ঢাকা, বুধবার,১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

উপসম্পাদকীয়

বৈশাখ আইলোরে, চলে গেলোরে

মীযানুল করীম

২১ এপ্রিল ২০১৮,শনিবার, ১৮:১৯ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৮,শনিবার, ১৮:২৭


মীযানুল করীম

মীযানুল করীম

প্রিন্ট

এবার পয়লা বৈশাখের উৎসব-উদ্দীপনা কম ছিল না অন্যান্য বছরের চেয়ে। ব্যতিক্রম হলো, এ বছর দিনটিতে বিশেষ করে অপরাহ্ণে প্রকৃতির তাণ্ডবও কম দেখা যায়নি। ফলে অনেক স্থানে উৎসব ও আনন্দ ম্লান হয়ে গিয়েছিল। শুনেছিলাম, একবার নাকি নববর্ষের প্রত্যুষে ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ বলে সমবেত সঙ্গীতে আহ্বান জানানোর সাথে সাথে প্রকৃতি ‘সাড়া দিয়েছিল’। তবে সে দিন বৈশাখ এসেছিল তার স্বভাবগত রুদ্রমূর্তি নিয়ে। হয়তো নববর্ষের প্রথম দিবসে তার উদ্দাম উল্লাসের এটি বহিঃপ্রকাশ।

গত ১৪ এপ্রিল বৈশাখে পদার্পণের সপ্তাহ দুয়েক আগেই ঢাকার ফুটপাথে দেখি- গেঞ্জি ঝুলছে, যার গায়ে লেখা ‘বৈশাখ আইলোরে’। সত্যিই সে এসেছিল নির্ধারিত সময়ে; যথারীতি চলেও যাবে মাসটি। কিন্তু সাথে করে নিয়ে যাবে না এ জাতির দুঃখ-দুর্ভোগ ও জ্বালা-যন্ত্রণা। নিয়ে যাবে না ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয়পর্যায়ের যত উদ্বেগ ও সঙ্কট। বৈশাখের আগমন নিয়ে কত উল্লাস ও উদ্দীপনা, কতই না বাহারি স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু নববর্ষের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের অবসান ঘটার সাথে সাথে আবার ব্যক্তিগত দুঃখ-বেদনা, পারিবারিক অভাব-উৎকণ্ঠা, সামাজিক সন্ত্রাস-দুর্নীতি এবং জাতির আর্থ-রাজনৈতিক বহুবিধ সঙ্কটের ভয়াবহতা আমরা প্রতিনিয়ত উপলব্ধি করছি। বছরে একবার ‘হালখাতা’ (আসলে লালখাতা) করার পাশাপাশি অন্তত প্রতি মাসে আরেক হালখাতার হিসাব মেলাতে চেষ্টা করুন। তখন টের পাবেন, দেশটা বদলাচ্ছে; তবে জাতি সামনে না পেছনে যাচ্ছে, তার উপলব্ধি না থাকলে ফি বছর শুধু এই আহাজারিই সম্বল হবে- ‘বৈশাখ আইলোরে, চলে গেলোরে।’

আজকাল শহরে (বিশেষ করে মহানগরগুলোতে) পয়লা বৈশাখ উদযাপনের কত না তোড়জোড় আর বর্ণাঢ্য ব্যয়বহুল রাজসিক আয়োজন। কিন্তু এমন সাড়ম্বর উল্লাস অতীতে কখনো ছিল না। এমনকি এখনো বাংলাদেশের গ্রাম ও শহরে বৈশাখ উদযাপনের মাঝে মোটাদাগের প্রভেদ দেখা যায়। গ্রামপ্রধান এ দেশে গ্রামাঞ্চলে যা বৈশিষ্ট্য ও প্রচলিত, সেটাই তো এ জাতির দেশীয় ঐতিহ্য।

সেখানকার সাধারণ জনজীবনে যা প্রিয় ও পরিচিত, সেটাই আমাদের আবহমান কৃষ্টি। অপর দিকে শহুরে এলিট গোষ্ঠী তো বটেই, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিরাট অংশও কার্যত তৃণমূল জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কহীন, এক কথায় ‘শেকড়বিহীন’। এদের বৈশাখ নিয়ে দৃষ্টিকটু মাতামাতি, কখনো কৃত্রিমতা, প্রদর্শনপ্রবণতা ও অপচয়ের গণ্ডি পার হতে পারে না। তাই শহুরে কিছু আবেগসর্বস্ব ও অনুকরণপ্রিয় লোকের বাতিক ও ব্যয়বাহুল্য দিয়ে নববর্ষের প্রকৃত আবেদন ও স্বরূপ উপলব্ধি করা অসম্ভব ও অসঙ্গত।

বাংলাদেশে উন্নয়নের সরকারি ভাষ্য মতে, দেশ এখন সমৃদ্ধির খরস্রোতা নদীতে প্রগতির নৌকায় তরতরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ দেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ক্রমবর্ধমান। গ্রাম-শহরের ফারাক বাড়ছে। কিছু লোকের আয় অনেক বাড়লেও বহু লোকই আজ কর্মহীন। অবকাঠামোর উন্নতির সাথে সুশাসনের অভাবও বাংলাদেশের বাস্তবতা।

পয়লা বৈশাখ বাঙালি এবং এ দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্যবাহী সার্বজনীন উৎসব। কিন্তু এ উপলক্ষে আজকাল বিশেষত শহরকেন্দ্রিক অনেক লোকের অত্যুৎসাহজনিত ফ্যাশনপ্রবণতার বাড়াবাড়ি পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশের গণমানুষের জীবনের সাথে এদের তেমন পরিচয় না থাকলেও ‘হাজার বছরের ঐতিহ্য’ ও ‘আবহমান বাঙালি’সহ চটকদার নানা কথা তাদের মুখ থেকে বেশি শোনা যায়। বিশেষ এক দিনের লোক দেখানো বাঙালিপনা নিয়ে এসব লোকের আগ্রহের আতিশয্যের বিপরীতে বছরজুড়ে বাংলা ভাষা ও বাংলা পঞ্জিকা ব্যবহারের প্রতি অবজ্ঞা এবং বিজাতীয় অপসংস্কৃতি আর ইংরেজির মোহ দ্বারা জাতে ওঠার প্রয়াস তাদের মজ্জাগত। এসব বাঙালির সাংস্কৃতিক কাঙালিপনার নমুনা হিসেবে একটি কৌতুক উল্লেখ করা যায়। অল্পশিক্ষিত একজন মুরব্বি বললেন, পয়লা বৈশাখের গুরুত্ব নিশ্চয়ই জানো। তখন কেতাদুরস্ত ‘এক দিনের বাঙালি’ বলেন- ‘আরে আঙ্কেল, এটাও জানব না? বৈশাখের ফার্স্ট ডে মানেই ফোরটিনথ এপ্রিল। দিনটিকে সেলিব্রেট না করলে আমি কিসের বাঙালি?’ এ অবস্থায় ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী লিখেছেন, ‘খাঁটি বাংলা ভাষার যা দশা, খাঁটি বাঙালিয়ানারও একই দশা স্বাধীন বাংলাদেশে। শুধু পোশাকে বাঙালি হওয়া আমাদের কত দূর নিয়ে যাবে?’

নগরীতে নববর্ষের উচ্ছ্বাস ও উল্লাস যতই বিচিত্র ও বর্ণময় হয়ে উঠুক এবং এসব কিছু ঐতিহ্য-কৃষ্টির নামে চালানোর প্রয়াস যতই হোক, সমাজের বিভাজন ও শোষণ এবং শহরের সাথে গ্রামের পার্থক্য পয়লা বৈশাখেও প্রকট হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে ভাষাসৈনিক ও প্রবীণ লেখক ডা: আহমদ রফিক এবার পয়লা বৈশাখে কালের কণ্ঠে তার কলামে বিস্তারিত লিখেছেন, ‘নাগরিক সংস্কৃতির হাতে ছিনতাই হয়ে গেছে গ্রামীণ পহেলা বৈশাখ, তার ঐতিহ্যবাহী উৎসব অনুষ্ঠান ও বিচিত্র পণ্যঠাসা মেলা। ... আজ পহেলা বৈশাখ। ... চলছে মঙ্গল শোভাযাত্রার নিরাপত্তাবেষ্টিত এগিয়ে চলা। বাঙালিয়ানার ঐতিহ্যবাহী আবেগের উগ্রপ্রকাশ। এর সঙ্গে গ্রাম বৈশাখীর একদাচিত্রের কোনো মিল নেই। ... অত্যধিক উগ্রতা কী সংস্কৃতিতে, কী রাজনীতিতে কোথাও খুব একটা আকাক্সিক্ষত নয়। যেমন- জাতীয়তাবাদের উগ্রতা, যা ফ্যাসিবাদী নিষ্ঠুরতার জন্ম দেয়।’

আহমদ রফিক বছরের বাকি ৩৬৪ দিনেই সরকারি-বেসরকারি সব ক্ষেত্রে বাংলার বঞ্চনার জন্য দুঃখ করে বলেছেন, ‘সেখানে বাংলা মাস-তারিখের জায়গা নেই।’ এ অবস্থায় তার অভিমত, ‘রমনা প্রাঙ্গণে বা অন্যত্র এক দিন ইলিশ-পান্তা বা শুঁটকি-পান্তা খাওয়ার মানসিক বিলাসিতায় বাঙালিয়ানা বা জাতীয় চেতনার যথার্থ প্রকাশ ঘটে না।’ বাঙালি সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত স্ববিরোধ জাতীয়তাবোধের ফাঁপা, ভেজাল চরিত্র প্রকাশ করছে বলে উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘রাজধানীর বৈশাখী উৎসব শ্রেণিচরিত্র বিচারে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও বিত্তবানদের অনুষ্ঠান বৈ কিছু নয়। এ অনুষ্ঠানে কি দেখা যায় রাজধানীর বস্তিবাসী নাগরিক বা নিম্নবর্গীয় শ্রমজীবী মেহনতি মানুষদের?’

বামপন্থী হিসেবে পরিচিত এই বুদ্ধিজীবী মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘রাজধানীর বাংলা বর্ষবরণে সংশ্লিষ্ট মঙ্গল শোভাযাত্রাও প্রধানত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সাংস্কৃতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’ হয়তো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে এ শোভাযাত্রা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে বলে তার ধারণা। তিনি মনে করেন, ‘এ সবই সম্ভবত শ্রেণিবিশেষের সাংস্কৃতিক নান্দনিক স্বার্থের টানে। ... জমকালো ও রূপময় বৈশাখী নববর্ষের আবেগময় উদযাপনে বহিরঙ্গের আনুষ্ঠানিকতাই প্রধান; শ্রেণিবিশেষের নান্দনিক আভিজাত্যের প্রকাশই বড় হয়ে ওঠে। এর মধ্যে সীমাবদ্ধতা ও স্ববিরোধিতা বিস্তর। এতে কেউ যদি সাম্রাজ্যবাদী সংস্কৃতির ভোগবাদী চরিত্রের উগ্র আধুনিকতার প্রতিফলন দেখতে চান, তা কি শতভাগ ভুল প্রমাণ করা যাবে?’ পান্তা ফ্যাশনের সমালোচনা করে আহমদ রফিক লিখেছেন, ‘সবচেয়ে কৃত্রিম ফ্যাশনতাড়িত প্রকাশ, দামি সুদৃশ্য পোশাকে সজ্জিত হয়ে এক বেলার জন্য পান্তা-ইলিশ বা পান্তা-ভর্তা খাওয়া।’ এটাকে দুস্থ শ্রেণীর সংস্কৃতির প্রতি পরিহাস মনে করা একেবারে ভুল নয় বলে তার বিশ্বাস।

ইদানীং বৈশাখী নববর্ষ পালনকে জাতীয় উৎসবের স্বীকৃতিদানের দাবি উঠছে কোনো কোনো মহল থেকে। আহমদ রফিকের বক্তব্য হলো, “এলিট শ্রেণীর এ দাবিতে আবেগ প্রচুর। এর বিপরীত যুক্তিও সমান শক্তিশালী। কারণ, ‘জাতীয়’ শব্দটি সর্বজনীন চরিত্রের, সমগ্র ভাষিক জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক-সামাজিক প্রতিফলন; তা শ্রেণিবিশেষে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামীণ বনাম রাজধানী-কেন্দ্রিক নববর্ষের চরিত্রভেদের দরুন এটাকে সর্বজনীন জাতীয় উৎসব বলা কঠিন।”

আজ পয়লা বৈশাখকে কেবল হাসি-আনন্দ আর উল্লাস-উৎসবের উপলক্ষ হিসেবে সাড়ম্বরে প্রচারণা চলছে এবং এটাকে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য বলে গৌরবান্বিত করা হচ্ছে। আসলে এটাই কি বাস্তবতা? না খণ্ডিত চিত্রকে ‘সামগ্রিক’ রূপে তুলে ধরা হচ্ছে?

প্রগতিশীল মহলের অন্যতম শীর্ষ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবার বাংলা নববর্ষে লিখলেন, ‘বাঙালির নববর্ষ কখনোই সব বাঙালির কাছে একভাবে আসেনি। কারো কাছে এসেছে খরা হয়ে, খাজনা দেয়ার সময় হিসেবে, মহাজনের সুদরূপে। কারো কাছে এসেছে উৎসব হিসেবে। কেননা ধনবৈষম্য ও শোষণ তখনো সত্য ছিল, এখনো তা সত্য। দুইবার স্বাধীন হলাম আমরা; কিন্তু মানুষে মানুষে ব্যবধানটা দূর করতে পারলাম না।’

নাট্যবক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেছেন, ‘পয়লা বৈশাখের কোটি কোটি টাকার বিপণনের মধ্যে নববর্ষের হৃদয়টাই গেছে হারিয়ে। ... বাঙালির দ্বৈতসত্তায় কোনো পরিবর্তন হয় না। সংস্কৃতিচর্চার বাকি ৩৬৪ দিন একইভাবে চলে, সেখানে বাঙালিয়ানার কোনো যোগাযোগ লক্ষ করা যায় না। ... খাদ্য, ভাষা, পোশাক-আশাক কোনো কিছুতেই আমাদের জাতির চেহারাটা আবিষ্কার করা যায় না। অথচ পয়লা বৈশাখ ও একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের ঘনঘটার অভাব নেই। বাঙালির সংস্কৃতিটা কী? পয়লা বৈশাখ কি শুধু লুঙ্গি-গামছা আর পান্তা খাওয়ার বিষয়? এই স্থূলতা খুব হাস্যকর।’

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে দেশের কোথাও কোথাও ‘চড়কপূজা’ নামে এক ধরনের বীভৎস উৎসব বা কুসংস্কার প্রচলিত আছে। তবে বৃহত্তর হিন্দুসমাজ সাধারণত এমন প্রথাকে উৎসাহ দেয় কমই। যা হোক, অতীতে পয়লা বৈশাখে নরবলির মতো ঘৃণ্য, নারকীয় ও লোমহর্ষক আচার-অনুষ্ঠানও করা হতো। এ তথ্য দিয়েছেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। তিনি জানিয়েছেন, বাংলা নববর্ষে নরবলি দেয়ার প্রথা উঠে যাওয়ার পর মহিষ ও পাঁঠা বলি দিতে দেখেছেন হিন্দু অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান অঞ্চলে। তার ভাষায়, পাঁঠা বলিদান হতো কয়েক হাজার। মহিষ বলিদান করা হতো একটা। সেই বলিদানের আগে প্রথমে নরবলি দেয়া হতো। একজন উপোস থাকত। এক ধরনের সম্প্রদায় ছিল, তারা বংশপরম্পরায় প্রাণ দিত। পরে একটা লোককে উপোস রাখার পর তার ঘাড়ের কাছে খাঁড়া ঘষে দিলে খানিকটা রক্ত বের হতো। সেই রক্তটুকু মায়ের পায়ে দেয়া হতো পুরো মানুষকে বলি দেয়ার বদলে।’

হাসান আজিজুল হকের গ্রাম এলাকায় শিবের ভক্ত হিন্দুরা ছিল। তারা নরবলির মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপনে সবিশেষ উৎসাহী। বাঙালি হিন্দুসমাজ বরাবর চৈত্রসংক্রান্তি ও নববর্ষ উদযাপনে অনেক বেশি আগ্রহী ছিল বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীর চেয়ে। কারণ হলো, অতীত থেকেই এর সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

এবার চড়কপূজার কিশোর সন্ন্যাসীর মৃত্যুর ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। ‘আবহমান বাংলার ঐতিহ্য’ বলে বীভৎস এই ‘পূজা’র কত না গুণগান করা হচ্ছে! পত্রপত্রিকায় নানা ধরনের ছবিসহ এর প্রশংসা-প্রচারণায় যারা ব্যতিব্যস্ত, তারা এর ইতিবৃত্ত যেমন জানেন না, তেমনি তাদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ওই ধর্মেরই অনুসারী নয়। অনেকে হয়তো কোনো ধর্মকর্মেই আগ্রহী হন না। তবে কিছু অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কুসংস্কার ও কুপ্রথাকে গৌরবমণ্ডিত করতে এই ‘আধুনিক’ ও ‘প্রগতিশীল’দের প্রচেষ্টার অন্ত নেই। যা হোক, নববর্ষের চড়কপূজা চলে কয়েক দিন। আসলে এটা যতটা না পূজা, তার চেয়ে অনেক বেশি হলো উৎসব; যা সার্কাসতুল্য। ঘটনা হলো, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আগের দিন যশোরের মনিরামপুরে চড়ক উৎসব হচ্ছিল। সেখানে মহাশ্মশানের পাশে খেজুরগাছে উঠছিল ১৬ বছর বয়সী এক সন্ন্যাসী। ধর্মীয় প্রথামাফিক সে আগের দিন থেকে ছিল উপবাস। এবারই প্রথম সে চড়কের সন্ন্যাসী হয়েছে। আরো কয়েকজন সন্ন্যাসীর সাথে প্রতিযোগিতা করে গাছে উঠতে গিয়ে পড়ে যায় সে। মাথা ও বুকে প্রচণ্ড আঘাত লেগে তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।

নববর্ষের প্রার্থনা
শতবর্ষ আগে রবীন্দ্রনাথ বাংলা নববর্ষে মহান স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন সবার মঙ্গল কামনা করে। এখন শহুরে হুল্লোড়ের পয়লা বৈশাখে ধর্ম বা প্রার্থনা ব্রাত্য হলেও অনেক নৃগোষ্ঠী এ দিনটিতে পরম করুণাময় ও সর্বশক্তিমানের কাছে বরাভয় কামনা করে। তেমনি এক আকুতির সাথে একাত্ম হয়ে বলা যায়, ‘তুমি নতুন বছর যোগ করেছ আমাদের জীবনে। বহু বাধাবিঘ্ন, দুঃখ-বেদনা, মৃত্যুযন্ত্রণা, অনটন, সঙ্কট থেকে তুমিই বাঁচিয়েছ। আমরা যেন কথা ও আচরণে ন্যায়ের পথে থাকি। তোমার আশীর্বাদে জীবনকে যেন উপলব্ধি করি নতুনভাবে। তোমাকে জানতে, তোমার কল্যাণচিন্তা অনুভব করতে, তোমার মহানুভবতা অনুধাবনে এবং এসব কিছু বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে আমাদের দান করো প্রেরণা। তুমিই যে সর্বজনীন অসীম স্রষ্টা, সেটা যেন প্রকাশিত হয়।’

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫