ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ নভেম্বর ২০১৯

আমার ঢাকা

ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েই চড়া রাজধানীর ফুলের বাজার

ফয়েজ হিমেল

২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

প্রিয়জনকে ফুল উপহার দিতে সবারই মন চায়। এ ছাড়া ফুলের সাজে উৎসবের আমেজে ভিন্নতা আসে। প্রতিবছরই ফেব্রুয়ারিতে ফুলের দাম তুলনামূলক বাড়ে। তবে এবার খরচ একটু বেশিই গুনতে হচ্ছে নগরবাসীকে। ফেব্রুয়ারি মাসের বিশেষ তিন দিনে ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকে। এর মধ্যে ফাগুন ও ভালোবাসা দিবস তো এখন উৎসবে পরিণত হয়েছে। আর ২১ ফেব্রুয়ারিতে ফুলের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। সব উৎসবের মওসুমেই ফুলের দাম এমনিতেই বেশি থাকে। তবে এবার ফুলের বাজার একটু বেশিই চড়া। ফুল ব্যবসায়ীরা বলছেন, অসময়ে বৃষ্টি ও ফুলে ছত্রাকের আক্রমণে বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগান কম। তাই ফুলের দাম এ সময় অন্য বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
রাজধানীর বহু এলাকায়ই কমবেশি ফুলের দোকান আছে। তবে শাহবাগ মোড়, গুলশান ১ ও ২ নম্বর, বনানী, উত্তরা ও আগারগাঁওয়ে ফুল বেশি পাওয়া যায়। গতকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি গোলাপ ২০ থেকে ৫০ টাকা, রজনীগন্ধার স্টিক ১৫ টাকা, প্রতিটি গাঁদার মালা ৩০ থেকে ৫০ টাকা, জারবেরা ফুল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, অর্কিড স্টিক ৫০ টাকা, লিলি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, গ্লাডিওলাস রঙভেদে ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফুল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বছরের এ সময় গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদার চাহিদা বেশি থেকে। গত বছর এ সময় গোলাপ মানভেদে ১০ থেকে ৩০ টাকা, রজনীগন্ধা সাত-আট টাকা ছিল। গাঁদার দাম কমবেশি এমনই ছিল। এই মাসে উৎসবের কারণে দাম বাড়তি। আর গ্লাডিওলাস ছাড়া অন্য সব ফুলের জোগান কম। দোকানদারদের কিনতে হয় বেশি দামে। ফলে ক্রেতাদের একটু বেশি খরচ গুনতেই হবে। পয়লা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবসে ফুলের দাম আরো বেশি ছিল। কাল ২১ ফেব্রুয়ারি হওয়ায় আজ ফুলের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম থাকায় দাম অনেক বেশি। ছোট বোনের জন্মদিন উপলক্ষে শাহবাগের একটি ফুলের দোকান থেকে গোলাপ, জারবেরা ফুল, রজনীগন্ধার স্টিক কিনছিলেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রবিউল। তিনি জানান, আজ ফুলের দাম অনেক বেশি। ৩০০ টাকার ফুলের দাম রেখেছে এক হাজার ৫০ টাকা। অনেক দর কষাকষির পর মাত্র ৫০ টাকা কম রেখেছেন।
বাংলাদেশ ফুল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, গত বছর উৎসবের এই মওসুমে রাজধানীর বাজারগুলোয় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ গোলাপ এসেছিল। এবার সেটা ২৫ লাখ ছাড়াবে না। রজনীগন্ধার স্টিক ছিল কমবেশি ২০ লাখ, তা এবার ১৫ লাখের নিচে। এ জন্য দাম বাড়তি।
সমিতির সহসভাপতি এ আর বাচ্চু খাঁ বলেন, বছরের শুরুতে ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। এ চাহিদাকে কেন্দ্র করে বাড়তি প্রস্তুতিও নেয়া হয়, কিন্তু অক্টোবরের বৃষ্টিতে সাভার, মানিকগঞ্জ, যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় বীজতলায় পানি জমে প্রায় ২০০ একর জমির বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ফলন পেতে দেরি হচ্ছে। পাশাপাশি সাভারে গোলাপ বাগানে পেরোনোসপোরো ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে ফুলের জোগান কমে গেছে। আর মানুষের মধ্যেও ফুল কেনার আগ্রহ বেড়েছে।
আগারগাঁওয়ে ফুল বেচাকেনার বড় আড়তে প্রায় ২০০ দোকান রয়েছে। আড়তদার মনির বলেন, এখন গোলাপ, রজনীগন্ধা ও গাঁদার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে জোগান কম থাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে। সাভার থেকে সবচেয়ে ভালো মানের গোলাপ আসে রাজধানীতে। তবে পোকার আক্রমণে অনেক গোলাপ গাছ মরে গেছে। যা-ও হয়েছে, মান তেমন ভালো না। এবারের শীতে পেরোনোসপোরো ছত্রাকের আক্রমণে অনেক গোলাপের গাছ শুকিয়ে মরে গেছে। এতে উৎপাদন অনেকটা কমে গেছে।
ছবি : লেখক

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫