ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ নভেম্বর ২০১৯

বিবিধ

গড়ে উঠছে দ্বীপের মতো ভাসমান ইকোপার্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ এপ্রিল ২০১৮,রবিবার, ২১:২৪ | আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০১৮,রবিবার, ২১:৪৮


প্রিন্ট
পূর্বাচলের  ১২ ও ১৭ নম্বর সেক্টরের মাঝে  গড়ে উঠছে  দ্বীপের মতো ভাসমান  ইকোপার্ক

পূর্বাচলের ১২ ও ১৭ নম্বর সেক্টরের মাঝে গড়ে উঠছে দ্বীপের মতো ভাসমান ইকোপার্ক

দ্বীপের মতো ভাসমান দৃষ্টিনন্দন ইকোপার্ক গড়ে উঠছে স্বপ্নের শহর পূর্বাচলে। প্রকল্পের ম্যাপ অনুযায়ী- এই উপশহরের ভিতর দিয়ে বয়ে যাবে ৪৩ কিলোমিটার নয়ানাভিরাম লেক। লেকের মাঝখানে ১২.৬ একর জায়গা জুড়ে থাকবে মনোমুগ্ধকর ইকোপার্ক। যার প্রশস্ত অংশ পরেছে ১২ ও ১৭ নম্বর সেক্টরের মাঝখানে।

কেবল ইকো পার্ক-লেকই নয়, চারিদিকে সবুজ বনায়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস, আন্তজার্তিক মানের স্টেডিয়াম, ভাসমান রেস্তোরাসহ আধুনিক নানা আয়োজন আর সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে নির্মিত হচ্ছে পূর্বাচল।

রাজউকের প্রকৌশলীরা বলছেন, পূর্বাচল কেবল প্রায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পরা রাজধানী ঢাকার উপর চাপই কমাবে না। আধুনিক শহরের সব কিছুই থাকছে নতুন নগরে। এখানকার দৃষ্টিনন্দন নানা সৌন্দর্য পর্যটকদেরও টেনে আনবে।

৬ হাজারেরও অধিক একর জমি নিয়ে রাজউকের নতুন এই প্রকল্পের কাজ এখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের মধ্যেই শেষ হবে পুরো কাজ। কয়েকমাসের মধ্যে পানির ব্যবস্থা করা হবে। শতভাগ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে শিগগিরই।

বালু ব্রিজের পর থেকে শীতলক্ষা নদী পর্যন্ত ৬ হাজার ২২৭.৩৬ একর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠছে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প। ৪টি থানা এলাকার মধ্যে নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে পরেছে ৪ হাজার ৫৭৭.৩৬ একর ও গাজীপুরের কালীগঞ্জের অংশে পরেছে প্রায় ১ হাজার ৫’শ একর জমি। প্রকল্পে ২৫ হাজার ১৬ টি আবাসিক প্লটের পাশাপাশি থাকছে শপিংমল, স্কুল, কলেজ, স্টেডিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল।

ম্যাপ অনুযায়ী পূর্বাচলে পূরণ হতে চলেছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের স্বপ্নও। প্রকল্পের ৫২ একর জায়গাজুড়ে হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক একাডেমিক অবকাঠামো সম্পন্ন দ্বিতীয় ক্যাম্পাস।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বাধুনিক আবাসিক সুবিধা নিয়ে এ ক্যাম্পাস পরিচালিত হবে পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টিসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম। স্থানান্তর হতে পারে ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি ও বিভাগের কার্যক্রমও। ১৯২১ সালে ৬৪০ একর জমি নিয়ে যাত্রা শুরু করে আজ মাত্র ৩০০ একর জায়গা অবশিষ্ট থাকায় ধুঁকতে থাকা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসে আশার আলো দেখছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ইতোমধ্যেই ৫২ একর জমি দেয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। রাজউকের সংশ্লিষ্ট বোর্ডের নীতিগত অনুমোদনও শেষ। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুশাসন পেলেই বরাদ্দপত্র বিশ্ববিদ্যালয়কে দেবে রাজউক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ক্যাম্পাসটি পরেছে ১২ নম্বর সেক্টরে। প্রকল্পের ১৭ নম্বর সেক্টরটি ‘ভিআইপি সেক্টর’ হিসেবে অনেকের কাছে পরিচিত। সাবেক ও বর্তমান বহু মন্ত্রী, এমপিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের আবাসিক প্লট রয়েছে এখানে। এর চারপাশে থাকবে সবুজ বনায়ন।

এই ১২ ও ১৭ নম্বর সেক্টরের মাঝে লেকের মাঝখানে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে স্থাপন করা হবে ইকোপার্ক। পার্কের সঙ্গে সংযোগ করা হবে ঝুলন্ত ব্রিজ। লেকে থাকবে ভাসমান রেস্তোরা। লেকের পানি দূষণ সম্পূর্ণনূপে রোধ করতে লেকের সঙ্গে বালু নদ ও শীতলক্ষ্যা নদীর সংযোগস্থলে স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে। পানি পরিষ্কারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।

বিশাল এ লেকটির দু’ধার সংরক্ষণ করা হবে। পানিতে যাতে লেকের পাড় ভেঙ্গে না পড়ে সেজন্য স্থায়ীভাবে প্রটেকশন দেয়া থাকবে। লেকের পাশে সকাল সন্ধ্যা হাঁটার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় চওড়া ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের সাড়ে আট কিলোমিটার লেক নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। বাকি প্রায় ৩৫ কিলোমিটার লেকের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন এই লেকের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ শ’ কোটি টাকা।

১৯৯৫ সালে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ একটি সময় চলে গেছে জমি অধিগ্রহনে। এখন প্রকল্পের সার্বিক কাজের পরিবেশ অনুকূলে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই শহর গড়ে উঠলে রাজধানীর উপর চাপ কমবে। বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ পাবে নগরবাসী।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫