ঢাকা, বুধবার,১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অপরাধ

কাকরাইল মসজিদে সংঘর্ষের নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ এপ্রিল ২০১৮,শনিবার, ২১:৩৯


প্রিন্ট
সংঘর্ষের পর কাকরাই মসজিদ ছেড়ে যাচ্ছেন মুসল্লিরা

সংঘর্ষের পর কাকরাই মসজিদ ছেড়ে যাচ্ছেন মুসল্লিরা

ঢাকার কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ও মাওলানা জুবায়ের আহমেদ গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  দুই পক্ষকেই বের করে দিয়ে মসজিদ ফাঁকা করে পুলিশ।

এদিকে সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মসজিদে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তাবলিগের ছয় মুরব্বির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ দুটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আগামী ১ মে পর্যন্ত সৈয়দ ওয়াসিফ ও মাওলানা জুবায়ের কাকরাইলের বাইরে থাকবেন। দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত হলো- দুই গ্রুপের দুইজন করে চারজনকে সাময়িকভাবে কাকরাইলে আসা-যাওয়া না করতে বলা হয়েছে।

সাময়িকভাবে কাকরাইল মসজিদে না যাওয়ার নির্দেশ পাওয়া মুরব্বিরা হলেন- (নেজামুদ্দীন অনুসারী) মাওলানা আবদুল্লাহ ও ড. এরতেজা হাসান এবং (আলমি শুরার) ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নান ও আজগর আলী। এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা বহিরাগত সবাইকে বের করে দিয়েছি। মসজিদের স্বাভাবিক কাজকর্ম চলবে।

এ বিষয়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। তিনি জানান, বাইরে থেকে কেউ এসে মসজিদে অবস্থান করতে পারবেন না। তবে নামাজ আদায় করা যাবে। বৈঠকে সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে আসার পর তাবলিগ জামাতের নেতাদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করা হবে।

জানা যায়, গতকাল সকালে মাওলানা সাদ কান্দলভির অনুসারী তথা ওয়াসিফুল ইসলাম গ্রুপ এবং বাংলাদেশের আলমি শুরা অনুসারী তথা মাওলানা যুবায়ের আহমদ গ্রুপ-এর মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই গ্রুপকে মসজিদ থেকে বের করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাকরাইল মারকাজের শুরা সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসেন।

গত বিশ্ব ইজতেমার আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে মতবিরোধ চলে আসছিল তাবলিগ-জামাতের দুই গ্রুপের মধ্যে। বিশ্ব ইজতেমার সময় তাবলিগ-জামাতের দিল্লির মারকাজের মুরব্বি মাওলানা সা’দকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে সংকট আরও ঘনিভূত হয়। মাওলানা সাদ ঢাকায় এসেও ইজতেমায় অংশ না নিয়েই ফিরে যেতে ্বাধ্য হন। সা’দকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ অন্তত চারবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল মন্ত্রণালয়ে কয়েকবার বৈঠকও করেন। এরপরও দুই পক্ষকে সমঝোতায় আনা সম্ভব হয়নি। তাবলিগ-জামাতের বিরোধ নিয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে মামলা-পাল্টা মামলাও হয়েছে।

জানা যায়, দেশের কওমি মাদরাসাগুলো ছুটির কারণে কয়েক হাজার মাদরাসা ছাত্র কাকরাইলে জড়ো হয় তাবলিগে সময় দেয়ার জন্য। গত বৃহস্পতিবার থেকে তারা আসতে থাকে কাকরাইল মসজিদে। এদিকে দিল্লির নিজামুদ্দীন মারকাজে অনুষ্ঠিত ১৬-১৯ এপ্রিল বাংলাদেশিদের জোড়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা গতকাল সবার উপস্থিতিতে শোনানোর কথা ছিল। এ কারণে মাওলানা সাদপন্থীরাও জড়ো হন কাকরাইল মারকাজে।

গতকাল মারকাজে অনাকাংক্ষিত ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। দুপুরে মারকাজের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ না করায় পুলিশ দুটি জ্যামার যন্ত্র উদ্ধার করেন।

দিল্লির নেজামুদ্দিন মারকাজের অনুসারীদের অভিযোগ, নেজামুদ্দিনের ফয়সালা যাতে কার্যকর করা না হয় এ কারণে ছাত্রদের আনা হয়েছে বিভিন্ন মাদরাসা থেকে। আর বাইরের কারো সাথে যেন যোগাযোগ করা না যায় এ কারণে জ্যামার বসানো হয়েছিল।
তবে কাকরাইল মারকাজ আলমি শুরার এক সদস্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দেশের মাদরাসাগুলো রমজানের আগে বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্র শিক্ষক এবং আলেম উলামা এ সময় তাবলিগে সময় দেয়ার জন্য আসেন। তাদের আনার অভিযোগ ভিত্তিহীন। জ্যামার বসানো বিষয়ে তিনি বলেন, নেজামুদ্দিনের অনুসারীরা পরামর্শে বসে কিছু না হতেই পুলিশ ডাকে। এ জন্য জ্যামার বসানো হয়েছিল।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার কাকরাইলে জড়ো হওয়া আলেম উলামা ও শিক্ষার্থীরা কয়েকটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করেন। এগুলো হলো, ১. মাওলানা সাদের কোনো ফয়সালা বাংলাদেশে মানা হবে না। ২. নিজামুদ্দিনের জোড়ে যে ২ জনকে বাংলাদেশের ফয়সাল নিযুক্ত করা হয়েছে তা কার্যকর করা যাবে না। ৩. কাকরাইলের কোনো সিদ্ধান্ত দুই তৃতীয়াংশ ফয়সালের সিদ্ধান্তেই কার্যকর হবে। ৪. কাকরাইলের কোনো চিঠি উলামা ফয়সালদের দস্তখত ছাড়া গ্রহণ হবে না।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫