ঢাকা, মঙ্গলবার,১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

থেরাপি

ইয়ার আলী কেস

তারেকুর রহমান

২৬ এপ্রিল ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

মদনপুর স্কুলে ভর্তির নিয়ম হলো হাত দিয়ে মাথার ওপর দিয়ে কান স্পর্শ করা। যে শিার্থী কান স্পর্শ করতে পারবে সেই ভর্তি হতে পারবে। ইয়ার আলী বাপের একমাত্র পোলা। গত দুই বছর চেষ্টা করেও কান স্পর্শ করতে পারেনি। অবশ্য ইয়ার আলী এখনো স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় নামেনি। দুই বছর ধরে ঘরের মধ্যেই কান স্পর্শ করার প্র্যাকটিস চলছে। স্কুলে ভর্তির জন্য একে একে সব ছাত্র কান স্পর্শ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে দু-একজন বাদ পড়েছে। ইয়ার আলী বহু চেষ্টা করেও কান স্পর্শ করতে না পারায় ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে যায়। ইয়ার আলীর বাবা হেকমত আলী কিছুতেই মানতে পারছে না। ইয়ার আলী মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে যেতে হয়নি। শেষ পর্যন্ত ইয়ার আলী ভর্তি হয়। তবে তা ছিল বাবা কোটায়। হেকমত আলী ওই স্কুলের প্রধান শিক হওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় ভর্তি হয়ে যায়। ইয়ার আলী প্রাইমারি স্কুলে বাবা কোটায় নানা সুবিধা ভোগ করতে লাগল।
প্রাইমারি শেষ করে হাইস্কুলে উঠেছে ইয়ার আলী। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলো। দৌড় প্রতিযোগিতায় ইয়ার আলী পেছন দিক দিয়ে প্রথম হয়। ইয়ার আলীর চাচা স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য। সে সবাইকে বলল ইয়ার আলীকে যৌথভাবে প্রথম দেয়ার জন্য। প্রধান শিক বলে উঠলেনÑ ইয়ার আলী তো সবার পেছনে ছিল। ও কিভাবে প্রথম হয়?
- আমার ভাতিজা সহজ সরল মানুষ। সে অত কিছু বোঝে না। সে ভাবছিল, এক দিক দিয়ে প্রথম হলেই হলো। তাই শেষের দিক থেকে সে প্রথম হয়।
- তারপরও তাকে কোনোভাবেই প্রথম দেয়া যাবে না।
- না গেলে ইয়ার আলী শুধু একা দৌড় প্রতিযোগিতা দেবে।
- এটা কেমন কথা?
- হ, ও আমার ভাতিজা। ভাতিজা কোটায় ও দৌড় দেবে।
যেমন কথা তেমন কাজ। ইয়ার আলী ভাতিজা কোটায় পুরস্কার ছিনিয়ে আনে।
ইয়ার আলী টেনেটুনে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করল। প্রশ্ন ফাঁস করে কোনোরকম ভাইভা পর্যন্ত যায়। আজ ইয়ার আলীর ভাইভা। বেশ পরিপাটি হয়ে বের হলো ইয়ার আলী। ভাইভা বোর্ডে অনেকজন বসে আছে। ইয়ার আলী সালাম দিয়ে প্রবেশ করল। তাকে বসতে বলা হল। ইয়ার আলী বসেই কাঁপতে শুরু করল। ভাইভা বোর্ডের কর্মকর্তারা হতবাক হয়ে যায়। এক প্রশ্নকর্তা ইয়ার আলীকে জিজ্ঞেস করল- কাঁপতেছ কেন?
- স্যার, কাঁপুনির কিছুই দেখেননি। প্রশ্ন শুরু করেন কাঁপুনি কাকে বলে।
প্রশ্ন শুরু হয়। ইয়ার আলী শৈত্যপ্রবাহে আক্রান্ত মানুষের মতো কাঁপতে থাকে। সে আর মুখে কিছু বলতে পারছে না। প্রশ্ন করে ইয়ার আলী উত্তর দেয় না। কিছুণ পর সে খাতায় লিখে দেয়। সে সব প্রশ্নের উত্তর জানে। কিন্তু সে দিতে পারছে না। কারণ সে নাকি মৃগী রোগী। তাকে রোগী কোটায় জবটা দেয়া হোক।
বি: দ্র: ফলাফল এখনো জানা যায়নি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫