ঢাকা, রবিবার,১৭ নভেম্বর ২০১৯

জবস অ্যান্ড ক্যারিয়ার

নাতিপুতিদের সুবিধা বাতিল কোটা প্রথা সংস্কারের দাবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ১৯:২৩


প্রিন্ট
নাতিপুতিদের সুবিধা বাতিল কোটা প্রথা সংস্কারের দাবি

নাতিপুতিদের সুবিধা বাতিল কোটা প্রথা সংস্কারের দাবি

দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জনবল নিয়োগে কোঠার ব্যবস্থাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শনিবার সকালে দিকে রাজধানী শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র ব্যানারে তা অনুষ্ঠিত হয়। 

এসময় তারা ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের সুযোগ নাই’, ‘কোটা বৈষম্য থেকে মুক্তি চাই’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত করে তোলে শাহবাগ চত্ত্বর। মানববন্ধনে বক্তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিপুতিদের দেয়া কোটা সুবিধা বাতিলসহ সংস্কারের মাধ্যমে কোঠা পদ্ধতিকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার আহ্বান জানান। অসহনীয় মাত্রায় কোটা ব্যবসন্থার মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করনে তারা।

এদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশপাশি একই সময়ে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘কোটা সংরক্ষণের’ দাবিতে অবস্থান নেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটি। কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের জামাআত-শিবিরের নেতা ও কর্মী হিসেবে আখ্যায়িত করে তারা কোটার সর্বক্ষেত্রে সঠিক বাস্তবায়নের দাবি করেন। তাদের অভিযোগ কিছু কুচক্রী মহল দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে।

তবে, অমর একুশে গ্রন্থমেলা চলায় নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনো পক্ষকেই শাহবাগ চত্ত্বরে আন্দোলন করতে দেয়নি পুলিশ।
পরবর্তীতে কোটা সংস্কার চাওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থেকে মিছিল যোগে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের রাজু ভাস্বর্যের সামনে এসে বিক্ষোভ প্রর্দশনের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করেন। এ সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, ৫৬ শতাংশ কোটার বাহিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে ৪৪ শতাংশ। এতে আবার থাকছে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আগত মেধাবী, নারী কোটায় আগত মেধাবী, উপজাতি কোটায় আগত মেধাবী। এত কোটা দেয়া হয়েছে, যার বিপরীতে সবসময় শূন্যপদ থাকে। যেখানে কারো নিয়োগ দেয়া হয় না। তারা দাবি করেন, এটি সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাথে এক ধরনের বৈষম্য। এটা দূর করা দরকার।

এ সময় কোটা সংস্কার প্রার্থী শিক্ষার্থীরা বলেন, কোটা সংস্কার করে সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে আনতে হবে, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে খালি থাকা পদগুলোতে মেধাবীদের নিয়োগ দিতে হবে। তারা বলেন, একই ব্যক্তির কোটা সুবিধা বারবার নিয়ে চাকরি পরিবর্তন বন্ধ করতে হবে। একবার নির্দিষ্ট কোটা সুবিধায় চাকরি নিয়ে পুনরায় অন্য চাকরিতে যেতে চাইলে মেধার ভিত্তি যেতে হবে।
প্রিলিমিনারিতে অভিন্ন কার্ট মার্ক এর নিশ্চয়তা দিতে হবে। সমাজের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে কোটা ব্যাবস্থাকে সংস্কার করতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট একটি কোটায় নিয়োগ নয়, নাতিপুতি কোটাও বাতিল করতে হবে।

মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এসময় তারা সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে বেলা ১২টায় মানববন্ধনের ডাক দেন।

এদিকে, কোটার পক্ষে অবস্থান নেয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মিছিলটি পুলিশের আপত্তির মুখে শাহাবাগ থেকে প্রেস ক্লাব অভিমুখে যাত্রা করে। পরে সেখানে মানবন্ধনের মাধ্যমে তারা তাদের কর্মসূচি শেষ করেন।

চট্টগ্রামে পুলিশকে গুলির ঘটনায় ২ এসএসসি পরীক্ষার্থী গ্রেফতার
চট্টগ্রাম ব্যুরো
নগরীতে পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে আহতের ঘটনায় আরো দুই এসএসসি পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। এই নিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রথমে একজন এবং পরে দু'জনসহ মোট মোট তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গুলিবিদ্ধ পাঁচলাইশ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মালেক বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আব্দুল ওয়ারিশ খান জানিয়েছেন, রাকিব ও প্রত্যয় নামের সন্দেহভাজন দুই এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি এখনো উদ্ধার করা যায়নি। এর আগে শুক্রবার ঘটনার পর আব্দুল হাকিম (১৯) নামে এক তরুণকে আটক করে পুলিশ। আব্দুল হাকিম (১৯)-এর দেয়া তথ্য থেকে এই দু'জনকে আটক করা হয়।

পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ নয়াদিগন্তকে জানান, হামলাকারীরা পাঁচজন ছিলেন। সবার বয়স ১৮ থেকে ১৯। পলাতক আরো দু'জনকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, হামলাকারীরা উঠতি কিশোর অপরাধী। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করছি।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নগরীর দুই নম্বার গেইট এলাকায় চেকপোস্টে পুলিশ দুটি মোটর সাইকেলকে থামার সংকেত দিলে তারা গুলি করে মোটর সাইকেল ফেলেই পালিয়ে যায়। এসময় তাদের গুলিতে কর্তব্যরত পাঁচলাইশ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মালেক হাটুঁর উপরে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫