ঢাকা, বুধবার,২৩ অক্টোবর ২০১৯

নারী

বাবা আমি মরে গেলে তুমি কেঁদো না

এইচ এম হুমায়ুন কবির পটুয়াখালী

২৩ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

কিছুতেই থামছে না (heamolacria) বিরল রাগে আক্রান্ত মেধাবী শিক্ষার্থী জিনাতের রক্তক্ষরণ। বিরল এ রোগে আক্রান্ত একমাত্র মেয়েকে বাঁচাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্যের হাত বাড়িয়েও চিকিৎসার অর্থ না পেয়ে থামছে না বাবা মামুন হাচানের কান্না। ‘বাবা আমি মরে গেলে যাবো, তুমি আর কেঁদো না। বাবাকে জিনাতের শান্ত্বনা। কিন্তু সন্তানকে বাঁচাতে মামুন হাচান প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের সবার সাহায্য চান।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পাঁচজুনিয়া গ্রামের মামুন হাচানের একমাত্র মেয়ে মোসা: ফাতিমা জিনাত (মিম)। রঙিন প্রজাপতির মতো উচ্ছল প্রাণচঞ্চল মেয়েটির স্বপ্ন ছিল অনেক বড় হবার। ছোট বেলায় নানা বাড়ি থাকার সুবাদে সেখানেই পড়াশোনা শুরু এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলা গলাচিপা গার্লস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে। এরপর এ মেধাবী মেয়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে গলাচিপা হাইস্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণীতে জিপিএ ৫ এবং ২০১৬ সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে বর্তমানে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যায়নরত আছে। পড়াশোনা শেষ করে ভালো চাকরি পেয়ে ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ বাবার পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ছিল জিনাতের। এরই মাঝে ২০১৬ সালের ৪ আগস্টে মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রথম বারেরমতো হঠাৎ করে ডান চোখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একমাত্র মেয়ের বার বার রক্তক্ষরণ শেষে প্রচণ্ড বমি করার পরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া দেখে দেশের খ্যাতনামা ডাক্তারদের শরণাপন্ন হন জিনাতের বাবা। চিকিৎসা করাতে থাকেন দেশের নামীদামি হাসপাতালে। চিকিৎসায় উন্নতি না হয়ে বরং একইভাবে সাত মাস পর ডান নাক দিয়ে, এক মাসের ব্যবধানে ডান কান দিয়ে এবং মাত্র ২০ দিন পর মুখ ও গলা দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। জিনাতের চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় সর্বশেষ ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নাভী দিয়েও একইভাবে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বর্তমানে জিনাতের দুই চোখ, নাক, দুই কান এবং নাভী দিয়ে রক্তক্ষরণ অব্যাহত আছে। জিনাতের বাবা মামুন হাচান কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, জিনাত (heamolacria) নামের বিরল রোগে আক্রান্ত। মামুন হাচানের দেয়া তথ্যমতে, সাড়া বিশ্বে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মাত্র ১৩ জন। যার মধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। আর বাংলাদেশে বিরল এ রোগের একমাত্র ভিকটিম জিনাত। তিনি বলেন, আমার যতটুকু সামর্থ্য ছিল তা সব কিছু ব্যয় করে আমি ওর চিকিৎসা করিয়েছি। প্রায় সাত-আট লাখ টাকা ব্যয় করে আমি এখন আর আমার কলিজার টুকরার চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমি প্রধানমন্ত্রীর সহায়তাসহ সবার সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করছি।
হিমোল্যাক্রিয়া রোগে আক্রান্ত মেধাবী শিক্ষার্থী জিনাত বলেন, ডাক্তার বলেছেÑ যত দ্রুত সম্ভব আমাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিয়ে যেতে। কারণ, এ দেশে এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। আমি বাঁচতে চাই, বেঁচে থেকে বিসিএস ক্যাডার হতে চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করছি।
ধানখালী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো: রিয়াজ তালুকদার জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এখন যখন জেনেছি যতটুকু সম্ভব সাহায্য-সহযোগিতা করা হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: তানভীর রহমান জানান, শিক্ষার্থী জিনাতের বিষয়টি আমি জেনেছি। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫