ঢাকা, সোমবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অবকাশ

সন্ধ্যায় আলো ঝলমলে ইন্ডিয়া গেট

মোস্তফা কামাল গাজী

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ইন্ডিয়া গেটে যখন পৌঁছলাম তখন শেষ বিকেল। একটু পরেই আঁধারে ডুব দেবে পুরো পৃথিবী। গেট থেকে খানিকটা দূরে ড্রাইভারবাবু নামিয়ে দিলেন। দূর থেকেই নজরে পড়ল ‘ইন্ডিয়া গেট’ নামে খ্যাত ভারতের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। সগর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। মূল সড়ক থেকে গেট পর্যন্ত সামান্য পায়ে চলা পথ। আমরা চারজন। আনন্দে আপ্লুত আমরা কদম বাড়ালাম গেটের দিকে। রাস্তার দু’পাশে সারি সারি বাগান। সবুজে ছাওয়া মাঠ, প্রান্তর। মিষ্টি সুরে পাখিদের কলতান। গল্পে গল্পে চলে এলাম গেটের কাছে। দূর থেকে ছোট মনে হলেও কাছে এলে বিশাল আকৃতি হয়ে ধরা দেয় চোখে। গেট পেছনে রেখে ফটো তুলে নিলাম কয়েকটা। বেশকিছু কবুতর উড়ছিল আশপাশে। লক্ষ করলাম, একটা কবুতর উড়তে পারছে না। এগিয়ে গেলাম, তুলে নিয়ে দেখলাম কবুতরটি অসুস্থ। নিরাপদ জায়গায় রেখে এলাম। দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক এসেছেন বেড়াতে। টিকিট কাটার কোনো ঝামেলা নেই এখানে। চারপাশে বাচ্চাদের ছুটোছুটি আর আনন্দ বারবার আমাকে নিয়ে যাচ্ছিল শৈশবের দোরগোড়ায়। ওদের এই হাসি-আনন্দে ছোটবেলার প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠছিল মনের দরজায়। গেটের আশপাশে ছোটদের জন্য বিক্রি হচ্ছে হরেকরকম খেলনার সামগ্রী। কেউ খেলনার গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছে, কেউবা মা-বাবা খেলনা কিনে না দেয়ায় জুড়ে দিচ্ছে কান্না। সুন্দর এ দৃশ্যগুলো দাঁড়িয়ে দেখলাম কতক্ষণ। এরপর ঘুরে এলাম গেটের চারপাশটা। সুন্দরের সমাহার ছড়িয়ে আছে যেনো সবখানে। লোকজন বেশি হওয়ায় গাড়িতে করে পাহারা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। পুরো গেটটি লাল ও সাদা বেলেপাথর এবং গ্রানাইট পাথরে তৈরি। প্যারিসের আর্ক দে ত্রিম্ফের আদলে ১৯৩১ সালে নির্মিত হয় এটি। এর নকশা করেন স্যার অ্যাডউইন লুটিয়েনস। আগে গেটটির নাম ছিল ‘অল ইন্ডিয়া ওয়ার মনুমেন্ট’। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও তৃতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধে নিহত ৯০ হাজার ভারতীয় সেনা জওয়ানদের স্মৃতিরক্ষার্থে এই স্মৃতিসৌধটি নির্মিত হয়। সব শহীদের নাম লিপিবদ্ধ করা আছে গেটের চূড়া পর্যন্ত। দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে এলো। আঁধার নামার সাথে সাথে অনেকগুলো রঙিন আলো জ্বলে উঠল গেটের চূড়ায়। নানা ধরনের রঙিন আলোয় অন্যরকম সাজে সজ্জিত হলো গেটটি। ঝলমলে সে রূপে হারালাম যেনো নন্দন মুগ্ধতায়। রাতের অন্ধকার যতই বাড়ছে, গেটটি ততই রঙিন আলোয় উদ্ভাসিত হচ্ছে। সে আলো দেখে দেখে অন্যরকম ভালোলাগায় কেটে গেলো রাতের একাংশ।
ইউপি, ভারত

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫