ঢাকা, বুধবার,২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ইসলামী দিগন্ত

আল্লাহ পবিত্রতা পছন্দ করেন

এম জি হোসেন

২৭ এপ্রিল ২০১৮,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র। পবিত্রতা তার পছন্দ বলেই এ বিষয় পাক কালাম ও হাদিসে ব্যাপক আলোচনা দেখা যায়। পবিত্রতা একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ হলেও সাধারণভাবে দেহ ও পরিধেয় বস্ত্রের ক্ষেত্রেই শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত, নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়। অথচ, বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রে দুঃখজনকভাবে ভিন্ন। বেশির ভাগ মসজিদের পেশাবখানার বেহাল অবস্থা এই চেতনার সাথে সঙ্গতিহীনই শুধু নয় বরং সাংঘর্ষিক। রাসূল করিম সা:-এর পছন্দের বস্তুগুলোর মধ্যে ফুল ও সুগন্ধি অন্যতম। এ প্রসঙ্গে একটি হাদিসের চমৎকার অনুবাদ করেছেন কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এভাবেÑ ‘জোটে যদি মাত্র একটি পয়সা খাদ্য কিনিও ুধার লাগি, ‘জোটে যদি দু’টি তবে অর্ধেকে তার ফুল কিনে নাও হে অনুরাগী।’ (৬০ বছর আগের পড়া ভুল মার্জনীয়।) কিন্তু সেই ফুলের কদর কদাচিৎ নজরে পড়ল মসজিদ আঙ্গিনায়, এমনকি জাতীয় মসজিদেও।
অবশ্য জাতীয় মসজিদের এখন আর আঙ্গিনাও নেই। ‘জাতীয় মসজিদ’ না ‘জাতীয় মার্কেট’ বাস্তবতাটা কী? উত্তরটা অপ্রত্যাশিত ও কষ্টদায়ক হবে। শরিয়তের দৃষ্টিতে একজন মুসলিম আর অমুসলিমের গোসলে ফারাক অনেক। এক্ষেত্রে কত বালতি পানি শরীরে ঢালা হলো বা কত দামি সাবান ব্যবহার করা হলো সেটি গৌণ বিষয়। শরিয়তের বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতা বা অসতর্কতার কারণে কোনো ব্যক্তি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেঘনা নদীতে গোসল করার পরও যেমনি পবিত্রতা হাসিল থেকে বঞ্চিত থেকে যেতে পারেন, তেমনি শহরের নামী-দামি কোনো লন্ড্রিতে ধোলাই করা কেতাদুরস্ত পোশাক পরেও অপবিত্রই থাকতে পারেন। অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা হয়, দেশের বেশির ভাগ মসজিদের পেশাবখানাগুলোর নির্মাণকৌশল এমন যে, ওটা ব্যবহারের পর শরীর ও পরিধেয় বস্ত্রের পবিত্রতা, রক্ষা করে ফিরে আসাটা প্রায় অসম্ভব। পেশাবখানার ট্যাপগুলো সরাসরি ড্রেনের ওপর থাকবে এটাই যেন নিয়ম। ট্যাপ খোলামাত্র ওভার হেড টাঙ্কি হতে তীব্র গতিতে ছুটে আসা পানি দুই-তিন ফুট নিচে পাকা ড্রেনে পড়তে থাকে। পানির বেগ ও পতিত স্থানের অবস্থা অনুযায়ী ছিটাও দুই-তিন ফুট উঠবে এটাই স্বাভাবিক। ধরা যাক ট্যাপের মুখ থেকে পতনবিন্দু অর্থাৎ ড্রেনের দূরত্ব দুই ফুট। ব্যবহারকারী অনেক সময় খেয়ালই করেন না যে, ট্যাপের পানি নেয়ার সময় হাতটা ট্যাপের মুখ থেকে ৮-১০ ইঞ্চি নিচে নেমে যাচ্ছে। সুতরাং পতনবিন্দু আর হাতের দূরত্ব এক-দেড় ফুটের মধ্যে চলে আসছে। আবার কারো কারো জামার হাতা তিন-চার ইঞ্চি পর্যন্ত ঝুলেও থাকে।
এমতাবস্থায় ব্যবহারকারীর শরীর ও কাপড়ে যে নাপাক পানির ছিটা থেকে রেহাই পায় না তা বলাই বাহুল্য। এই বিপত্তি এড়াতে কোনো কোনো মসজিদে কৌটা বা বদনা রাখতে দেখা যায় যদিও তা নির্ভরযোগ্য সমাধান নয়। কারণ, কৌটায় পানি নেয়ার আগে বা পরে অসতর্কতা হেতু কিছু পানি ড্রেনে পড়তেই পারে। সুতরাং ফলাফল শূন্যই থেকে গেল। সম্ভবত, ৯০ ভাগ মসজিদের পেশাবখানা নামমাত্র ঢালু, অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট মসৃণও নয়। ফলে পেশাবের ও ব্যবহৃত পানির ছিটা থেকে নিরাপদ থাকা দুষ্কর। কারণ, পানি ব্যবহারবিন্দু আর পতনবিন্দুর দূরত্ব মোটামুটিভাবে ১২-১৫ ইঞ্চির মধ্যে থাকলেও সাধারণভাবে নিজস্ব ও পরিধেয় বস্ত্র, পায়জামা ইত্যাদি ৭-৮ ইঞ্চি, কারো কারো ক্ষেত্রে আরো বেশি ঝুলে থাকে বলে পানি পতনের স্থানের মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরত্বে পৌঁছে যায়। সুতরাং, শঙ্কামুক্ত থাকার জন্য পেশাবের স্থানটি যথেষ্ট ঢালু ও মসৃণ হওয়া জরুরি। এসব বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণে অনেক ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক সাড়া পেয়ে থাকলেও টাকা খরচ ও ঝামেলার অজুহাতে কারো কারো মধ্যে যে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়নি; তেমনটি নয়। এমন ধরনের মসজিদ কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে; পেশাবখানাটি ঝুঁকিপূর্ণ, সাবধানে ব্যবহার করুন এবং পানি ব্যবহারে বিরত থাকুন, প্রয়োজনমতো ঢিলা-কুলুপ ব্যবহার করুন’ এ মর্মে একটি সতর্কবাণী টাঙ্গিয়ে দেয়া উচিত বলে মনে করি।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫