ঢাকা, সোমবার,১৮ নভেম্বর ২০১৯

ফ্যাশন

বলিরেখা রুখবে আঙুর

ফাহমিদা জাবীন

২৩ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ১৫:০৮


প্রিন্ট
বলিরেখা রুখবে আঙুর

বলিরেখা রুখবে আঙুর

ঝকঝকে, মসৃণ ও পেলব ত্বক কার না পছন্দ। তবে গরম, ধুলা, দূষণ প্রভৃতি কারণে এমন ত্বক পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এগুলো ছাড়াও মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন বা অবস্থার ছাপও ত্বকের ওপর পড়ে। যেমন বয়সের সাথে সাথে মানুষের ত্বক ক্রমেই ময়েশ্চার হারাতে থাকে। একই সাথে ত্বকের ইলাস্টিসিটিও কমতে থাকে। ত্বকে দেখা দিতে থাকে ডার্ক স্পট ও বলিরেখা। তবে কখনো কখনো নানা কারণে অল্প বয়সেও ত্বকে বলিরেখা বা উইংকেলস দেখা দিতে পারে। ডায়েটে সামান্য পরিবর্তন এই উইংকেলস দূর করতে কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম আঙুর। আঙুর ত্বক সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া আঙুর দিয়ে তৈরি মাস্ক ব্যবহার করেও ত্বকের ইলাস্টিসিটি ধরে রাখার পাশাপাশি বলিরেখা দূর করা সহজ।

শুষ্ক নির্জীব ত্বকের উপযোগী মাস্ক : আপনার ত্বক যদি শুষ্ক ও নির্জীব হয়, তাহলে এই মাস্ক ব্যবহার করে দেখতে পারেন। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ আঙুরের সাথে স্ট্রবেরি নিয়ে ব্লেন্ড করুন। এবার এর সাথে অল্প গুঁড়োদুধ মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
তৈলাক্ত ত্বকের উপযোগী মাস্ক : তৈলাক্ত ত্বকের যতেœ ব্যবহার করতে পারেন কালো আঙুরের মাস্ক। কয়েকটা কালো আঙুর ব্লেন্ড করে নিন। এর সাথে ১ চা চামচ মুলতানি মাটি ১ চা চামচ গোলাপ পানি ও ১ চা চামচ লেবুর রস মেশান। এবার এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে রেখে দিন ১৫ মিনিট। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে তিন দিন এ পেস্ট লাগান, উপকার পাবেন।

টমেটো ও আঙুরের মাস্ক : এই মাস্ক বলিরেখা রোধ করার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর। একটা ছোট টমেটো ও কয়েকটা আঙুর নিন। ব্রেন্ড করুন। একটি কসমেটিক ব্রাশ দিয়ে সারা মুখে লাগান। ডার্ক সার্কেল ও সান স্পট থাকলে সেখানে বেশি করে লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
চুল পড়া রোধ করতে : ব্লাক কারেন্টের বীজ থেকে তৈরী তেল চুলে ম্যাসাজ করুন। এই তেলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ই, যা চুল পড়া রোধ করার পাশাপাশি চুল পাকা রোধ করতেও সাহায্য করে।

এক টেবিল চামচ কমলার রস, তিন টেবিল চামচ টকদই ও দুই থেকে তিন টেবিল চামচ আঙুরের রস মেশান। এই মিশ্রণ গলায় ও মুখে লাগিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। বলিরেখা ঠেকাতে ভালো কাজ করবে। এক কাপ ম্যাশ করা আঙুরের সাথে কয়েক টেবিল চামচ ময়দা মেশান। এই মিশ্রণ ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। পরে ধুয়ে ফেলুন। ত্বককে সতেজ রাখতে এই মিশ্রণ খুবই কার্যকর।

শুধু বলিরেখা নয়, ত্বককে সুস্থ, সুন্দর ও উজ্জ্বল রাখতে আঙুর খুবই কার্যকর। ব্রণপ্রবণ ত্বকের যত্নেও আঙুর ভালো কাজ করে।
ত্বকের পরিচর্যা ছাড়াও স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও আঙুর ভালো কাজ করে। হার্ট ডিজিজ প্রতিরোধ করা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ইমিউন সিস্টেম উন্নত করার ক্ষেত্রে আঙুর খুবই কার্যকর।

 টিনএজ কেয়ার

নিপা আহমেদ

টিনএজ সময়টা উচ্ছলতার। ফ্যাশন ম্যাগাজিন আর গ্ল্যামার জগতের প্রতি থাকে প্রবল আকর্ষণ। সাজতে ও সাজাতে ভালো লাগে। আগামীর প্রস্তুতি শুরু হয় এখান থেকেই। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের পরিচর্যা শুরু করতে হবে এই সময় থেকেই

টিনএজ বয়সটা বলা যায় জীবনের একটা মজার সময়। অবশ্য কখনো কখনো বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয় অনেককে। এক দিকে থাকে বড় হয়ে উঠেছি এমন একটি অনুভূতি অন্য দিকে এখনো বড় হওনি এমন শাসন। এক দিকে থাকে সীমাহীন কৌতূহল অন্য দিকে না জানতে চাওয়ার বারণ। কৈশোর পেরুনো এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়ে মেয়েরা একটু একটু করে সাজতে চায়। ত্বকের আসে পরিবর্তন।

টিনএজ বয়সটাই যেন উচ্ছ্বলতার। এ বয়সে মেয়েদের আগ্রহ বেশি থাকে সব বিউটি ম্যাগাজিন আর ফ্যাশন ট্রেন্ড নিয়ে। কোন ড্রেসটা কেমন তা নিয়ে বন্ধুদের সাথে চলে বিস্তর আলোচনা। কোন পোশাকটা তাকে মানাবে, কেমন হেয়ার স্টাইলে ভালো দেখাবে, সে সব নিয়েও কৌতূহলের শেষ থাকে না। ত্বক, চুল, মেকআপ এসব বিষয়গুলোর প্রতিও যত্ন নিতে হবে এই সময় থেকেই। নিজের পছন্দ, অপছন্দের বিষয়গুলো জানার পাশাপাশি সঠিক উপায়ে পরিচর্যার বিষয়েও জানা থাকা প্রয়োজন। কারণ, কখনো কখনো এই সময়ের কোনো ক্ষতি সারা জীবনের জন্য স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। প্রাপ্ত বয়স্কদের থেকে টিনএজারদের সৌন্দর্যচর্চা একেবারেই ভিন্ন এ কথা মনে রাখতে হবে।

ত্বকের যত্ন
টিনএজারদের ত্বকের ধরন বড়দের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এদের ত্বক খুবই কোমল ও সেনসেটিভ হয়। তাই কেমিক্যালযুক্ত সাবান, ফেসওয়াশ ও প্রসাধনী এদের ত্বকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া করতে পারে। তবে সুবিধা হলো এদের ত্বক সেরে যায় তাড়াতাড়ি। ত্বকের যতেœ কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে :
ষ নিয়মিত স্ক্রাব করতে হবে, যেন ত্বকের সব মরা কোষ দূর হয়ে যায়। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের টি-জোন ধরে স্ক্রাবার ব্যবহার করতে হবে এতে ব্লাকহেডস দূর হবে।
ষ কেউ যদি ওয়াক্সিং করে তাহলে সাথে সাথে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করতে হবে।
ষ হাত-পায়ের মতো নখেরও যত্ন নিতে হবে। নিয়মিত নখ কেটে ফাইল করে নিতে হবে।
ষ ব্রন ও ডার্ক সার্কেল প্রতিরোধ করার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।
ষ ঠোঁটের ত্বক অনেক বেশি নরম ও সেনসিটিভ তাই বিশেষভাবে ঠোঁটের যত্ন নিতে হবে। অল্প মধু ও চিনি একসাথে মিশিয়ে ঠোটে ঘঁষে ধুয়ে নিতে হবে। এটি এক্সফলিয়েটের কাজ করবে। ঠোট যেন শুষ্ক না থাকে সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ জন্য নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করা ভালো।
ষ ঠোঁট ফেটে গেলে কখনো লিপস্টিক ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে ঠোঁট আরো শুষ্ক হয়ে যায়।

চুলের যত্ন
ত্বকের যত্নের মতো চুলের পরিচর্যার বিষয়েও কিছু বিষয় জানা প্রয়োজন।
ষ চুলের যত্নের প্রথম কথা পরিচ্ছন্নতা। তাই নিয়মিত চুল শ্যাম্পু ও কন্ডিশনিং করতে হবে। যাদের চুল তৈলাক্ত তারা সপ্তাহে তিনবার শ্যাম্পু করলে ভাল। তবে শ্যাম্পু করার আগে অবশ্যই চুলের ধরণ অনুযায়ী শ্যাম্পু বাছাই করতে হবে।
ষ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার কেনার সময় অবশ্যই নামী কোম্পানির প্রোডাক্ট কিনবেন।
ষ চুলের সাজে খুব বেশি স্প্রে ল্যাকার বা হাই লাইটার ব্যবহার না করাই ভালো। চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য যতটা বজায় রাখা যায় চুলের জন্য ততটাই ভালো হবে।
ষ একটি সহজ হেয়ারকাট রাখলে ভালো হয়। চুলের জন্য বেশি সময়ও দিতে হয় হবে না, আবার দেখতে ভালো লাগবে এমন হেয়ার কাট রাখা যেতে পারে।
ষ যাদের চুল তৈলাক্ত তারা তৈলাক্ত স্কাল্পে বেবি পাউডার ব্যবহার করতে পারে। এতে চুলের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়মিত শ্যাম্পু করতে হবে যেন মাথার ত্বক পরিষ্কার থাকে।
ষ চুলের সাজে খুব বেশি আয়রনিং বা কার্লি না করলেই ভালো। সামনে অল্প কার্ল করে বাকিটা আয়রনিং করে নিলেই সাজ হয়ে যাবে।

মেকআপ টিপস
টিনএজ মেয়েদের খুব বেশি প্রসাধনী ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। কারণ, এদের ত্বক এমনিতেই সুন্দর থাকে। তবে প্রসাধনী ব্যবহারের বিষয়ে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
ষ পরীক্ষা না করে কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত না। প্রথমে অল্প করে ব্যবহার করে বুঝে নিতে হবে এই প্রসাধনীটা ব্যবহার করা যাবে কিনা।
ষ স্মোকি আইজের সাথে গাঢ় লিপস্টিক না লাগিয়ে বরং হালকা কোনো রঙ বেছে নিলেই ভালো লাগবে।
ষ অনেক প্রসাধনী ব্যবহার না করে বরং নিজের চেহারার আকর্ষণীয় অংশকে গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে। যদি চোখ সুন্দর হয় তাহলে সুন্দর করে আইলাইনার দিয়ে চোখ আরো সুন্দর করে তোলা যায়।
ষ একইভাবে সুন্দর করে ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানো যেতে পারে।
ষ যাদের ব্রণের প্রবণতা রয়েছে তাদের আলাদা করে ত্বকের যতœ নিতে হবে।
ষ কনসিলার ব্যবহার করলে আঙুলের সাহায্যে করাই ভালো।
ষ দিনের বেলায় মেকআপ দেয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
ষ ব্রণের দাগ বা ডাক সার্কেল ঢাকার জন্য কনসিলার ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য
ষ স্বাস্থ্যের প্রতি অবশ্যই সচেতন হতে হবে। তাই পুষ্টিকর খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে। বিশেষ করে ফল, সবজি ও ডিম রাখতে হবে খাবার তালিকায়।
ষ নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
ষ প্রতিদিন আট ঘণ্টা বিশ্রাম নেয়া জরুরি।
ষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি ব্যবহার্য জিনিসপত্রও পরিষ্কার রাখতে হবে।

 কাচে সজ্জিত অন্দর

ঝরনা রহমান

আজকাল ইন্টেরিয়র ডিজাইন খুব জনপ্রিয়। আকর্ষণীয়, দৃষ্টিনন্দন ঘরের সাজ চান প্রায় সবাই। তাইতো রঙ, আসবাব, লাইটিং সব কিছুই এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয়।
ঘরের সাজে অভিনবত্ব আনতে কাচ হতে পারে অন্যতম একটি উপকরণ। আধুনিক এই সময়ে কাচের ব্যবহার ব্যাপক। ঘরের দরজা, জানালা, পার্টিশান ছাড়াও সেলফ, টেবিলের টপ কাউন্টার এমনকি সিঁড়িতেও আজকাল কাচ ব্যবহার হচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে প্রতিটি কাজের জন্য বিশেষ ধরনের কাচ রয়েছে। একই ধরনের কাচ সব জায়গায় ব্যবহার করা যায় না।

কাচ ব্যবহারের বড় সুবিধা হচ্ছে এতে ঘর বেশ বড় দেখায়। কারণ পার্টিশান হিসেবে কাচ ব্যবহার করা হলে সেটা আলাদা করার কাজটা করে ঘরকে ছোট ও অন্ধকারাচ্ছন্ন না করেই। একই সাথে আকর্ষণীয় উপাদানও যোগ করা যায়, যা অন্দর সাজে নিয়ে আসে মডার্ন লুক। ছোট বাড়িতে কাচের পার্টিশান ওয়াল বেশি কার্যকর। এতে ঘর বড় দেখায় একইভাবে আলোর প্রাচুর্যও চোখে পড়ে। তবে একসাথে একটা জায়গায় কাচের ব্যবহার করাটাই সঠিক হবে।

শোপিস রাখার জন্য গ্লাসের শোকেস চমৎকার কাজ করে। এতে সহজেই আপনার পছন্দের জিনিসগুলো সাজিয়ে রাখতে পারেন, যা অনেক বেশি দৃশ্যমান থাকবে।
কাচের পার্টিশান ঘরে দেবে কিছুটা শব্দহীন পরিবেশ। যেখানে আপনি নিজের কাজটা করার সাথে সাথে বাড়ি বা অফিসের অন্য জায়গায় কী হচ্ছে সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে পারবেন। এ ছাড়া কালার করা গ্লাস, নকশাদার গ্লাস, ফ্রসটেড গ্লাস প্রভৃতি ব্যবহার করতে পারেন জানালা, দরজা বা ওয়ালের বিকল্প হিসাবে। এমনকি গ্লাস, প্যানেল হিসেবেও ব্যবহার করা যায় অন্দর সাজে অভিনবত্ব আনতে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫