ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নারী

ব ই প রি চি তি

বইমেলায় মেহেরুন নেছা রুমার নতুন বই

কাজী সুলতানুল আরেফিন

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

‘বিয়েই হলো মেয়েদের শিক্ষা দেয়ার একমাত্র উপায়। মেয়ে দেখতে সুন্দর? তাকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দাও। সুন্দর মেয়েদের বেশি দিন ঘরে রাখতে নেই। দেখতে কালো? যত তাড়াতাড়ি পারো বিয়ে দিয়ে দাও। একটা গতি হোক। মেয়ে প্রেম করে? তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দাও। বিয়ে দিলেই মনটা এক জায়গায় স্থির হবে। মেয়ের মধ্যে প্রেমট্রেম কিছু নেই? বিয়ে দিয়ে দাও। জামাইর সাথে থাকলে প্রেম শিখে যাবে। মেয়ে ঘরের কাজ জানে না? বিয়ে দিয়ে দাও। দায়িত্ব কাঁধে পড়লে আপনা-আপনি কাজ শিখে যাবে। মেয়ে অনেক কাজ জানে? এখনই বিয়ের সময়। কাজের মাধ্যমে সবাইকে খুশি রাখবে। মেয়ে কথা কম বলে? বিয়ে দিয়ে দাও। মেয়ে বেশি কথা বলে? বিয়ে দিয়ে দাও। মেয়ের বয়স কম? বিয়ে দাও। মেয়ের বয়স বেশি? বিয়ে দিয়ে দাও... ইত্যাদি ইত্যাদি!’
উপরি উক্ত লাইনগুলো লেখিকা মেহেরুন নেছা রুমার এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত উপন্যাস নয়নসুখ থেকে নেয়া। মেয়েদের ওপর চাপিয়ে দেয়া বিয়ের ব্যাপারে লেখিকা এই উপন্যাসে তার মনোভাব প্রতিবাদী সুর ফুটিয়ে তুলেছেন। নারীদের ব্যাপারে লেখিকার লেখনী সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। লেখিকার এই উপন্যাসে গ্রামীণ জীবনের প্রাণবন্ত জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে। এই উপন্যাসের নামকরণ করা হয়েছে মানুষের এক অতি চাহিদা চোখে দেখার ভালো লাগাকে কেন্দ্র করে। মানুষ তার আন্তরিকতার চেয়েও চোখের ভালো লাগা বা ভালোবাসা বেশি কামনা করে। লেখিকার মতে, নদীর বাঁকের মতো জীবনের গল্পও বাঁক নেয় নানান দিকে। প্রান্তিক মানুষের জীবনের কিছু না জানা কথা, না বলা ভাষা ব্যক্ত করার প্রয়াস পেয়েছেন তিনি। বইটি পাওয়া যাবে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অক্ষর প্রকাশনীর স্টল নং ১৩১-১৩৪তে। লেখিকা সব সময় নারীজীবনের বিভিন্ন প্রতিকূলতা আর নারীদের জীবনের প্রতিচ্ছবি তার লেখায় ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট থাকেন।
তার উল্লেখযোগ্য বই হলো :
নারী, সম্পর্ক, ওইখানে যেওনাকো তুমি, অভিলাষী জোছনা, অপরাহ্ণ প্রেম, জীবনের গল্প এবং যে জীবন হয়নি যাপন।
বর্তমান আধুনিক এই যুগে লেখিকা মেহেরুন নেছা রুমা সাহিত্য জগতে নিজের শক্ত আসন গেড়ে নিয়ে দ্যুতি ছড়াবেন হাজার বছর ধরে এই কামনা করি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫