ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ নভেম্বর ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

উগ্র জাতীয়তাবাদ ও রোহিঙ্গা ট্র্যাজেডি

বহমান এই সময়ে

জি. মুনীর

০৭ মে ২০১৮,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

রোহিঙ্গা। মিয়ানমারের একটি জাতিসম্প্রদায়ের নাম। রোহিঙ্গা নামের এই জাতিসম্প্রদায়টির নামটি পর্যন্ত মুখে আনতে দিতে নারাজ মিয়ানমারের সামরিক শাসকেরা। মিয়ানমারে শত শত বছর ধরে, কোনো কোনো হিসাব মতে, কয়েক হাজার বছর ধরে বসবাস করে আসা এই রোহিঙ্গা মুসলমানদের জাতিগত নিধনের অংশ হিসেবে গত বছরের শেষ দিকে বড় ধরনের নিপীড়ন আর গণহত্যা চালিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এর ফলে সর্বশেষ এই হত্যা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে এ পর্যন্ত সাত লাখ রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে প্রাণভয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। একদিকে কিছুটা হলেও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার তাদের ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলছে নানা ধরনের কৌশলী শর্ত আরোপ করে। অপর দিকে এখনো মিয়ানমারে থেকে থেকে চলছে রোহিঙ্গা নিধন। এর ফলে এখনো রোহিঙ্গারা দল বেঁধে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার খবর আমরা মাঝে মধ্যেই পাচ্ছি। এর আগেও ১৯৭৮ সাল থেকে এই ব্যাপকভাবে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরু হলে আরো কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসঙ্ঘ বলেছে, রোহিঙ্গারা হচ্ছে বিশ্বের ‘মোস্ট পারসিকিউটেড মাইনোরিটি’। আর সর্বশেষ নিধনযজ্ঞের ঘটনাকে জাতিসঙ্ঘ উল্লেখ করেছে জাতিসম্প্রদায় নিধনের একটি ‘টেক্সট বুক এক্সামপল’ নামে।
সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের নিয়ে লেখা দু’টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এই বই দু’টিতে রোহিঙ্গাদের বিয়োগান্ত ঘটনার বিস্তারিত ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম বইটি হচ্ছে : ‘Myanmar’s Enemy Within: the Making of a Muslim Other’। বইটি লিখেছেন Francis Wade। আরেকটি বই লিখেছেন Azeem Ibrahim। তার লেখা বইটির নাম : ‘The Rohingyas : Inside Myanmar’s Genocide’। প্রথম বইটিতে উল্লেখ পাওয়া যায় রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির। আর দ্বিতীয় বইটিতে মিয়ানমারে চলমান জেনোসাইড তথা গণহত্যার বিষয়টি নিয়ে সবিশেষ আলোকপাত করা হয়েছে। এই গণহত্যাকে জাতিসঙ্ঘ সংজ্ঞায়িত করেছে ÔThe intent to destroy, in whole or in part, a national, ethnical, racial or religious group’ হিসেবে।
মিয়ানমার সরকার ১৯৭৮ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে ‘ফরেনার’ হিসেবে। মিয়ানমার রাষ্ট্রটি আজকের দিনে রোহিঙ্গাদের বর্ণনা করে হয় ব্রিটিশদের আমদানি করা ইন্ডিয়ান হিসেবে, নয়তো সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী বাংলাদেশী হিসেবে। কী ভয়াবহ নির্জলা মিথ্যাচার। উল্লিখিত উভয় বইয়েই এই রিভিশনিজমকে বিতর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আজিম ইব্রাহিম বইয়ে উল্লেখ আছে, রোহিঙ্গাদের ইতিহাসের শুরু সেই খ্রিষ্টপূর্ব তিন হাজার অব্দে, যখন ইন্ডো-আর্য জনগোষ্ঠী আজকের দিনের আরাকান (অথবা রাখাইন) প্রদেশে পৌঁছে। অপর দিকে ফ্রান্সিস ওয়াদি সাাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেন, খ্রিষ্টীয় একাদশ শতাব্দীতে মুসলিম জনগোষ্ঠী সেখানে যায়। এই মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছিল আটকে পড়া ভারতীয়, আরব ও পারস্য নাবিকেরা।
আজিম ইব্রাহিমের বর্ণনায় এসেছে, প্রাচীন ঔপনিবেশিক ইতিহাসের বিস্তারিত। তার বর্ণনা মতে, রোহিঙ্গারা পাশাপাশি বসবাস করে আসছিল রখাইনদের সাথে, যারা ভাষাগত ও ধর্মীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ছিল বার্মানদের সাথে। আর এই বার্মানেরা হচ্ছে আজকের মিয়ানমারের বা বার্মার প্রধান জাতিসম্প্রদায়। যদিও আরাকান প্রভাবিত হয়েছিল প্রাচীন বার্মিজ কিংডমের মাধ্যমে, এটি ১৭৮৪ সালের আগে জয় করে নেয়ার আগ পর্যন্ত। পরবর্তী চার দশকে ৩০ হাজার মুসলমান বার্মিজ-বুদ্দিষ্টদের শাসনের বাইরে ছিল। এরপর ব্রিটিশেরা আরাকানকে ১৮২৬ সালে বার্মার সাথে একীভূত করে নেয়। বার্মা-আরাকান ও এর রোহিঙ্গাসহÑ স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৪৮ সালে। রোহিঙ্গারা নতুন রাষ্ট্রে প্রবেশ করে ‘ডিসঅ্যাডভান্টেজ’ হিসেবে। ১৯৪২ সালে জাপান ইনভেশনের সময়ে রোহিঙ্গাদের ব্রিটিশদের প্রতি সমর্থনের ফলে তাদের দ্বন্দ্ব দেখা দেয় রাখাইনদের সাথে। তা সত্ত্বেও এরা অংশ নেয় জাতীয় জীবনে। কেউ কেউ যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। অনেকে অংশ নেন পার্লামেন্টে। ১৯৬১ সালের লোকগণনায় এদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় ‘এথনিক গ্রুপ’ হিসেবে।
১৯৬২ সালে মিয়ানমারের সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করে। এই সময়ে, ওয়াদির বইয়ের বর্ণনা মতে, বার্মিজ জেনারেলেরা উন্মত্ত হয়ে পড়ে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যকার জাতীয় সাদৃশ্য বিনাশের কাজে, যেখানে তখন দেশটির সংখ্যালঘুরা ছিল দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ। সেনাবাহিনী যেন এক যুদ্ধ ঘোষণা করে বসল অন্যদের সাথে শান, কাচিন ও কারেন জনগোষ্ঠীকে অবমূল্যায়ন করতে। ১৯৬০-এর দশকে দেশটি বহিষ্কার করে ইন্ডিয়ান ও চীনা অধিবাসীদের।
এটি চায় থেরাবেদা সংস্করণের বুদ্ধবাদের বৈধ অভিভাবকত্ব, বিশেষ করে যখন এরা প্রয়োজন বোধ করল, বার্মিজ সমাজতন্ত্রের তথাকথিত অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মনোযোগ দূরে সরিয়ে নিতে। সামরিক সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে খরচ করল মোট বাজেটের ৩ শতাংশেরও কম; কিন্তু বড় ধরনের শক্তি ও সম্পদ খরচ করল অ্যানিমিস্ট ও খ্রিষ্টানদের কনভার্ট করার পেছনে। ওয়াদির বর্ণনায় জানা যায়Ñ রাষ্ট্রপরিচালিত গণধর্মান্তর উৎসবগুলোতে বৌদ্ধদের দেয়া হয় চাল ও ন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন কার্ড।
রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করা হয় ‘অন্যান্য’ বা ‘আদারস’ হিসেবে। তাদের ধর্ম আলদা এবং গায়ের রঙ কালো বিবেচনায় আনা হয়। একই সাথে এদের যাবতীয় নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। আপাতত সত্যবিরোধী মনে হলেও বাস্তবতা হচ্ছেÑ ২০১০ সালে আংশিকভাবে মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফিরে এলেও এই প্রক্রিয়ার আরো অবনতি ঘটে।
আজিম ইব্রাহিম তার বইয়ে উল্লেখ করেছেনÑ এর প্রথম কারণ হলো, দূর থেকে সামরিক বাহিনী এখনো দেশটির শাসনক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করছেÑ তা এর ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি ডেভেলপমেন্ট পার্টি’র মাধ্যমে পার্লামেন্টেই হোক কিংবা রাজপথে ঘৃণা প্রচারকারী বৌদ্ধ সন্নাসীদের সংগঠন মাবাথার সমর্থনপুষ্ট হয়েই হোক। এরা একযোগে বয়কট করে মুসলমানদের ব্যবসায় এবং একই সাথে এরা পরিচালনা করে মুসলিমবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।
কিন্তু ফ্রান্সিস ওয়াদির বইয়ে প্রকাশ করা হয়েছে আরো বিব্রতকর বিষয়েরÑ কী করে পপুলিস্ট হাইপার- ন্যাশনালিজম গণতন্ত্রকে রূপান্তরিত করতে পারে ‘টিরানি অব দ্য ম্যাজোরিটি’-তে। এদের দশকের পর দশক ধরে পরিচালিত অপপ্রচারের ফলে এখন মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ প্রকৃতপক্ষেই ভীত হয়ে পড়েছে যে, এই দারিদ্র্যপীড়িত কৃষক ও মৎস্যজীবী মুসলমানেরা আসলেই ছদ্মবেশী জিহাদি, যারা বুদ্ধধর্মর্ ধ্বংস করার কাজে ব্যাপৃত।
ওয়াদি এবং ইব্রাহিমের বইয়ের বর্ণনায় তুলে আনা হয়েছে ২০১২ ও ২০১৩ সালের রোহিঙ্গাবিরোধী দাঙ্গার দুঃখজনক ফলাফল সম্পর্কে। উচ্ছৃখল জনতা যখন সঙ্ঘবদ্ধভাবে মুসলমানদের বাড়িঘর জ্বলিয়ে-পুড়িয়ে দিচ্ছিল, তখন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা নীরবে দাঁড়িয়ে এসব কর্মকাণ্ড অবলোকন করছিল। তখন এদের চোখের সামনেই ঘটছিল এসব জ্বালাও-পোড়াও, লুটপাট, ধর্ষণ ও নারী-পুরুষ ও শিশু নির্বিশেষে হত্যাকাণ্ড। এরপর রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেয়া হয় শহর এলাকা থেকে এবং তাদের সাধারণ জনগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় বিভিন্ন শিবিরে। আঞ্চলিক ও জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো হয় এ কাজে মৌনভাবে সম্মতি জানিয়েছে, নয়তো ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) মতো এ বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। এই এনএলডি-ই ২০১৫ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি বিজয় লাভের পর রোহিঙ্গারা এই দলটির কাছ থেকে অনেক কিছুই আশা করেছিল। তারা আশা করেছিল, এই দলটি অন্তত তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। কারণ, অং সান সু চি দুই দশক ধরে তার ঘরে অন্তরীণ ছিলেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে আন্দোলন করার জন্য; কিন্তু সে আশা রোহিঙ্গাদের পূরণ করেননি অং সান সু চি। কারণ এনএলডির ভিত্তি হচ্ছে এথনিক বার্মান এলাইটেরা। হয় আদর্শগতভাবে তাড়িত হয়ে, নয়তো কার্যসিদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করলে অং সান সু চি আজ এমনকি রোহিঙ্গা নামে একটি জাতিগোষ্ঠী আছে, সেই অস্তিত্বটুকু পর্যন্ত স্বীকার করতে চাচ্ছেন না। তিনি বাইরের কূটনৈতিক প্রচারণা চালান, কেউ যেন রোহিঙ্গাদের রোহিঙ্গা নামে অভিহিত না করেন। কারণ মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা নামের কোনো জাতিসম্প্রদায়ের অস্তিত্ব স্বীকার করে না।
কিন্তু রোহিঙ্গাদের ওপর যেসব অত্যাচার নিপীড়ন চালানো হয়েছে বা হচ্ছে এ সবই শান্তি, সহিষ্ণু ও অহিংস বৌদ্ধ ধর্মের সাথে কোনো মতেই যায় না। নিশ্চিতভাবে এসব গুণাবলি বৌদ্ধ ধর্মের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব গুণাবলি ছাড়া বৌদ্ধধর্ম অচল; কিন্তু বৌদ্ধধর্ম বা অন্য কোনো ধর্মকে যদি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের প্রকল্পের সাথে এক করে বাঁধা হয়, তখন তা নৈতিকতা রাজনীতির অন্যতম উপাদান হয়ে দাঁড়ায়। আজিম ইব্রাহিমের অভিমত হচ্ছেÑ থেরাবেদা বৌদ্ধধর্মকে আজ ভঙ্গুর করে তুলেছে রাষ্ট্রের এ ধরনের আচরণের মাধ্যমে। রাষ্ট্রের ধর্মের শক্তি নিহিত থাকে অন্য ধর্মের লোকদের নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে সুরক্ষা দেয়ার মধ্যে।
ওয়াদি যথার্থই বলেছেন, পাশ্চাত্যের যারা তথাকথিত ‘ওয়ার অন টেরোরিজম’ নামের ইসলামোফোবিয়ার সাথে জড়িত, তারা মিয়ানমারের ফ্যাসিবাদকেই সহায়তা করছে। এরা রোহিঙ্গা নিধনের বিষয়টিকে দেখে বার্মানদের আত্মরক্ষার বিষয় হিসেবে; কিন্তু বাস্তবে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অন্যান্য নিপীড়িত জনগাষ্ঠী থেকে ব্যতিক্রমী হয়ে তাদের ওপর পরিচালিত অত্যাচার, নিপীড়ন আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ্য করেই আসছে। আরাকানের রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি ২০১৬ সালে আবির্ভূত হয়ে মিয়ানমারে এলোপাতাড়ি কিছু পুলিশ ক্যাম্পে আক্রমণ চালিয়েছে, এমন অভিযোগে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সর্বসাম্প্রতিক রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ পরিচালনা করে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছেÑ শুধু দাতব্য কর্ম পরিচালনার বাইরে রোহিঙ্গাদের আর কী ধরনের সহায়তা দেয়া যেতে পারে। শরণার্থীরা চায় তাদের নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে। একই সাথে চায় নাগরিকত্ব, চলাফেরার স্বাধীনতা, ব্যবসায়-বাণিজ্যের স্বাধীনতাÑ আর দশজন নাগরিকের মতো। শত শত বছর ধরে বসবাস করে আসা রোহিঙ্গাদের এ এক অধিকার; কিন্তু শুধু বাড়িঘরে ফিরে যাওয়াটা তাদের জন্য অর্থহীন থেকে যাবে, যদি এরা নাগরিকত্ব না পায়, না পায় স্বাধীনভাবে চলাফেরার নাগরিক স্বাধীনতা ও অন্যান্য অধিকার। এসব স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে শুধু সে দেশে তাদের বাড়িঘরে পাঠালে তাদের ওপর নেমে আসবে অসহ্য দুঃসহ নির্যাতন-নিপীড়ন।
মিয়ানমারের বর্তমান মন-মানসিকতার পরিবর্তন আনা সম্ভব শুধু আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমেই। আজিম ইব্রাহিম এমনটিই মনে করেন। চীন ও রাশিয়া সম্প্রতি মিয়ানমারকে জবাবদিহিতায় আনার বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘে ভেটো দিয়েছে। চীন ও রাশিয়া যদি রোহিঙ্গাদের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা পালন না করে, তবে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ছাড়া এমনটিও আশা করা হয়েছিল মিয়ানমারের সমর্থক আসিয়ান দেশগুলো, ইইউ ও মুসলিম দেশগুলো এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে। আন্তর্জাতিক ঐক্যবদ্ধ চাপ ছাড়া রোহিঙ্গাদের মুক্তির কোনো উপায় নেই।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫