ঢাকা, বুধবার,১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নারী

আমিও বলতে চাই শীতে অসহায় নারী ও শিশু

১৫ জানুয়ারি ২০১৮,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আমাদের গ্রামগঞ্জে অনেক শিশু আছে যারা কনকনে শীতে অনাবৃত অবস্থায় দিন কাটায়। তাদের কাছে শীত নিবারণের জন্য শীতবস্ত্র থাকে না। খড়কুটা জ্বালিয়ে শরীর উষ্ণ করে। দেশের ৮০ শতাংশ বেশি শিশু শহরের বাইরে বসবাস করে। তাদের জন্য ভালো আবাস নেই, ভালো যাতায়াত ব্যবস্থা নেই, শীতের রোগবালাইয়ের চিকিৎসা নেই, শীত নিবারণের বস্ত্রও নেই। প্রচণ্ড শীত, হিমপ্রবাহ মোকাবেলা করার জন্য ওইসব শিশুর কিছুই নেই। শহরের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুরনো বস্ত্রই শীত থেকে রক্ষার প্রধান অস্ত্র। ঢাকা শহরে রাতে ফুটপাথে দেখা যাবে অসংখ্য শিশু কনকনে শীতে ছেঁড়া কাপড় জড়িয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছে। রেললাইনের পাশে, ডোবার ওপরে ছোট্ট ডেরা, পলিথিন মোড়ানো খুপরি ঘরে শত শত মানুষ ও অসংখ্য শিশু রাতের শীত কিভাবে নিবারণ করে, তা না দেখলে বোঝা যাবে না। কনকনে শীতের সময় অবহেলিত-বঞ্চিত শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। যে শিশু গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ত, সে শিশু গরম কাপড়ের অভাবে শীতে কাঁপবে। সকাল না হতেই কুয়াশার চাদরে মোড়া কনকনে শীতে পায়ে হেঁটে কাজ করতে বের হয় দরিদ্র পরিবারের শিশুরা।
পৃথিবীর বহু দেশে শীতকে দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করে এ থেকে পরিত্রাণের চেষ্টা করে। শীত আমাদের দেশে একটি ছোট্ট পরিসর। এটা বেশি সময় স্থায়ী হয় না। শীতের সময় আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে ঠাণ্ডায় বিভিন্ন রোগ নিয়ে শিশুরা হাজির হয়। শহরে গ্রামে নিউমোনিয়া আক্রান্ত অনেক শিশুর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এ ধরনের ঠাণ্ডাজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষায় আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আবার লোক দেখানো শীতবস্ত্র বিতরণ করতে গিয়ে মানুষ মৃত্যুর কারণ যেন না হয়, সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্র-সমাজ, সমাজপতি ও বিত্তবান মানুষ শীতের কারণে সৃষ্ট সামাজিক বৈষম্যগুলো দূর করতে এগিয়ে আসবেন এটাই কাম্য।
নিপা আহমেদ
ঢাকা

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫