ঢাকা, বুধবার,১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অপরাধ

পাহাড়ে হত্যাকান্ড আওয়ামী দুঃশাসনের দৃষ্টান্ত : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ মে ২০১৮,শনিবার, ১৯:১৬ | আপডেট: ০৫ মে ২০১৮,শনিবার, ১৯:৫৩


প্রিন্ট
রুহুল কবির রিজভী

রুহুল কবির রিজভী

পাহাড়ে এক উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তি চাকমাসহ পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিএনপি বলেছে, এ ঘটনা আওয়ামী দুঃশাসনের এক ভয়ংকর দৃষ্টান্ত।  শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একথা বলেন।

রিজভী বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাবর্ত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র তৎপরতায় শক্তিমান চাকমা নিহত যিনি সেখানকার আঞ্চলিক প্রতিনিধিসহ ৬ জন নিহত এবং বেশ কিছু সংখ্যক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাসহ নরসিংদীর রায়পুরার বাঁশখালী ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হককে দিনে দুপুরে গুলি করে হত্যা করার ঘটনা আওয়ামী দুঃশাসনের এক ভয়ংকর দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, এসময় রক্তাক্ত ঘটনার জন্য সরকারই দায়িত্ব। আমি দলের পক্ষ থেকে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে যে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে এর তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

রিজভী বলেন, সারাদেশের মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, জীবন আশঙ্কায় ভুগছে। এই সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন কারো নিরাপত্তা থাকবে না।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, কারাগারে খালেদা জিয়ার প্রায়ই জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। শুক্রবার তার নিকট আত্বীয়রা দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাদের সাথে নেত্রীর দেখা হয়েছে।

তাদের কাছ থেকে আমি জানতে পেরেছি তার শারীরিক অসুস্থতার অবণতি হচ্ছে। তার হাঁটু ও শরীরে প্রচন্ড ব্যথাসহ নানাবিধ জটিল শারীরিক সমস্যা তাকে আক্রান্ত করছে। স্যাঁতসেতে পরিত্যক্ত রুমে থাকায় এখন তিনি প্রায়ই জ্বরে ভুগছেন এবং কাশি ও কফ লেগেই আছে। এরকম অবস্থায় সাধারণত নিউমোনিয়ায়র আশঙ্কা থাকে। তার চোখে যে ব্যথা হচ্ছে সেটি এখনো সারেনি।

তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে বার বার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও এখনো তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি । সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার বিষয়ে কোনো কর্ণপাতই করছে না। দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে সরকারের একটি গভীর দুরভিসন্ধি আছে।

অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে তার পছন্দসই গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার দাবি জানান রিজভী।

গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর পক্ষের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের পুলিশ নির্বিচারে গ্রেপ্তারের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানান তিনি।

রিজভী বলেন, সরকার নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জেতাকে সরকারের প্রশ্রয়ে পুলিশ হয়ে উঠেছে স্বেচ্ছাচারী, অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া। ভরাডুবির ভয়ে সরকার দুইটি সিটিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না। গণমাধ্যমে একতরফা ফলাফল ঘোষণা করাই প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়।

আবারো গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনুর রশীদ ও খুলনা পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীরের প্রত্যাহারের দাবি জানান রিজভী।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মামুন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আসাদুল করিম শাহিন, মুনির হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫