনো অপচেষ্টা করা হলেও কমিশন ব্যবস্থা নেবে। ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৭’-এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শেষে মন্তব্য করা যায়, এর আগে প্রচলিত আইনগুলোর মতোই এটিও মূলত নাগরিক স্বাধীনতা শূন্য করার জন্য একটি নেতিবাচক উদ্যোগ। বিজ্ঞব্যক্তিরা বলেন, অসংখ্য আইনের অবস্থান মূলত আইনকে অকার্যকর করে তোলে। সরকার গত আট বছরে অসংখ্য আইন প্রণয়ন করেছে, কিন্তু এর যথার্থ প্রয়োগ ঘটেনি। তার মানে, আইন ‘বজ্র আঁটুনি, ফসকা গেরো’তে পরিণত হয়েছে। নাগরিক সাধারণের স্বাধীনতা ক্রমেই সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একে অপরের পরিপূরক। মূলত এই দেশে, এই সময়ে গণমাধ্যম তথা অনলাইন সংবাদপত্র গণতান্ত্রিক সমাজের শেষ আলোটুকু জ্বালিয়ে রেখেছে। অতীতে বুদ্ধিজীবীরা সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রের চতুর্থ অঙ্গ বলে গুরুত্ব দিয়েছেন। আজ তথ্যপ্রযুক্তির এই জগতে এর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে প্রণীত নীতিমালার মতো নেতিবাচক কার্যক্রম পরিহার করা হবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পূর্ণমাত্রায় প্রতিষ্ঠিত হবে- সচেতন নাগরিকদের এটাই প্রত্যাশা।
লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫