ঢাকা, শনিবার,০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

টেনিস

এমন অবস্থার জন্য মোস্তাফিজকে প্রস্তুত করা হয়েছিল!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২৩ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ২০:০৭


প্রিন্ট
এমন অবস্থার জন্য মোস্তাফিজকে প্রস্তুত করা হয়েছিল!

এমন অবস্থার জন্য মোস্তাফিজকে প্রস্তুত করা হয়েছিল!

মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ব্যাট করতে নেমে একপর্যায়ে বেশ বিপদে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। দলীয় স্কোর ২০০ হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছিল ঘোর সন্দেহ। যে পিচে রান হতে পারে ২৮০-৩০০, সেখানে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত করে ২১৬ রান। সেটাও হতো না যদি ৯, ১০ আর ১১ নম্বরে নামা তিন ব্যাটসম্যান ৪৫ রান যোগ করতেন।

ম্যাচের পর অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা ভালো একটি তথ্য দিলেন। তিনি জানালেন, এ ব্যাটসম্যানেরা ব্যাটিং প্রাকটিস করেছিলেন। তিনি বলেন, তারা কোচদের সাথে কাজ করছেন। ফিজ (মোস্তাফিজুর রহমান) ব্যাট হাতে প্রাকটিস করেছিলেন। এতে কাজ হয়েছে। আমরা বল করার সময় ছেলেদের কাছ থেকে পেশাদারিত্ব চেয়েছিলাম, তা পেয়েছি।


জিম্বাবুয়েকে ৯১ রানে হারালো বাংলাদেশ
তামিম ইকবাল হাফ-সেঞ্চুরির সাথে সাকিব আল হাসানের ৫১ ও ৩ উইকেট শিকারের কারণে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৯১ রানের বড় ব্যবধানে হারালো টুর্নামেন্টে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করা স্বাগতিক বাংলাদেশ। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২১৬ রান করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তামিম ৭৬ ও সাকিব ৫১ রান করেন। জবাবে সাকিব ৩ ও মাশরাফি-সানজামুল-মোস্তাফিজুর ২টি করে উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে ১২৫ রানেই অলআউট করে দেন।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই আউট হন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। ৭ বলে ১ রান করে জিম্বাবুয়ের ডান-হাতি পেসার কাইল জার্ভিসের শিকার হন বিজয়।
এরপর জিম্বাবুয়ের বোলারদের বিপক্ষে সতর্কতার সাথে ব্যাট চালান আরেক ওপেনার তামিম ও সাকিব। তাই রান তোলার গতিও ছিলো মন্থর। তবে দলের স্কোর তিন অংকে পৌঁছে দিতে পেরেছেন এ জুটি।
দলকে শতকে পৌঁছাতে গিয়ে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছেন তামিম-সাকিব। তামিম ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪১তম ও সাকিব ৩৭তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান। হাফ-সেঞ্চুরির পর বেশি দূর যেতে পারেননি সাকিব। ৬টি চারে ৮০ বলে ৫১ রানে থামেন তিনি।

দলীয় ১১২ রানে সাকিবের বিদায়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের সিদ্বান্ত নেন তামিম। কিন্তু বড় জুটিতে ব্যর্থ তারা। জুটিতে ৩৫ রান আসার পর বিচ্ছিন্ন মুশফিকুর। ১টি ছক্কায় ২৫ বলে ১৮ রান করেন মুশি।

মুশফিকুরের বিদায়ের পর যাওয়া আসার মিছিল শুরু করে বাংলাদেশের পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ১৭০ই রানে অষ্টম উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। এসময় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২, সাব্বির রহমান ৬, নাসির ২, মাশরাফি শূন্য রানে সাজ ঘরে ফেরেন। এছাড়া ৭৬ রানে থামেন তামিম।
স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দ্রুত গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়ে বাংলাদেশ। তবে সেটি হতে দেননি শেষ তিন ব্যাটসম্যান সানজামুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন।

সানজামুল ১৯ রান করে ফিরলেও, মোস্তাফিজুর ১৮ ও রুবেল ৮ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার ৪টি ও জার্ভিস ৩টি উইকেট নেন।
ফাইনালের পথে এগিয়ে থাকতে হলে ২১৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট হাতে ভালো শুরুর চেষ্টা করেছিলো জিম্বাবুয়ে। কিন্তু সেটি হতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। মাশরাফি ও সাকিবের বোলিং তোপে ৩৪ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে আফ্রিকার দলটি।

ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৫ ও ক্রেইগ আরভিন ১১ রান করে মাশরাফির শিকার হন। আরেক ওপেনার সলোমন মির ৭ ও সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর শূন্য রানে শিকার হন সাকিবের।
দ্রুত ৪ উইকেট হারানোয় ব্যাকফুটে চলে যায় জিম্বাবুয়ে। এরপর শুরুর ধাক্কা সামলে উঠার চেষ্টা করেন সিকান্দার রাজা ও পিটার মুর। বাংলাদেশ বোলাদের ডেলিভারিগুলো দেখেশুনে খেলার চেষ্টা করেন রাজা ও মুর। এর মধ্যে এই জুটিতে ভাঙ্গন ধরান বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম।
৪২ বলে ১৪ রান করা মুর ও ম্যালকম ওয়ালারকে শূন্য হাতে লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলেন সানজামুল। ২৩তম ওভারে ৬ উইকেটে ৬৮ রানে পরিণত হয় জিম্বাবুয়ে। এরপর জিম্বাবুয়েকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন রাজা।

অধিনায়ক ক্রেমারকে নিয়ে রানের চাকা ঘুরিয়েছেন রাজা। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারেননি তারা। রাজা ৩৯ ও ক্রেমার ২৩ রান করে ফিরেন। তাদের বিদায়ের পর ১২৫ রানেই থেমে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। বাংলাদেশের সাকিব ৩টি, মাশরাফি-সানজামুল-মুস্তাফিজুর ২টি করে উইকেট নেন।

স্কোর কার্ড :
বাংলাদেশ ইনিংস :
তামিম ইকবাল স্টাম্পড টেইলর ব ক্রেমার ৭৬
এনামুল হক এলবিডব্লু ব জার্ভিস ১
সাকিব আল হাসান স্ট্যাম্প টেইলর ব রাজা ৫১
মুশফিকুর রহিম ক মুজারাবানি ব ক্রেমার ১৮
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এলবিডব্লু ব ক্রেমার ২
সাব্বির রহমান ক আরভিন ব জার্ভিস ৬
নাসির হোসেন ক টেইলর ব জার্ভিস ২
মাশরাফি বিন মর্তুজা ক টেইলর ব ক্রেমার ০
সানজামুল ইসলাম ক মুজারাবানি ব চাতারা ১৯
মুস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত ১৮
রুবেল হোসেন অপরাজিত ৮
অতিরিক্ত (লে বা-২, নো-১, ও-১২) ১৫
মোট (৯ উইকেট, ৫০ ওভার) ২১৬

উইকেট পতন : ১/৬ (এনামুল), ১/১১২ (সাকিব), ৩/১৪৭ (মুশফিকুর), ৪/১৫৬ (মাহমুদুল্লাহ), ৫/১৬৩ (তামিম), ৬/১৬৭ (সাব্বির), ৭/১৬৮ (নাসির), ৮/১৭০ (মাশরাফি), ৯/১৯৬ (সানজামুল)।

জিম্বাবুয়ে বোলিং :
জার্ভিস : ৯-০৪২-৩,
চাতারা : ৭-০-৩৩-১ (ও-৫, নো-১),
মুজারাবানি : ৭-০-৩৬-০ (ও-২),
রাজা : ১০-১-৩৯-১ (ও-১),
ক্রেমার : ১০-০-৩২-৪,
ওয়ালার : ৭-০-৩২-০।

জিম্বাবুয়ে ইনিংস :
হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ক সাব্বির ব মাশরাফি ৫
সলোমন মির বোল্ড ব সাকিব ৭
ক্রেইগ আরভিন ক সাব্বির ব মাশরাফি ১১
ব্রেন্ডন টেইলর এলবিডব্লু ব সাকিব ০
সিকান্দার রাজা বোল্ড মোস্তাফিজুর ৩৯
পিটার মুর এলবিডব্ল্ ব সানজামুল ১৪
ম্যালকম ওয়ালার এলবিডব্ল্ ব সানজামুল ০
গ্রায়েম ক্রেমার এলবিডব্ল্ ব রুবেল ২৩
জার্ভিস ক মাহমুদুল্লাহ ব মোস্তাফিজুর ১০
চাতারা ক সাব্বির ব সাকিব ৮
মুজারাবানি অপরাজিত ০
অতিরিক্ত (ও-৮) ৮
মোট (অলআউট, ৩৬.৩ ওভার) ১২৫

উইকেট পতন : ১/১৪ (মাসাকাদজা), ২/২০ (মির), ৩/২০ (টেইলর), ৪/৩৪ (আরভিন), ৫/৬৮ (মুর), ৬/৬৮ (ওয়ালার), ৭/৯৫ (ক্রেমার), ৮/১০৭ (রাজা), ৯/১১৮ (চাতারা), ১০/১২৫ (জার্ভিস)।

বাংলাদেশ বোলিং :
সাকিব : ৯-২-৩৪-৩ (ও-১),
মাশরাফি : ৬-০-২৯-২ (ও-২),
সানজামুল : ১০-০-২৮-২ (ও-১),
মোস্তাফিজুর : ৬.৩-৩-১৬-২,
রুবেল : ৫-১-১৮-১,
ফল : বাংলাদেশ ৯১ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫