ঢাকা, শনিবার,২৪ আগস্ট ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

মুক্তবুদ্ধির বাগাড়ম্বর

এবনে গোলাম সামাদ

২৩ মার্চ ২০১৮,শুক্রবার, ২০:০৯ | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০১৮,রবিবার, ১৩:৩০


এবনে গোলাম সামাদ

এবনে গোলাম সামাদ

প্রিন্ট

মুক্তবুদ্ধি (Freethought) কথাটা আমাদের দেশে এসেছে বিলাত (England) থেকে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে বিলাতে একদল মানুষ মনে করতে থাকেন, মানুষের ধর্মচিন্তা বিজ্ঞানবিরোধী। বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন ধর্মচিন্তার বিলোপ সাধন। মুক্তবুদ্ধি বলতে বোঝায় ধর্মচিন্তার প্রভাবমুক্ত মনমানসিকতাকে।

ধর্ম বলতে বোঝায় এমন ভাবনা, যাতে বলা হয় পরকাল আছে। কিন্তু পরকাল সম্পর্কে মানুষের কোনো প্রত্যক্ষ ধারণা নেই। বিজ্ঞানের ভিত্তি হলো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। আমাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বলে ইহকাল আছে। এর অস্তিত্ব নিয়ে আমরা তর্ক তুলতে পারি না। কেননা, সেটাকে আমরা জ্ঞাত হতে পারি প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। মুক্তবুদ্ধিবাদীরা বলেন, ইহজাগতিক জীবনে সুখী হতে হবে। তা-ই হতে হবে জীবনের লক্ষ্য। মানুষ একা সুখী হয় না। মানুষ সামাজিক প্রাণী। সমাজের আর পাঁচজনের সাথে মিলেমিশে হতে হবে সুখী। এদের মধ্যে একদল বলল, ভালো কাজ মানে হলো অন্যের উপকার করা। ধর্মে বলা হয়, যারা ভালো কাজ করবে, মৃত্যুর পর তারা বেহেশতে যাবে। পরকাল যদি থেকেই থাকে, তবে সেখানে গিয়ে সুখী হতে হলে করতে হবে ইহকালে ভালো কাজ। তাই মানবসেবা হতে হবে ইহজগতের লক্ষ্য। সব দিক থেকেই মানুষের কর্মকাণ্ডের ভিত্তি হতে হবে ইহজগৎ।

ল্যাটিন ভাষায় Saeculum (সেকুলাম) অর্থ হলো, জগৎ। এ থেকে উদ্ভব হয়েছে Secularism (সেকুলারিজম)। বাংলায় একে আমরা বলতে পারি, জগৎবাদ অথবা পার্থিববাদ। কারণ পার্থিব জগৎই এই মতবাদীদের কাছে হলো তর্কাতীত সত্য। কারণ মানুষ এর অস্তিত্ব প্রতিনিয়ত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উপলব্ধি করতে পারে। যাচাই করে নিতে পারে এর সত্যমিথ্যাকে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে জগৎবাদীরা বিলাতে বেশ কিছুটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। কেননা, সে সময় বিলাতে ধর্মবিশ্বাস অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে উঠতে চাচ্ছিল মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী। মানুষ চাচ্ছিল ব্যক্তিস্বাধীনতার বিস্তার। চাচ্ছিল গণতন্ত্রের সম্প্রসারণ। এখন এই সম্প্রসারণ সম্পন্ন হয়েছে। তাই মুক্তবুদ্ধির আন্দোলন এখন আর আগের মতো অতটা সক্রিয় নয়।

ইংল্যান্ডে ক্যাথলিক খ্রিষ্টানরা ১৮৩০ সালের আগে পর্যন্ত পার্লামেন্টের সদস্য হতে পারতেন না; ইহুদিরা পারতেন না ১৮৫৮ সালের আগে পর্যন্ত; বিলাতে নাস্তিকেরা পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার সুযোগ পান ১৮৮৬ সাল থেকে। বিলাত অবশ্য এখনো সেকুলার রাষ্ট্র নয়। বিলাতের রাজা-রানী এখনো কোনো ক্যাথলিক খ্রিষ্টান হতে পারেন না। তবে বিলাতে ধর্মবিশ্বাস এখনো আগের মতো জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করছে না। নাস্তিকদের হতে হচ্ছে না সমাজ জীবনে হেয়।

বাংলাদেশে মুক্তবুদ্ধির আন্দোলন আসে ব্রিটিশ শাসনামলে। এই ধারণা নিয়ে মুক্তিবুদ্ধি-চক্র গড়ে তোলেন কাজী আবদুল ওদুদ। তবে পাকিস্তান হওয়ার পর মুক্তবুদ্ধি আন্দোলন হয় বিলুপ্ত। এর পুনরাবির্ভাব ঘটে বাংলাদেশ হওয়ার পর। জওয়াহের লাল নেহরু ছিলেন মুক্তবুদ্ধি আন্দোলনের পক্ষে। তার কন্যা শ্রীমতি গান্ধী সেকুলারিজমের ব্যাখ্যা দেন ধর্মনিরপেক্ষতা। তিনি বলেন, ভারত একটি ধর্মবিরোধী দেশ নয়। কিন্তু বর্তমান ভারতের লক্ষ্য হলো সব ধর্মের সমান অধিকার। রাষ্ট্রপর্যায়ে কোনো বিশেষ ধর্মের কোনো বিশেষ অধিকার না থাকা। কিন্তু তার কথা সত্য নয়। কেননা, ভারতের অধিকাংশ প্রদেশেই গরুর গোশত খাওয়া এখনো সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। গরুর গোশত খাওয়া চলে না, কারণ হিন্দু-ধর্মে তা নিষিদ্ধ। ব্রিটিশ আমলের শেষ দিকে সারা ভারতে হিন্দুরা করেছিলেন গোরক্ষা সমিতি। গরু জবাই করে খাবার জন্য আরম্ভ হয়েছিল মারাত্মক হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা, যা পরিচিতি পায় Cow-Killing Riots হিসাবে।

১৯৭১-এ ইন্দিরা গান্ধী চান যে, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের নীতিও হবে ধর্মনিরপেক্ষতা। অর্থাৎ বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রধর্ম থাকবে না। কংগ্রেসের নেতারা মনে করতেন, সাবেক পাকিস্তান হয়েছিল মুসলিম জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে। বাংলাদেশে যদি ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম না থাকে, তবে মুসলিম জাতীয়তাবাদ থাকবে না। বাংলাদেশ হয়ে উঠবে ভারতের একটা প্রদেশ। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে গৃহীত হয়েছে ইসলাম। আমাদের দেশের মুক্তবুদ্ধিবাদীরা চাচ্ছেন ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম না রাখতে। বহু দেশেরই রাষ্ট্রধর্ম আছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করেনি। দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা যায় মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রধর্ম হলো ইসলাম। যদিও এখানে তামিল বংশোদ্ভব হিন্দু জনসংখ্যা হলো প্রায় শতকরা ১০ ভাগ। আর এসব হিন্দু চাচ্ছেন না যে, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রধর্ম থাকুক ইসলাম। ইন্দোনেশিয়ার কোনো রাষ্ট্রধর্ম নেই। কিন্তু বাস্তবে ইসলাম হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রধর্ম।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মুসলমানের বাস হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশকে একত্রে করলে যত মুসলমান পাওয়া যায়, পৃথিবীর আর কোনো ভৌগোলিক অঞ্চলে তা পাওয়া যায় না। বাংলাদেশকে আসলে বিবেচনা করতে হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ হিসেবে। কেননা একসময় বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ছিল ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক যোগাযোগ। মালয়েশিয়ার ইতিহাস অনুশীলন করলে দেখা যায়, খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুমাত্রার মেনাংকাবু (Menangkabau) নামক জায়গায় একটি শক্তিশালী মুসলিম সালতানাতের উদয় হয়। এখানে ইসলাম প্রচারিত হয় প্রধানত আরব মুসলিম সওদাগরদের দ্বারা। মেনাংকাবু থেকে ইসলাম প্রচারিত হয় বর্তমান মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সর্বত্র। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ভাষা একই। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াতে আগে মানুষ ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। দলে দলে বৌদ্ধরা এই অঞ্চলে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেন। এই অঞ্চল থেকে সম্ভবত ইসলামের প্রভাব বাংলাদেশেও এসে পৌঁছায়। বাংলাদেশেও দলে দলে বৌদ্ধরা ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত হয়।
বাংলাদেশে হিন্দু ও বৌদ্ধদের মধ্যে একটা রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। বৌদ্ধরা মুসলমান হওয়ার পর সেটা রূপ নেয় হিন্দু-মুসলমান বিরোধে। এ রকমই মনে করেন এখন বেশ কিছু ঐতিহাসিক।

বাংলাদেশের মানুষ তাই চাচ্ছে পৃথক রাষ্ট্রিক অস্তিত্ব বজায় রাখতে। অন্য দিকে, ভারতে এখন ক্রমেই প্রাধান্য পাচ্ছে বিজেপির হিন্দুত্ববাদ। এই উপমহাদেশের রাজনীতি তাই রূপ নিচ্ছে নতুন করে হিন্দু-মুসলমান বৈরিতার ভিত্তিতে। আমাদের দেশের মুক্তবুদ্ধিবাদীরা যেন এটা উপলব্ধি করতে সক্ষম হচ্ছেন না।

আরাকান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে দলে দলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের। তারা এসে আশ্রয় নিচ্ছেন বাংলাদেশে। ভারতের আসামে বিজেপি সরকার চাচ্ছে প্রায় দেড় কোটি বাংলাভাষী মুসলমানকে বাংলাদেশে ঠেলে দিতে। শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধরা তামিলভাষী মুসলমানদের আক্রমণ করছে হিংসাত্মকভাবে। কিন্তু আমাদের দেশের মুক্তবুদ্ধিবাদীরা এসব ঘটনার প্রতি দৃষ্টি দিচ্ছেন না। তারা কেবলই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বাংলাদেশে মৌলবাদী ইসলামের উদ্ভবের সম্ভাবনা সম্পর্কে। এ দেশের মানুষ তাই মুক্তবুদ্ধিবাদীদের ওপর হয়ে উঠেছে ক্ষুব্ধ। মনে করা যায় যে, এরই প্রকাশ ঘটতে দেখা গেল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের ওপর হামলা হওয়ার ঘটনাতে। এর আগে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিক এ রকম ঘটনা ঘটতে দেখা যায়নি।

দেশে সমস্যার অন্ত নেই। তার মধ্যে যদি আবার ইসলাম বনাম মুক্তবুদ্ধি একটি সঙ্ঘাতের রূপ পরিগ্রহ করতে থাকে, তবে জাতির জীবনে আরেকটি বাড়তি সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারবে। অধ্যাপকের দাবি, তিনি মোটেও ইসলামবিরোধী নন। তিনি কেবল মৌলবাদী ইসলামেরই বিপক্ষে। কিন্তু তিনি মৌলবাদী বৌদ্ধ ও হিন্দুদের সম্পর্কে কিছুই বলছেন না। তার এই নীরবতা তাকে অবাঞ্ছিত করে তুলেছে এ দেশের মুসলিম জনসমষ্টির একটি বিরাট অংশের কাছে।

ড. জাফর ইকবাল কম্পিউটার সায়েন্সের লোক। কম্পিউটার সায়েন্সের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখি, বিখ্যাত ফরাসি বৈজ্ঞানিক ও গণিতজ্ঞ ব্লেইস পাসকেল (Blaise Pascal, 1623-62) তার ১৯ বছর বয়সে নির্মাণ করেন একটি যোগ করার যন্ত্র। এটাকে বলা চলে কম্পিউটারের প্রাথমিক সূচনা। পাসকেল বায়ুচাপের ওপর গবেষণা করেছেন। পাসকেল সম্ভবত গণিতের অন্যতম জনক। তিনি ছিলেন একজন নাম করা ফরাসি গদ্য লেখক। তার লেখা Lettres Provinciales ফরাসি সাহিত্যে এখনো খ্যাত হয়ে আছে। তিনি লেখেন যুক্তিবিদ্যার বই, যা এখনো বিশেষভাবে মান্য। কিন্তু আবার তিনি ছিলেন খুবই ধর্মপ্রবণ ব্যক্তি। তিনি তার মৃত্যুর আগে দিয়ে লেখেন Les pensees নামক দর্শনের বই। যাতে তিনি বলেছেন, যুক্তি এক রকম নয়। যুক্তি হলো দুই শ্রেণীর। এক শ্রেণীর যুক্তিকে বলতে হবে মগজকেন্দ্রিক। আরেক শ্রেণীকে বলতে হবে হৃদয়কেন্দ্রিক। হৃদয়কেন্দ্রিক যুক্তিকে মগজকেন্দ্রিক যুক্তি দিয়ে উপলব্ধি করা যাবে না। ধর্ম মগজকেন্দ্রিক যুক্তির এলাকায় পড়ে না; পড়ে হৃদয়কেন্দ্রিক যুক্তির এলাকায়।

আমার ব্যক্তিগত জীবনের একটি ছোট ঘটনা দিয়ে পাসকেলের হৃদয়কেন্দ্রিক যুক্তি ব্যাপারটা বোঝানোর চেষ্টা করি। আমি একসময় যে বাড়িতে থাকতাম, সে বাড়ির চালে একটা দোয়েল পাখি বাসা বেঁধেছিল। ডিম পেড়ে তুলেছিল বাচ্চা। সে বাচ্চাদের জন্য রোজ ফড়িং ধরে এনে খাওয়াত। আমার কাছে মনে হয়েছিল, এই যে বিহঙ্গ-মাতা তার শাবকদের নিজে আহার না করে পতঙ্গ ধরে এনে খাওয়াচ্ছে, এতে তার কী লাভ? মনুষ্য শাবক তারা মাতা-পিতাকে বৃদ্ধ বয়সে দেখাশোনা করে কিন্তু বিহঙ্গ-শাবক তা করবে না। এতে বিহঙ্গ-মাতা কিভাবে লাভবান হতে পারছে। সম্ভবত এটাকে বলা যেতে পারে হৃদয়ের যুক্তির ব্যাপার। মস্তিষ্কের যুক্তি দিয়ে এর ব্যাখ্যা করা যাবে না। এ ঘটনা পড়বে না মুক্তবুদ্ধির ছকে। পাসকেল বিরাট বৈজ্ঞানিক ছিলেন। আবার তার মনে একই সাথে কাজ করে চলেছিল রহস্যবাদী চিন্তাচেতনা। সম্ভবত এসব কথা ড. জাফর ইকবালের কাছে অজানা নয়। কিন্তু তবু তিনি মনে করেন, সমস্ত মানব সমাজটাকে চলতে হবে মস্তিষ্কের যুক্তিনির্ভর হয়ে। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। মানুষের মায়েরা যদি না চান, তার সন্তানকে বিনামূল্যে দুগ্ধ প্রদান করতে, তবে মাববজাতির বিলুপ্তি ঘটা সম্ভব। মানব-মাতা তার সন্তানকে জন্মের পর দুদ্ধ প্রদান করেন হৃদয়ের যুক্তির টানে; অর্থনীতির অংকের টানে নয়। পাসকেলের চিন্তার সূত্র ধরে পরবর্তীকালে শুরু হতে পেরেছিল, যাকে বলে সাহিত্যের রোমান্টিক আন্দোলন। আমরা মানববুদ্ধির জয়গান করি। কিন্তু মানুষের জীবনে কেবল যান্ত্রিক যুক্তি যে পরিচালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে, তা নয়।

আমি ধর্মতাত্ত্বিক নই। তবে ব্যক্তিগত কৌতূহলের কারণে একসময় ধর্মতত্ত্বের কিছু বই পড়েছিলাম। পড়া শুরু করেছিলাম ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধে। মুসলিম চিন্তায় বৈচিত্র্য আছে। তাই মুসলমান জনসমষ্টির মধ্যে আছে নানা মাজহাব। আল কুরআনে বলা হয়েছে (সূরা ৩৮:৭২), আল্লাহ মানুষকে কাদামাটি দিয়ে সৃষ্টি করে তার মধ্যে প্রবিষ্ট করে দিয়েছিলেন তার আপন নিঃশ্বাস। মানুষ জড়বস্তু দিয়ে সৃষ্টি হলেও তার মধ্যে আছে স্রষ্টার সৃষ্টিশক্তির অংশ। এই সৃষ্টিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বেঁচে থাকতে হবে তার নিজের মতো করে। এখানেই অন্য প্রাণীদের থেকে মানুষের বিশেষ পার্থক্য। ইসলামে মানুষের ইচ্ছা স্বাতন্ত্র্যকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। মুসলমানদের তাই কেবল ভাগ্যবাদী হলে চলবে না; হতে হবে সক্রিয়। অর্থাৎ ইসলামের একটা উদার ব্যাখ্যা দেয়াও সম্ভব। কিন্তু আমাদের একদল বুদ্ধিজীবী সেটা না করে কেবলই যেন করতে চাচ্ছেন ইসলামের সমালোচনা। যেটা যুক্তিযুক্ত নয়। আজ বিশেষভাবে প্রয়োজন সৃজনশীল ইসলামের। ইতিহাসে দেখা যায়, ইসলামি সভ্যতা একসময় বিরাট প্রকর্ষ লাভ করেছিল। এ সময় কার্যকর ছিল উদার ইসলাম। উদার ইসলামের ইতিহাস খুবই শিক্ষাপ্রদ। কিন্তু সে বিষয়ে বাংলাদেশে এখন আর আলোচনা হতে পারছে না। এটা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বিশেষ দুর্বলতা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমার বিশেষ কোনো ধারণাই নেই। জানি না সেখানে উদার ইসলাম সম্পর্কে ছাত্রদের কিছু শিক্ষা দেয়া হচ্ছে কি না।

লেখক : প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫