ঢাকা, বুধবার,২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কর্পোরেট দিগন্ত

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের চার বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ জুলাই ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

নি¤œমধ্যম আয়ের দেশ বাংলাদেশ। এ দেশে এয়ারলাইন্স ব্যবসার সফলতা পেয়েছে, এমন উদাহরণ বিরল। বছরের পর বছর ধরে সরকার পরিচালিত বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নানা ভর্তুকির পরও যেখানে লাভের হিসাব খুঁজে পায় না, সেখানে ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বেসরকারি এই উড়োজাহাজ সংস্থাটি সম্প্রতি সাফল্যের সাথে অতিক্রম করেছে তৃতীয় বছর। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা একের পর এক নজির স্থাপন করেছে, ছুঁয়েছে মাইলফলক। চতুর্থ বছরে সেই ধারা অব্যাহত রেখে যাত্রীসেবা আরো সুন্দর করতে অঙ্গীকারবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক এভিয়েশন ব্যবসায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রা শুরু করে ঠিক তিন বছর আগে। ৭৬ আসনবিশিষ্ট দু’টি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্র্যাফট দিয়ে ঢাকা-যশোর ফাইট পরিচালনার মাধ্যমে শুরু হয় যাত্রা। প্রথম থেকেই নিজস্ব ক্যাটারিং, নিজস্ব টেইলারিংসহ ইনহাউজ ট্রেনিং সুবিধা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইনফাইট সার্ভিস যাত্রীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। প্রথম বছরই বাংলাদেশের অভ্যন্তরের সব সচল বিমানবন্দরে ফাইট পরিচালনা করে দেশের জনগণকে স্বল্পতম সময়ে আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা সুদৃঢ় করেছে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, বরিশাল ও রাজশাহী রুটে প্রতিদিন ফাইট পরিচালনা করছে। যাত্রা শুরুর দুই বছরের মধ্যে ১৫ মে ২০১৬ ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফাইট পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যাত্রা শুরু করে। এখন কাঠমান্ডু ছাড়াও ঢাকা থেকে কলকাতা, মাসকাট, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক রুটে নিয়মিত ফাইট পরিচালনা করে আসছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা ও মাসকাট রুটেও ফাইট পরিচালনা করছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে দোহা রুটে ফাইট পরিচালনা শুরু করার কথা। শিগগিরই আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম, দুবাই, হংকং, গুয়াংজুহ, দিল্লি, চেন্নাই ও পারো রুটে ফাইট পরিচালনা করতে প্রক্রিয়া চালাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ইউএস-বাংলার বহরে মোট ছয়টি এয়ারক্র্যাফট রয়েছে। যার মধ্যে ১৬৪ আসনের তিনটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং ৭৬ আসনের তিনটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্র্যাফট। রয়েছে নিজস্ব ইনফাইট ম্যাগাজিন ‘ব্লু স্কাই’। সপ্তাহে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ৩০০টির বেশি ফাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

 প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত তিন বছরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স প্রায় ৩০ হাজার ফাইট পরিচালনা করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। আবহাওয়াজনিত কারণ ছাড়া কোনো ধরনের ফাইট বাতিল করার নজির নেই। এখন পর্যন্ত ৯৮.৭ শতাংশ অনটাইম ফাইট পরিচালনার রেকর্ড রয়েছে ইউএস-বাংলার। অভ্যন্তরীণ রুটে মোট যাত্রীর ৫০ শতাংশের বেশি বহন করছে।

সফলতার তিনটি সিঁড়ি পেরিয়ে চতুর্থ বছরে পদার্পণ উপলে দু’টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও একটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্র্যাফট আগস্ট মাসের মধ্যে বহরে যুক্ত হতে চলেছে। নিরলস যাত্রীসেবার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ রুটে গত তিন বছর সেরা এয়ারলাইন্সের মুকুট অর্জন করেছে। দেশ-বিদেশে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন সংস্থাটির সাথে। নিয়মিত ট্যাক্স-সারচার্জ পরিশোধ করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে। আন্তর্জাতিক রুটে ফাইট পরিচালনায়ও দেশের সুনাম বাড়িয়ে চলেছে তারা। ইউএস-বাংলার টিকিট সংগ্রহের জন্য রয়েছে অনলাইন বুকিং সুবিধা। রয়েছে হোম ডেলিভারি সুবিধাও। সারা দেশে রয়েছে নিজস্ব ৩০টি সেলস অফিস। এ ছাড়া কাঠমান্ডু, কলকাতা, মাসকাট, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, দোহা, কানাডা, নিউ ইয়র্কে নিজস্ব সেলস অফিস আছে। ফ্রিকোয়েন্ট ফাইয়ারদের জন্য রয়েছে স্কাইস্টার প্যাকেজ। যার মাধ্যমে শুধু টিকিটেই সুবিধা পান না, বরং যাত্রীরা বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ সুবিধাও পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যাত্রীদের বেশ কয়েকটি স্পেশাল সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা, যা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে অ্যাভিয়েশন শিল্পে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫