ঢাকা, বুধবার,১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নারী

স্তনক্যান্সার

সচেতনতাই পারে মৃত্যুঝুঁকি কমাতে

মাকসুদা রহমান

২৩ অক্টোবর ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো সাবজেক্টে গ্র্যাজুয়েশন করেন ছন্দা (ছদ্মনাম)। সাথে সাথে মনের মতো একটা জবও পেয়ে যান। ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল চমৎকার। ভবিষ্যতের নানা স্বপ্ন। এমএস দেশে করবেন নাকি বিদেশের কোনো ভার্সিটিতে। ছন্দা প্রচণ্ড ব্যস্ত অফিস ক্যারিয়ার নিয়ে। হঠাৎই খেয়াল করেন ওর একটা টিউমার বড় হচ্ছে। ডাক্তারের কাছে গেলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার জানালেন, স্তনক্যান্সার। প্রাথমিক অবস্থায় নেই। তাই ক্যান্সার চিকিৎসার সব ক’টি ধাপই পেরোতে হবে তাকে। কেমো, সার্জারি, রেডিও থেরাপি সব। বদলে গেল ছন্দার জীবন। এই হাসপাতাল থেকে সেই হাসপাতাল, কষ্টকর ক্যান্সার চিকিৎসা। ছেদ পড়ল ছন্দার স্বাভাবিক জীবনে। কিন্তু ছন্দা যদি একটু সচেতন হতো, হয়তো এড়াতে পারত এই কষ্টকর সময়কে। আসলে স্তনক্যান্সার থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতাই একমাত্র পথ। বর্তমানে বেশির ভাগ নারীই রয়েছেন স্তনক্যান্সারের ঝুঁকিতে। তাই সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
অক্টোবর স্তÍনক্যান্সার সচেতনতার মাস। বিশ্বজুড়ে প্রতিটি দেশে এ মাসটি পালন করা হয়। আমাদের দেশেও গুরুত্বের সাথে এ মাস পালন করা হয়। মাসজুড়ে বিভিন্ন সংস্থা সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালন করে। ক্যান্সার চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক কাজ করছে এমন সংস্থাগুলো তাদের অনুষ্ঠানে গোলাপি রিবনের ছবি ব্যবহার করে। এটি স্তনক্যান্সার সচেতনতার প্রতীক।
১৯৮৫ সালে প্রথম কানাডায় স্তনক্যান্সার সচেতনতা নিয়ে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এরপর ৪০টি দেশে মাসব্যাপী এ কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে। এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলোÑ তরুণ, বৃদ্ধ, চিকিৎসক, সেবিকা, শিক্ষক, ছাত্র সব স্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি। বর্তমান বিশ্বে নারী মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে স্তনক্যান্সারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ১৮ লাখের বেশি নারী এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং প্রতি ১৩ মিনিটে একজন অর্থাৎ বছরে প্রায় ৪০ হাজার নারী মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো সমীক্ষা না থাকলেও অনুমান করা হয়, এখানে বছরে প্রায় ২২ হাজার থেকে ২৫ হাজার নারী স্তনক্যান্সারে আক্রান্ত হন। বিনা চিকিৎসা বা অপ্রতুল চিকিৎসায় এর মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার নারী মারা যান। এই পরিসংখ্যান আমাদের আতঙ্কিত করে তোলে। তবে আশার কথা হলো, প্রাথমিক স্তরে ধরা পড়লে এ ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।
এ বিষয়ে কথা হয় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডা: শাহীন আরা আনওয়ারীর সাথে। তিনি বলেন, স্তনক্যান্সার থেকে বাঁচার একমাত্র পথ সচেতনতা। সব নারীকেই এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সচেতনতার প্রথম ধাপ হলো নিজেই নিজের পরীক্ষা করা। এ পরীক্ষা করতে হবে প্রতি মাসে। আর এ পরীক্ষায় যদি কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, তবে সাথে সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। স্তনক্যান্সার যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়বে, ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি।
নিজে নিজে পরীক্ষাÑ
এটি একটি সহজ এবং খরচবিহীন পরীক্ষা। প্রত্যেক নারীকে প্রতি মাসে একবার এ পরীক্ষা করতে হবে।
কী দেখতে হবেÑ
১. স্তনের আকার বা আকৃতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না। স্তনের চামড়ার রঙের কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না। অর্থাৎ কোনোরকম অস্বাভাবিকতা আছে কি না।
২. স্তনে কোনো ল্যাম্প বা চাকা হাতে অনুভব হয় কি না।
৩. স্তনে কোনো ক্ষত আছে কি না।
৪. নিপলে কোনো ক্ষত কিংবা কোনো কিছু নিঃসরণ হচ্ছে কি না (অর্থাৎ রক্ত বা কোনো তরল পদার্থ নিঃসরণ হয় কি না।)
৫. আন্ডার আর্মে কোনো চাকা আছে কি না।
এ ধরনের যেকোনো অবস্থার সন্দেহ হলে সাথে সাথেই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে কিছু ব্যক্তিগত ঝুঁকির কথাও মনে রাখা দরকার।

ষ ক্যান্সার বা স্তনক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস।
ষ অল্প বয়সে মাসিক শুরু বা দেরিতে শেষ হওয়া।
ষ দেরিতে প্রথম সন্তান ধারণ
ষ স্থূলাঙ্গী, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের রোগী।
ডা: শাহীন আরা আরো বলেন, স্তনক্যান্সারের ক্ষেত্রে যত দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া যাবে, নিরাময়ের সম্ভাবনাও তত বাড়বে। তবে দেরি হলে চিকিৎসা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি কষ্টকর।
আমাদের দেশের নারীরা সাধারণত সহজে নিজের এ-জাতীয় অসুবিধার কথা বলতে চান না। সমাজ, লোকলজ্জা এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দেরি হয়ে যায়। এ-জাতীয় সংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাই সচেতন হতে হবে সবাইকে। কারণ একমাত্র সচেতনতাই পারে ক্যান্সারের মৃত্যুঝুঁকি কমাতে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫