ঢাকা, শুক্রবার,২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অপরাধ

মেয়ের সামনে মায়ের শরীর থেঁতলে দিলো বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ এপ্রিল ২০১৮,শুক্রবার, ২৩:০৩


প্রিন্ট
হাসপাতালের বিছানায় অসাড় অবস্থায় মা আয়শা আক্তার

হাসপাতালের বিছানায় অসাড় অবস্থায় মা আয়শা আক্তার

কাওরান বাজারে বেপরোয়া একটি বাস কলেজছাত্রের হাত ছিঁড়ে নেয়ার রেশ কাটতে না কাটতে এবার শিশু সন্তানের সামনে মায়ের ওপর উঠে গেল বাস। রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় দুই বাসের প্রতিযোগিতার মাঝে পড়ে এখন মৃত্যুর সাথে লড়ছেন আয়শা আক্তার (২৬) নামে ওই মা। চিকিৎসকেরা বলছেন, বাসের চাকা পিঠের ওপর দিয়ে উঠে যাওয়ায় তার ব্যাকবোন ভেঙে স্পাইনালকর্ড ছিঁড়ে গেছে। এই অবস্থায় মাত্র ২৬ বছর বয়সের ওই মা বেঁচে থাকলেও সারাটা জীবন তাকে বিছানায় পড়ে থাকতে হতে পারে। ইতোমধ্যে তার কোমর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অনুভূতিহীন হয়ে গেছে। ভাগ্যক্রমে রক্ষা পায় তার ৬ বছরের মেয়ে আহনাব ও রিকশাচালক। তবে আহত না হলেও আহনাব প্রচণ্ড ভয়ে স্তব্ধ হয়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার সকালে নিউ মার্কেট ফুটওভার ব্রিজের পাশে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে আহতের মা সাফিয়া বেগম জানান, আয়শা আক্তার (২৫) নামে ওই মা তার বড় মেয়ে ৬ বছরের আহনাব আক্তারকে নিয়ে ধানমন্ডির একটি স্কুলে যাবেন লালবাগের বিসি জাজ স্ট্রিটের বাসা থেকে বের হন। সকাল ৭টায় রিকশায় করে ধানমন্ডির দিকে যাত্রা করেন তারা। রিকশাটি নিউ মার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটওভার ব্রিজ পার হলে পেছন থেকে ধেয়ে আসে বিকাশ পরিবহনের দু’টি বাস। তারা একে অপরের আগে যাওয়ার জন্য বেপরোয়া গতিতে ধেয়ে আসে। এ সময় একটি বাস রিকশার ডান প্রান্ত দিয়ে আগে যাওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক এ সময় অপর বাসটি রিকশার বাম দিয়ে ঢুকে দিয়ে সামনে এগোতে থাকে। ওই সময় ডানের বাসটি বামপাশের বাসকে আগে যেতে দেবে না বলে বাম পাশে চাপ দেয়। একইভাবে বাস পাশের বাসটিও ডান দিকে চাপ দেয়। এতে করে আয়শা ও তার মেয়েকে বহনকারী রিকশাটি দুই বাসের মাঝে পড়ে চ্যাপটা হয়ে যায়। রিকশায় থাকা চালকসহ তিনজনই ছিটকে পড়েন। এ সময় একটি বাসের চাকা আয়শার পিঠের ওপর দিয়ে উঠে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন। আহত আয়শাকে ধানমন্ডির ল্যাবএইড হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তিনি ডা: মাসুদ আনোয়ারের অধীনে হাইকেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ল্যাবএইডের ডা: খালিদ নয়া দিগন্তকে বলেন, আয়শার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার স্পাইনালকর্ড ছিঁড়ে গেছে। ব্যাকবোন ভেঙে এমনভাবে বসে গেছে যে তাকে সারা জীবন বিছানায় শুয়ে থাকতে হতে পারে। তবে বছরের পর বছর বিছানায় শুয়ে থাকলে পিঠে ঘা হয়ে যেতে পারে। তাই কোনো ভাবে যাতে শোয়া অবস্থা থেকে একটু বসতে পারেন সেজন্য বোনের দুই পাশে দু’টি স্ক্রু লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আয়শার জ্ঞান থাকলেও কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত কোনো অনুভূতি নেই।

আয়শার মা জানান, আহনাব ও সাথে তিন বছরের সানিয়াকে নিয়ে সুখেই ছিল আয়শা। তার স্বামী তানজির আহমেদ সানী ব্যবসা করেন। মায়ের বাসার পাশেই বাসা নিয়ে থাকছিলেন আয়শা। বেপরোয়া বাসের কারণে মেয়েটার পরিবারের এখন অনিশ্চয়তার ঝড় বইতে শুরু করেছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, বেঁচে থাকলেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা একেবারেই নেই বললে চলে।

এই ঘটনায় নিউ মার্কেট থানা পুলিশ বাস দু’টি আটকে শাহ আলম নামে এক বাসচালককে আটক করেছে। তবে অপর চালক মাজহারুল পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে অভিযান শুরু করেছে।

এর আগে ৩ এপ্রিল দুপুরে বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের দরজায় দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছলে হঠাৎ পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসি বাসটির গা ঘেঁষে অতিক্রম করে। দুই বাসের প্রবল চাপে গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫