ঢাকা, সোমবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নারী

অদম্য মিনারার জেডিসিতে সাফল্য

রশিদ আনছারী চিলমারী

১৫ জানুয়ারি ২০১৮,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট
হাতের আঙ্গুল নেই মিনারার। তবুও দুই হাতের কব্জিতে কলম চেপে লিখে জেডিসি পাস করেছে

হাতের আঙ্গুল নেই মিনারার। তবুও দুই হাতের কব্জিতে কলম চেপে লিখে জেডিসি পাস করেছে

প্রতিবন্ধী মিনারার হাত-পা নেই, তাতে কী হয়েছে। সে এবার দুই হাতের কব্জিতে কলম চেপে লিখে জেডিসি (জুনিয়র দাখিল) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নবম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে। সরেজমিন জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার নদীবিধৌত ভাঙাগড়ার উপজেলা চিলমারী। এ উপজেলা সদর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার দূরে কাচকোল বাজারের দক্ষিণ পাশে বাঁধ রাস্তায় দুই শতক খাস জমিতে আশ্রিত রফিকুল ইসলামের বড় মেয়ে মিনারা। জন্ম থেকেই তার দুই হাত ও দুই পায়ের আঙুুল নেই। তার পরও হাতের কব্জি দুটো বাঁকা। সে নিজের হাতে কোনো কিছু খেতে পারে না। দুই হাতে জড়িয়ে ভাত খেলে ভরে না তার পেট। কারণ, দুই হাতে ভাত চেপে ধরে খেতে হয়। তাই তাকে অন্যের সাহায্য নিতে হয় খেতে-পরতে এবং তার ব্যক্তিগত কাজেও। জন্মের কিছু দিন পর মারা যান তার মা মর্জিনা বেগম। ছোট থেকেই তাকে লালনপালন করে আসছেন দাদী কমলা বেওয়া। মিনারার মায়ের মৃত্যুর পর বাবা রফিকুল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করেন মিনারার আপন খালা সর্জিনা বেগমকে। খালাই তার দি¦তীয় মা ও দাদী কমলা বেওয়া দু’জনই তাকে লালনপালন করেন। ছোটবেলায় মিনারার লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে বাড়ির পাশের কাচকোল বাজার সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন। গরিব বাবা পরিবার পরিজনের ভরণপোষণের তাদিগে মজুরি বিক্রি করতে বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকেন। বাবার সামান্য রোজগারের ওপর ভর করে খেয়ে-না-খেয়ে সাধারণ জামাকাপড় পরে পড়তে যায় স্কুলে। বই-খাতা বহন করে তার দাদী। এ ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজন মেটান তিনি। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে অদম্য প্রতিবন্ধী মিনারা। পাড়ি দিতে থাকে ক্লাসের পর ক্লাস। গত ২০১৪ সালে পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো রেজাল্ট করে সে। মিনারা ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় কাচকোল খামার সখিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৫০ পেয়েছে। মাদরাসার প্রধান মাওলানা মো: আইয়ুব আলী আকন্দ জানান, এভাবে কব্জির সাহায্যে সে সাংসারিক বিভিন্ন কাজে বাবা ও সৎমাকেও সহায়তা করে। তিনি আরো জানান, মিনারার রেজাল্ট সন্তোষজনক। যাদের হাতের আঙুুল ভালো, স্বাভাবিকভাবে লিখতে পারে, তাদের পক্ষেও এমন ফল অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তার লেখাপড়ার ব্যাপারে মাদরাসার পক্ষ থেকে আমরাও সহযোগিতা করে আসছি এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা করব ইনশা আল্লাহ। মিনারা জানায়, আমার হাত-পায়ের আঙুল নেই তাতেও দুঃখ করি না। সব সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা। দুই হাতে কলম ধরে লিখি। এতে আমার অনেক কষ্ট হয়। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। গরিব বাবার ঘরে জন্মেছি প্রতিবন্ধী হয়ে। যত কষ্টই হোক না কেন, খেয়ে-না-খেয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। তার বড় হওয়ার স্বপ্ন আছে, কিন্তু কে নেবে তার স্বপ্ন পূরণের ভার?

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫