ঢাকা, বুধবার,১৩ নভেম্বর ২০১৯

আমার ঢাকা

সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর ঢাকা

২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

রাজধানী ঢাকা বায়ুদূষণের জন্য এখন সারা বিশ্বে আলোচিত। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা ইপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। ইপিএ বিশ্বের ১৮০টি দেশ সামগ্রিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষায় কী ধরনের ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে একটি সূচক তৈরি করেছে। এতে বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৯তম স্থানে নেমে এসেছে। ২০০৬ সালে সর্বপ্রথম ওই সূচকটি তৈরি করা হয়েছিল, সে বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৫তম। অর্থাৎ গত এক যুগে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৫৪ ধাপ নিচে নেমেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতরের নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্প থেকে দেশের আটটি শহরের বায়ুর মান প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দুই মাস ধরে ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা শহরের বায়ুর মান মারাত্মক এবং খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর হলো রাজধানী ঢাকা। এরপর রয়েছে রাজশাহী। বরিশাল সবচেয়ে কম দূষিত শহর হলেও এর বায়ু মানমাত্রার চেয়ে খারাপ, অর্থাৎ আশঙ্কাজনক।
বায়ুর বৈশ্বিক মানদণ্ডকে অনুসরণ করে পরিবেশ অধিদফতর বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করে। বায়ুর মানমাত্রার সূচক ১০০-এর ওপরে উঠলে তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। বায়ুতে ক্ষুদ্র বস্তুকণা ও চার ধরনের গ্যাসীয় পদার্থ পরিমাপ করে এ সূচক তৈরি করা হয়। পরিবেশ আইন অনুযায়ী, বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তুকণা বা ‘পিএম ২.৫’-এর মানমাত্রা হচ্ছে প্রতি কিউবিক মিটারে ১৫ মাইক্রোগ্রাম। ‘পিএম ১০’ বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণার মানমাত্রা ৫০ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৫ সালে রাজধানীতে পিএম ২.৫-এর গড় ছিল ৮১ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৬ সালে ছিল ৭৬ মাইক্রোগ্রাম। পিএম ১০-এর গড় ২০১৫ সালে ১৪৮ মাইক্রোগ্রাম ও ২০১৬ সালে আরো বেড়ে হয়েছে ১৫৮ মাইক্রোগ্রাম।
পরিবেশ অধিদফতরের নির্মল বায়ু প্রকল্পের পরিচালক মনজুরুল হান্নান খান জানিয়েছেন, শীতের সময় সাধারণত বাতাসে দূষণের জন্য দায়ী ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোর আশপাশে গড়ে ওঠা প্রায় ছয় হাজার ইটভাটা দূষণের জন্য প্রধানত দায়ী। শীতে এগুলো চালু হয়। একই সাথে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামত বেড়ে যাওয়ায় বাতাস স্বাভাবিকভাবেই দূষিত হয়ে পড়ে।
২০১৬ সালে পরিবেশ অধিদফতরের কেইস প্রকল্পের আওতায় নরওয়ের ইনস্টিটিউট অব এয়ার রিসার্চের মাধ্যমে করা এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার চার পাশে প্রায় এক হাজার ইটভাটায় নভেম্বরে ইট তৈরি শুরু হয়। এসব ইটভাটা বায়ুদূষণের জন্য ৫৮ শতাংশ দায়ী। দেশের বেশির ভাগ ইটভাটায় দূষণ নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রযুক্তি নেই। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজের সময় তাতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের ন্যূনতম উদ্যোগ বা পানি পর্যন্ত ছিটানো হয় না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫