ঢাকা, মঙ্গলবার,১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আমার ঢাকা

ব্যতিক্রমী ফ্যাশন হাউজ শৈলী

সুমনা শারমিন

২৪ এপ্রিল ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট


রাজধানী ঢাকায় ফ্যাশন হাউজগুলোর মধ্যে শৈলী এখন বেশ জনপ্রিয়। ২০০৬ সালে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন শৈলীর স্বত্বাধিকারী তাহমিনা শৈলী। এরপর ২০০৯ সালে ট্রেড লাইসেন্স ও টিন সার্টিফিকেটসহ অন্য সব আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেন শৈলীর। বর্তমানে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যপ্রেমীদের মন জয় করে শৈলীর গয়না পাড়ি জমিয়েছে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে। শুরু করেছিলেন ফেসবুকে জুয়েলারি পেজ দিয়ে। এরপর একে একে যুক্ত করেন শাড়ি, পাঞ্জাবি, দোপাট্টা ও হাতে বানানো আচারসহ ফ্যাশন সচেতনদের প্রায় সব কিছুই। ২০১২ সালে গুলশানে নিজের শোরুম নিয়ে শৈলী ফেসবুকের ক্ষুদ্র গণ্ডি ছেড়ে বড় পরিসরে যাত্রা শুরু করে। ধানমন্ডির-১ নম্বর সড়কে এখন শৈলীর শোরুম। শোরুম-ফ্যাক্টরি মিলিয়ে শৈলীর কর্মী এখন ৩৭ জন। যার ৮০ শতাংশই নারী।
শৈশব থেকেই যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতে বদ্ধপরিকর তাহমিনা শৈলী। ছোটবেলা থেকেই তার ছোট্ট মনটাতে একটা চ্যালেঞ্জ নেয়ার বিষয় ছিল। আর এখনো সেই একই পথে হাঁটছেন। তাই কোনো কাজকেই বাধা মনে হয় না তাহমিনা শৈলীর। বরং নতুনভাবে নিজেকে খুঁজে পান। নারী হিসেবে ব্যবসায় পথ চলতে কখনো কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আত্মপ্রত্যয়ী এ তরুণী বলেন, আমার আম্মা খুব ভালো সেলাইয়ের কাজ পারতেন। এমন কোনো সেলাইয়ের কাজ নেই যে তিনি পারতেন না। কাঁথা থেকে শুরু করে জামা-শাড়িতে নকশি করা সব আমার মা খুব সুন্দরভাবে করতেন। খুব সুন্দর সোয়েটার বুনতেন। আম্মা যখন সোয়েটার বা কাঁথা সেলাই করতেন, তার পাশে আমি বসে সে রকম করে ছোট্ট সোয়েটার বুনতাম। কিংবা নকশি কাঁথা তৈরি করতাম। বড় হয়েও শখের বশেই ঘরে বসে করতাম হ্যান্ডিক্রাফটের কাজ। কখনো শাড়িতে কাজ করে ফুটিয়ে তুলতাম নিজের চাওয়া-পাওয়া। কখনো কিনে আনা গয়নায় নিজেই দিতাম নিজের হাতের ছোঁয়া। তো এক জন্মদিনে সব বান্ধবীকে নিজের ডিজাইন করা গয়না উপহার দিতাম।
আমি পড়াশোনা করেছি মার্কেটিং বিভাগে। সারা দিন হিসেবের কাটাকুটিতে চলে যেত। তবে সারা দিন ছোটাছুটি শেষে প্রতিরাতেই ঘণ্টা দুয়েকের জন্য আমার গয়না-অ্যাকসেসরিজের ডিজাইন করা নিয়ে বসতাম। সারা দিন যত যা কিছু করতাম, আমার নিজের জন্য যখন আমি সময় পেতাম, তখন আমি এ ডিজাইন নিয়ে বসতাম। বোতাম আমার খুব পছন্দের। নানা রঙের বোতাম দিয়ে বিভিন্ন রকমের গয়না বানাতাম। অ্যাকসেসরিজ বানাতাম। একসময় নিজের শখ পূরণের সাথে সাথে আমি ভাবলাম, এটা যেহেতু আমার পছন্দের একটা জায়গা, তাহলে এটা নিয়ে আমি আরো বড় পরিসরে কাজ করি না কেন?
সেই ভাবনা থেকেই ফেসবুক পেজ খোলা। পেজে আমি আমার হাতে তৈরি জিনিসগুলো উপস্থাপন করি। সেগুলো বিক্রিও হতে থাকে বেশ।
আমি আমার প্রতিষ্ঠানের লোগোতে প্রজাপতি ব্যবহার করি। এবং যারা শৈলীর পোশাক পরেন তারা খেয়াল করবেন, প্রজাপতি মোটিফ আমার অনেক কিছুতেই। সেই সাথে হাতিসহ নানা রকম পাখি। গ্রাহক খুব আগ্রহ নিয়েই আমার এ কাপড়গুলো কেনেন।
শুরু করেছিলেন ফেসবুকে জুয়েলারি পেজ দিয়ে। এখন পাওয়া যাচ্ছে ফ্যাশন সচেতনদের সব কিছু। শৈলী বলেন, আমাদের ফ্যাশন হাউজগুলো গয়নার ক্ষেত্রে পুঁতি-তামা-পিতল-রুপা-কাঠসহ বিভিন্ন মেটাল ব্যবহার করলেও স্বর্ণের ব্যবহার তেমন করে না। তবে আমরা স্বর্ণের গয়না বানানো শুরু করেছি। গ্রাহক তার পছন্দ আর ডিজাইনের কথা আমাদের বুঝিয়ে দেন, আমরা সে অনুপাতে ফরমায়েশের গয়না বানাই। বিয়ের গয়নাও গেল দুই বছর আমরা বানিয়েছি। এখন আমরা চাচ্ছি স্বর্ণ নিয়ে নিয়মিত কাজ করতে। বিশেষ করে বিয়ের গয়না। এ বছর আমরা শুরু করেছি বেনারসি শাড়ি বানানো। এমনিতে গায়ে হলুদের শাড়ি-গয়না থেকে সব কিছু আমরা সরবরাহ করি; কিন্তু শৈলীর মূল লক্ষ্য বিয়ের কাজ। স্বর্ণের গয়না থেকে শুরু করে বিয়ের শাড়ি-শেরওয়ানি ও আনুষঙ্গিক সব কিছু নিয়ে কাজ করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। অনেক বড় লক্ষ্য আছে, তবে আপাতত ছোট ছোট স্বপ্নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চাই। নিয়মিত নিজের পণ্য নিয়ে দেশী-বিদেশী মেলায় অংশগ্রহণ করছি। তবে সারা বিশ্বের ই-কমার্সের সাথে তুলনা করলে মনে হয়, আমরা যেন এখনো হাঁটতে শেখছি।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫