ঢাকা, শনিবার,২৪ আগস্ট ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা প্রহসন?

মো: বজলুর রশীদ

২৮ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১৭:৪১ | আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১৮:০২


মো: বজলুর রশীদ

মো: বজলুর রশীদ

প্রিন্ট

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা সব সময়ই মিডিয়ায় আসে। এ নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে; কিন্তু কোনো শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি। সুরাহা হয়নি জেরুসালেমের স্ট্যাটাস বরং তা আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে ইয়াসির আরাফাতকে। হামাস-ফাতাহকে লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে একে অপরের বিরুদ্ধে। এতদিনেও প্রতিষ্ঠিত হয়নি ফিলিস্তিনিদের স্বশাসন। উৎসাহী পাঠকদের সুবিধার জন্য এ পর্যন্ত শান্তি আলোচনার একটি অতি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরছি। 

২২ নভেম্বর ১৯৬৭ গৃহীত নিরাপত্তা পরিষদের ২৪২ নম্বর সিদ্ধান্তে শান্তির জন্য অধিকৃত এলাকা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী আলোচনা লিখিত হয়েছিল নির্দেশিত ছিল না, তাই কার্যে পরিণত হয়নি। ১৯৭৩ সালে মিসর ও সিরিয়া ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধকে অক্টোবর যুদ্ধ বা ইয়ুম কিপপুর যুদ্ধও বলা হয়। ইসরাইলের ওপর ছবি নির্মাণ করেছে, আন্তর্জাতিক মহলে সেরা পুরস্কারও পেয়েছে। ছবির মান দেখে আপনি অবাক হবেন, কিভাবে তা পুরস্কার পেল! এরপর মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেগিন শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন মাদ্রিদে কনফারেন্সের আয়োজন করে। সেখানে ইসরাইল, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনিদের শান্তির বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। পিএলও ও ইসরাইলের মধ্যে প্রথম সরাসরি শান্তি আলোচনা হয় নরওয়েতে। যার ফলে অসলোয় এক চুক্তি হয় ১৯৯৩ সালে ওয়াশিংটনে।

এখানে উল্লেখ ছিল- ইসরাইলিরা পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবে এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পাঁচ বছরের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করবে। ১৯৯৫ সালে দ্বিতীয় অসলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিল ক্লিনটন, পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাত ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাককে শান্তির জন্য ডাকেন। এটিকে ক্যাম্প ডেভিড বৈঠক-২০০০ বলা হয়। এই বৈঠকে সীমানা নির্ধারণ, নিরাপত্তা, বসতি নির্মাণ, উদ্বাস্তু সমস্যা ও জেরুসালেম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, তবে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। এরপরই দ্বিতীয় ইন্তিফাদা দেখা দেয়। ওয়াশিংটন, মিসরের কায়রো ও তাবায় আলোচনা হয়; কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছা সম্ভব হয়নি। ২০০২ সালে আরব লিগ বৈরুতে শান্তি প্রচেষ্টা শুরু করে। এখানে আরব লিগ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। যেমন- ইসরাইল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পূর্ব সীমানায় ফিরে যাবে, যাতে গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যায়, বিনিময়ে আরব দেশগুলো ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে।

২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও জাতিসঙ্ঘ একত্রে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির রোডম্যাপ প্রস্তুত করে। মাহমুদ আব্বাস রোডম্যাপের ভাষ্যগুলোতে সম্মতি দিলেও এরিয়েল শ্যারন শব্দ চয়ন ও বাক্যবিন্যাসের পরিবর্তনের কথা বলেন। এই রোডম্যাপে ২০০৫ সালের মধ্যে দুই রাষ্ট্রের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন আবাসস্থলের উল্লেখ ছিল। দুর্ভাগ্যবশত তা কার্যকর হয়নি।

জর্জ বুশ ২০০৭ সালে আনাপোলিশ, মেরিল্যান্ডে কনফারেন্স করেন। ইসরাইলের এহুদ ওলমার্ট এবং ফিলিস্তিনের মাহমুদ আব্বাস আলাপে অংশ নেন। আলোচনায় ডজন খানেক আরব রাষ্ট্র অংশ নেয়। সিদ্ধান্ত হয়, ২০০৮-এর মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি বৈঠক ডাকা হবে। ২০১০ সালে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের দূত নেতানিয়াহুকে ১০ মাসের জন্য অধিকৃত এলাকায় সব ধরনের বসতি নির্মাণ স্থগিত রাখার জন্য রাজি করানো হয়। আব্বাস ও নেতানিয়াহু সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু করে সব বিবাদ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেয়; কিন্তু আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দেয়। শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায়। চলতি বছর ২০১৭ সালে, প্যারিসে ৭০টি দেশ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য জমায়েত হয়। ইসরাইল ঘোষণা দেয়, এটা তার দেশের বিরুদ্ধে এক ধরনের ষড়যন্ত্র। এখানে ফিলিস্তিনিদের দুই রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এই সম্মেলনে ফিলিস্তিন বা ইসরাইলের কোনো প্রতিনিধি যোগদান করেনি। সর্বশেষ ট্রাম্প জেরুসালেমকে রাজধানী ঘোষণা করে শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যস্থতাকারীর মর্যাদা হারায়। ওপরের আলোচনায় দেখা যায়, সব শান্তি আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে ওয়াশিংটন-তেলআবিব শিবিরে। আরব লিগ একবার শান্তি প্রস্তাবের খসড়া করে; কিন্তু ইসরাইলের কারণে তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। সর্বশেষে কুশনার এক শান্তি প্রস্তাব তৈরি করে সৌদি আরবের হাতে দিয়েছে। এরই আলোকে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান জেরুসালেম ছাড়া অন্য কোনো স্থান যেমন- আদদিস এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন রাজধানী করার প্রস্তাব দিয়েছেন। হারিরি পদত্যাগের পরপরই মাহমুদ আব্বাসকে রিয়াদে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এই সফরে মাহমুদ আব্বাসকে বারবার কুশনারের নতুন শান্তি পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন দিতে বলা হয়।

বলা হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শান্তি পরিকল্পনা কুশনার ড্রাফট করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ দিনের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে, ‘নতুন শান্তি আলোচনা’ ইসরাইল-ই ড্রাফট করেছে এবং এসব আলোচনা এক ধরনের ভাওতাবাজি। কেননা, ইসরাইল প্রতিদিনই ফিলিস্তিনিদের মারছে, মারছে দীর্ঘ দিন ধরে, বসতি নির্মাণ করছে আরব ভূখণ্ডে নিয়মিত, উদ্বাস্তু বানাছে ফিলিস্তিনিদের।

৪ ডিসেম্বরের ট্রাম্প ফোনে আরব নেতাদের সাথে কথা বলেছিলেন জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর বিষয়ে। তবে কোনো আরব নেতাই ট্রাম্পকে সবুজ সঙ্কেত দেয়নি। জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৪২ ও ৩৩৮ সিদ্ধান্তে ১৯৬৭ সালের পূর্ব সীমানায় ফিরে যাওয়ার উল্লেখ রয়েছে। এটাই শান্তি স্থাপনের জন্য জরুরি বিশ্ব দরবার মনে করেছে। দেখা যাচ্ছে, এসব কিছু ট্রাম্পের কাছে কোনো মূল্যবান বিষয় নয়। চরম মুসলিমবিদ্বেষ ও ইসরাইলপ্রীতিতে তিন অন্ধের মতো কাজ করেছেন। এসব ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে লাভের বিষয়ও জড়িত, যা এখনো প্রকাশ পায়নি। তিনি আরব রাষ্ট্রগুলোর (কিছু) নিরাপত্তার জন্য তাদের কাছে নগদ অর্থ চেয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় থার্ড ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র বসানো বাবদ দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বিলিয়ন ডলার চেয়েছে। সামরিক মহড়ার জন্যও নগদ অর্থ দিতে হয়েছে। সর্বশেষ সংবাদে জানা যায়, দক্ষিণ কোরিয়া আরো যৌথ সামরিক মহড়া বাতিল করেছে। জাপানকেও প্রচুর অর্থ গুনতে হয়েছে। শুধু ট্রাম্প শব্দটি পাঁচ বছর ব্যবহার করার জন্য ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আট মিলিয়ন ডলার নিয়েছেন। প্রজেক্টের নাম হলো ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড। এটি একটি হাউজিং প্রকল্প। ইসরাইল থেকে নগদ অর্থ নেবেন না এটা বিশ্বাস করা কষ্টকর। শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ইসরাইল থেকে মিলিয়ন ডলার পুরস্কার নিয়েছিলেন। ইরাক যুদ্ধে ধাপ্পাবাজি ও ইসরাইল থেকে ‘ঘুষ’ গ্রহণের কারণে তিনি ‘পলিটিক্যাল টাউট’ খেতাব পেয়েছেন। ট্রাম্পের জামাতা কুশনারও সুযোগ পেলেই আরবদের কাছে নগদ অর্থের জন্য হাত পাতেন, তা সব মহলে জানা।

আরো একটি বিষয় জেরুসালেম ঘোষণায় কাজ করেছে, তা হলো মিডিয়া। বিশ্বের তাবৎ বড় বড় মিডিয়া ও আমেরিকান মিডিয়াগুলো ট্রাম্পের বিপক্ষে। তিনি সাংবাদিকদেরও গালমন্দ করেন। বিশ্বের অনেক বড় বড় মিডিয়ার মালিকানা ও পরিচালনা ইসরাইলিদের হাতে। ইসরাইলকে বড় কিছু উপহার দেয়া গেলে ট্রাম্প রাতারাতি মিডিয়ার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবেন। এটা তার একান্ত বিশ্বাস।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, জেরুসালেমকে এককভাবে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে শান্তি প্রক্রিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ গঠনে আমেরিকার অবদান কম নয়। এখন ট্রাম্পের সাথেও প্রতারণা করলেন। ধারণা করা হয়েছিল, আমেরিকার মধ্যস্থতায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টা আলোর মুখ দেখবে। এখন দেখা গেল, সেটি একটি মোহজাল মাত্র। অথচ শান্তি শান্তি করেই ৭০ বছর কেটে গেল ফিলিস্তিনিদের। এটি শতাব্দীর বড় এক ট্র্যাজেডি। ‘নিরপেক্ষ শান্তির ঘটক’ হিসেবে যাকে মনে করা হতো, দেখা গেল সে-ই ভক্ষক। ট্রাম্প বলেছেন, ‘We will move the American embassy to the eternal capital of the Jewish people, Jerusalem,’ তিনি জেরুসালেমকে ‘শাশ্বত বা অনন্তকালের রাজধানী’ আখ্যা দিয়েছেন। এ কথাটি ইসরাইল বলতে পারে, অন্যরা বলতে পারে; কিন্তু আমেরিকা বলতে পারে না। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, আব্বাস ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ও শান্তির ভবিষ্যৎ ওয়াশিংটনের কাছে যেন বন্ধক রেখেছেন। সোজা কথায় ‘আমানত’ রেখেছিলেন, ট্রাম্প সেটি খেয়ানত করলেন। এটা ট্রাম্পের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতিতে দেউলিয়াপনার নমুনা। নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ, তিনি ট্রাম্পকে দিয়ে ‘লেজুড়বৃত্তি’ করাতে পেরেছেন। এখন ট্রাম্প বৈশ্বিক রাজনীতির অঙ্গনে নিজেকে মূল্যহীন ব্যক্তি হিসেবে জাহির করলেন।

আমরা ইতোমধ্যে আলোচনা করেছি, যুক্তরাষ্ট্র শান্তির মধ্যস্থতাকারীর মর্যাদা হারিয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য এখন রাশিয়া আসতে পারে। রাশিয়ার পুতিন অনেক আগেই ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, জেরুসালেমে কোনো চাল দিলে তা শুধু ফিলিস্তিনি-ইসরাইলের সম্পর্ক খারাপ হবে না, পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত হবে এবং তা সামাল দেয়া সম্ভব নাও হতে পারে। বাস্তবেও দেখা গেল ট্রাম্পের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ফিলিস্তিনিরা, আরববিশ্ব ও মুসলিম দেশগুলোতে উন্মাদনা বেড়ে গেছে। বসতি নির্মাণ, ফিলিস্তিনিদের অধিকার, পূর্ব জেরুসালেম নিয়ে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বহু সিদ্ধান্ত রয়েছে। ৭০ বছরের এসব আলোচনা-সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন। জোরপূর্বক পূর্ব জেরুসালেম অধিকার করাকে তিনি নির্লজ্জের মতো সমর্থন দিলেন। তিনি প্রমাণ করলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট একজন দায়িত্বজ্ঞানহীন লোক। হামাস ও ফাতাহ উভয় দল বলছে, শান্তি আলোচনার দিন শেষ। ফাতাহ বলেছে, পশ্চিম তীরে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সাথে দেখা করার কোনো কারণ নেই। ফিলিস্তিনিদের কাছে আমেরিকার শান্তির ট্যাবলেট মশকরা মাত্র। এটাও সত্য, আসল শান্তি প্রচেষ্টা হয়তো ৭০ বছর পর নতুন করে শুরু হবে। তবে এই শান্তি প্রচেষ্টায় আমেরিকা মধ্যস্থতাকারীর কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। আমেরিকার নিরপেক্ষতা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।

শুধু ফিলিস্তিনিরা নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতে আমেরিকার যুদ্ধ ও নির্বিচার বোমা বর্ষণে লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, লিবিয়া, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ইরান- এসব দেশ আমেরিকার চালবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পথের দিশা হারিয়ে ফেলার উপক্রম হয়েছে। তারপরও অনেকে আরব নেতাকে ‘দাজ্জাল’ চিহ্নিত করতে পারছে না। চলতি সপ্তাহে (ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ) পুতিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে ফোন করে জানিয়েছেন, ফিলিস্তিন-ইসরাইল শান্তি আলোচনা শুরু করা জরুরি। দুই দিকেই কিছু ছাড় দেয়া প্রয়োজন। জেরুসালেমকে ‘বিভক্ত রাজধানী’ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। যেমন পশ্চিমাংশ ইসরাইলের ও পূর্ব জেরুসালেম মুসলমানদের রাজধানী করা যেতে পারে। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র থাকবে এবং জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত থাকবে। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় বিভক্ত রাজধানী কোনো পক্ষ মানবে বলে মনে হয় না।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫