ঢাকা, বুধবার,১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

উপসম্পাদকীয়

আগুন পানি চাঁদ ও উপগ্রহের উপাখ্যান

মীযানুল করীম

০৬ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ১৯:৩০


মীযানুল করীম

মীযানুল করীম

প্রিন্ট

বছরের শেষ দিন তোপখানা রোড দিয়ে অফিসে যাওয়ার পথে সচিবালয়ের একটি বিল্ডিংয়ের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বিশাল এক ব্যানার ঝুলতে দেখা গেল। বাতাসে এর বেশ কিছুটা গুটানো থাকায় যতটা দেখা সম্ভব হয়েছে, তাতে ‘তারানা হালিম’ নামটা বড় করে লেখা। বোঝা যায়, এই টিভি অভিনেত্রী ও আওয়ামী নেত্রীর নেতৃত্বে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার সাফল্যের ঘোষণা ছিল ব্যানারটিতে। এক দিন পরই তারানাকে ওই মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। সচিবালয়ে দফতরের গায়ে কোনো মন্ত্রীর প্রচারণামূলক ব্যানার ঝুলানো যেমন অস্বাভাবিক, তেমনি মন্ত্রণালয় বদলানোর পরপরই তার যে প্রতিক্রিয়া, সেটাও স্বাভাবিক মনে হয়নি। এ দিকে আলোচিত ব্যানারটি আর দেখা যায়নি। অভিনেত্রী কাম-আইনজীবী কাম-রাজনীতিক তারানা হালিম আজ থেকে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন বলে পত্রিকার খবর। 

মন্ত্রিসভায় রদবদল নতুন বা বিস্ময়কর নয়, বরং আরো অনেক আগেই তা হওয়ার কথা ছিল। এবার বছরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রণাদাতা ও দাত্রীদের মধ্যে যতটা পরিবর্তন ঘটালেন, তাকে বড় বলা যায় না। অথচ এ ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে ব্যাপকভাবে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের জোট সরকারের শেষ বছরের শুরুর দিনেই প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভায় আংশিক পরিবর্তন ঘটালেন। পর দিন চারজন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন এবং এর পরই কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে রদবদল করতে হয় যথারীতি। শপথ নিয়েছেন খুলনার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা থেকে নির্বাচিত এমপি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী থেকে। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক সম্প্রতি ইন্তেকাল করায় নারায়ণ বাবুর ‘ভাগ্য খুলে যায়’। নির্বাচনকে সামনে রেখে মন্ত্রিপরিষদে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত অন্তত একজনকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে রাখা আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিকভাবে লাভজনক মনে করা হচ্ছে।

কেউ কেউ বলছেন, মন্ত্রী মারা গেলেই একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রমোশন পেয়ে যাবেন তা নয়। যেমন, বর্তমান সরকারেরই সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী মারা গেলে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিনের দায়িত্ব বেড়ে যায়। কিছু দিন পর তিনিও পরলোকগমন করেন।
যা হোক, এবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অ্যাডভোকেট এ কে এম শাহজাহান কামাল। তিনি লক্ষ্মীপুরের এমপি এবং সেই তরুণ বয়সে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর আমলেই সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। শাহজাহান কামাল বহুল পরিচিত বামপন্থী নেতা রাশেদ খান মেননের স্থলাভিষিক্ত হলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে। শাহজাহান কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাকসুদ কামালের আপন ভাই। মাকসুদ আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের অন্যতম নেতা এবং টিভি টকশোতে তাকে প্রায়ই দেখা যায়।

আরো শপথ নিয়েছেন, দেশের আইটি জগতে সুপরিচিত, মোস্তাফা জব্বার। তিনি টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রী হয়েছেন। দায়িত্ব পেলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়াকে আওয়ামী লীগ অধিক গুরুত্ব দেয়ায় এই মন্ত্রণালয় এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর এ সংক্রান্ত উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন স্বয়ং তার একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। এতদিন এই মন্ত্রণালয় চালাচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

মোস্তাফা জব্বার প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বাংলা বিভাগে সহপাঠী ছিলেন বলে পত্রিকায় জানানো হয়েছে। স্মর্তব্য, আরেক সহপাঠী ছিলেন জব্বারের মতোই নেত্রকোনা জেলার লোক, কবি নির্মলেন্দু গুণ। মোস্তাফা জব্বার হাওড়াঞ্চল খালিয়াজুড়ির সন্তান। একসময়ে জাসদ মহলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি কম্পিউটারের একটি কি বোর্ড উদগাতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘বেসিস’-এর সভাপতি। কোনো কোনো দৈনিক পত্রিকায় কলাম লিখছিলেন বেশ কিছু দিন ধরে। মোস্তাফা জব্বার ডিজিটাল দেশ গড়ার ব্যাপারে মাঝেমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পরামর্শ দিতেন বলে জানা গেছে। তিনি মন্ত্রী হয়েই বলেছেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে দেশের সর্বত্র ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছানো হবে।’

নতুন শপথ নেয়া মন্ত্রীদের মধ্যে একমাত্র প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন কাজী কেরামত আলী এমপি। তিনি রাজবাড়ী জেলার একটি আসনে কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি শিক্ষা ও মাদরাসা বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই বিভাগে এর আগে আলাদাভাবে কোনো প্রতিমন্ত্রী ছিলেন না। সরকারের এই প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের বিষয় মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ধর্মীয় মহলে প্রশংসিত হবে বলে আশা করা হয়েছে।
নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন এবং নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে পরিচিত হলেন, কিন্তু বড় খবর হলো, বৃহস্পতিবার অফিস করেননি রদবদল হওয়া এবং নতুন মন্ত্রীদের চারজন। তাদের একজন, তারানা হালিমের অফিস কক্ষই তৈরি হয়নি। অফিসে যাননি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, তারানা হালিম ও কেরামত আলী। তারানা ফোন পর্যন্ত ধরছেন না তার ছুটি নেয়ার গুজবের মধ্যে। এমনকি, তথ্যপ্রযুক্তি থেকে তথ্য মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দেয়ায় তিনি নাখোশ, এমন খবরও দিচ্ছে গণমাধ্যম। আর কাজী কেরামত আলী ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় অফিসে যেতে পারেননি। তিনি টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতে গিয়েছিলেন।

সবার মনোযোগ আকৃষ্ট হয়েছে কমরেড মেননের প্রতি। মন্ত্রণালয় পরিবর্তনে তার প্রতিক্রিয়া ছাড়াও ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনও তাৎপর্যপূর্ণ। সবাই জানেন, চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত এই নেতা বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় তার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। মেনন তার আগের মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বিদায় নিয়েছেন এবং তার নতুন দফতর, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন, কী জন্য তিনি পরিবর্তন করেছেন। উনি হর্তাকর্তা-বিধাতা, সব কিছু নির্ধারণ করেন। আমি কুম্ভ রাশির জাতক, কাজের লোক।’ বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে যে সিস্টেম চালু আছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী যে কত বেশি ক্ষমতার অধিকারী, তা বোঝা যায় এই উক্তি থেকে।
জাতীয় পার্টির একাংশের নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সাথে মন্ত্রণালয় অদলবদল হয়েছে জাতীয় পার্টির মূলধারার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের। এত দিন আনিসুল ইসলাম ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। এই দায়িত্বভার এখন থেকে মঞ্জুর। তার পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এখন দেখবেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। গত বছর হাওড়াঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পর তিনি বলেছিলেন, ‘বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি হয়েছে; তবে বেপরোয়া দুর্নীতি হয়নি।’ এ নিয়ে তার সমালোচনা কম হয়নি। আনিস তার মন্ত্রিত্ব বদলের ব্যাপারে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা আগেও পালন করেছি, আগামী দিনেও করব।’

রাশেদ খান মেনন বিমান পরিবহন থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এসেছেন। তাই হেঁয়ালি করে বললেন, ‘আকাশ থেকে মাটিতে নামলাম।’ এটাকে নিজের জন্য ‘সুসংবাদ’ হিসেবে দাবি করলেও অনেকের দৃষ্টিতে এটা এক ধরনের ‘অবনমন’। ঝানু পলিটিশিয়ানের মতো পরিস্থিতি সামাল দিতে মেনন নিজেকে আশ্বস্ত করেছেন এ ভাষায়, ‘সবচেয়ে কম বাজেটের একটা মন্ত্রণালয়ে ছিলাম। এখন যাচ্ছি অনেক বড় বাজেটের একটা মন্ত্রণালয়ে।’ তার মতো বামপন্থীর ‘উপরি পাওনা’ হিসেবে একটি বিষয় তুলে ধরে বললেন, ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ করার বহু সুযোগ আছে।’

বিমান পরিবহনের বিদায়ী ও নবাগত মন্ত্রীদ্বয়ের অভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রসঙ্গে জানা গেল, নতুন মন্ত্রী শাহজাহান কামাল এবং পুরনো মন্ত্রী (বাণিজ্য) তোফায়েল আহমেদ সম্পর্কে বেয়াই। বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর সেখানে আয়োজিত প্রথম অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তিন দিন আগে (বেয়াই) তোফায়েলকে বললেনÑ ‘বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিন।’ তখন তোফায়েল বলেছেন, ‘না না না, আমি এই দায়িত্ব নেব না।’ অবশ্য নিজে ‘ডানাভাঙ্গা’ বিমানের দায়িত্ব নিজে নিতে না চাইলেও তোফায়েল বুধবার নতুন মন্ত্রীর বাসায় গিয়ে তাকে সাহস দিয়েছেন বলে শাহজাহান কামাল সভায় জানিয়ে দেন।

সদ্যনিযুক্ত মন্ত্রী শাহজাহান কামাল আগুনকে পানি বানানোর ঘোষণাও দিলেন। তিনি এ অনুষ্ঠানে বলেন, বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়াকে অনেকে বলেছেন, “আগুনে নিক্ষেপ করা। না, এটা আগুন নয়, এটা আমার জন্য পানি। যে পানি ‘খাইয়া’ আমি জীবন বাঁচাই। আমি পারব ইন্শাআল্লাহ। আমি নিরাশাবাদী নই।” এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে আগামীতে দেখা যাবে, এই ‘পানি’ বাংলাদেশ বিমানের জীবন বাঁচাতে পারে কি না। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বিমানের বদনাম ধুয়েমুছে সুন্দর করে পরিষ্কার করে দেবো। বিমানকে লাভজনক করা কঠিন নয়। এ জন্য জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে হলেও চেষ্টা করব। এ প্রসঙ্গে লক্ষণীয় হলো, তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ‘ন’ মাসেই এই মন্ত্রণালয়কে পুরো এশিয়ার একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করব।’ এখানে নির্দিষ্ট করে সময়ের উল্লেখের কারণ হলো, বর্তমান সরকারের মেয়াদ বাকি আছে আর ৯ মাস।

সাধারণত বিদায়ী মন্ত্রী নতুন মন্ত্রীর পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠানে থাকেন না কিংবা নতুন মন্ত্রী পূর্বসূরির প্রশংসা করেন না। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটেছে এবার। সদ্যবিগত মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের প্রশংসা করে তার উত্তরসূরি হিসেবে শাহজাহান কামাল বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিচালনা করেছেন। তিনি বিদায় নিচ্ছেন, কিন্তু আমি বিদায় দিতে চাই না। মনে করি, তিনি সবসময় আমাকে সহযোগিতা করবেন।’ এখানেই শেষ নয়। মেননের ব্যক্তিগত প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে তিনি বলেন, ‘মেনন ভাই আমার ভাই; দেশপ্রেমিক প্রগতিশীল নেতা। তিনি অর্থের জন্য রাজনীতি করেননি। তিনি সম্পদের মালিক নন।’ অনেকেই এ ধরনের বক্তব্যকে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত মনে করেন। নতুন মন্ত্রীর বিমান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা পরামর্শ থাকলে সেটাই তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল।

অনুষ্ঠানটি আরো মনোযোগ কেড়েছে বিদায়ী মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের কারণে। মেনন বলেছেন নতুন মন্ত্রীকে, ‘বিমানের অনেক সঙ্কট আছে। এটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি গালি খাবেন। আমাদের যত অর্জন, বিমানেই শেষ হয়ে গেছে।’ বিমানের সিবিএর অসন্তোষ নতুন মন্ত্রীর কিছু অসুবিধা ঘটাতে পারে বলে মেনন আগেভাগে জানিয়ে দেন।

তারানা হালিম একসময় নাটকের অভিনেত্রী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। আওয়ামী মহলের, তিনি একনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক সংগঠক। তার আকস্মিক মন্ত্রণালয় বদল এবং এর যে প্রতিক্রিয়া তিনি দিলেন, তা অনেকটা নাটকীয় বৈকি! এতদিন তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল বাজেটের একটা মন্ত্রণালয়ের প্রায় সর্বেসর্বা ছিলেন। এখন অন্য মন্ত্রণালয়ে ভিন্ন দলের একজন দাপুটে মন্ত্রীর সহকারীর মতো কাজ করতে হবে।

তারানা হালিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’সহ আমার সম্পন্ন করা জিনিসগুলো প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ উদ্বোধন করলে আমার ‘লাগাই’ স্বাভাবিক। স্যাটেলাইট (উপগ্রহ) সম্পর্কে মানুষের কোনো ধারণাই ছিল না, ছিল ভ্রান্ত ধারণা। আমিই সে ধারণা সৃষ্টি করেছি এবং ভুল ধারণা দিয়েছি পাল্টে। এমন পরিস্থিতিতে আমাকে সরিয়ে দিলে মানুষ হিসেবে আমার ‘একটু লাগে’। আমি ফেরেশতা নই। এখন আমার কী কাজ হবে, জানি না।’

তারানা হালিম বর্তমান সরকারপ্রধান, তথা তার নেত্রীর প্রশংসা করতে ভোলেননি। বলেছেন, ‘তিনি যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা পালন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর মুখ উজ্জ্বল করার চেষ্টা করেছি। আমি কৃতজ্ঞ- তিনি আমাকে দু’বার এমপি বানিয়েছেন, প্রতিমন্ত্রী করেছেন।’

এবার মন্ত্রিসভার পরিবর্তনটা ছোট অথচ এ নিয়ে আলোচনাটা বড়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে এর কারণ ১. এটা ‘নির্বাচনের বছর।’ ২০১৮ সালেই সংসদে বহুলালোচিত ও বহুলপ্রত্যাশিত নির্বাচন এবং বেশ ক’টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এমনকি, ঘটনাক্রমে রাজধানীর একাংশের মেয়র নির্বাচনও হবে অচিরেই।

২. ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সরকার চালাচ্ছে পরপর দু’দফায়- গত ন’বছরে একনাগাড়ে। তারা অনেক আগেই অন্তত ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার আকাঙ্ক্ষা সুকৌশলে ব্যক্ত করেছেন। সোজা কথায়, ক্ষমতা হারানোর কথা তারা ভাবছেন না।

৩. মন্ত্রিসভায় যে আদলে, যতটুকু হোক, পরিবর্তন বা overhaul করার বিষয়টি হয়ে গিয়েছিল overdue, অর্থাৎ, অনেক আগেই তা হওয়ার কথা। অতএব, সবার নজর ও প্রতীক্ষা ছিল এ বিষয়ে। ৪. এবার প্রধানত আওয়ামী লীগের জোট শরিক দলগুলোর মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে রদবদল হয়েছে।

৫. মন্ত্রণালয় বদলে গেল যার, আওয়ামী লীগের সেই প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের প্রতিক্রিয়া এবং রদবদলসংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রীর বক্তব্য জনগণের মাঝে ‘আলোচনা’র জন্ম দিয়েছে।

পাদটীকা : কিছু দিন আগে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ও প্রভাবশালী মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসার জবাবে বলেছিলেন মন্ত্রী পরিষদে সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়ে। ‘আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখবে।’
তাই বলতে হয়, এবার একাধিক চাঁদ উঠেছে। পুরনো চাঁদগুলোর কেউ কেউ অবস্থান বদলে নিয়েছে। অচিরেই দেশের মানুষ দেখবে, এসব চাঁদ কেমন আলো ছড়ায়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫