ঢাকা, সোমবার,১৮ নভেম্বর ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করুন

দেখা অদেখা

সালাহউদ্দিন বাবর

০৭ মে ২০১৮,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে খবরের শিরোনাম ছিল ‘হাজার কোটি টাকায়ও জলাবদ্ধতা কাটেনি, এক ঘণ্টা বৃষ্টিতে ডুবল রাজধানী’। গত মাসের শেষ দিকে বৃষ্টি হওয়ার পর জাতীয় দৈনিকের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘স্বস্তির বৃষ্টি এখন অনেকটাই অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে’। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজধানীতে জলাবদ্ধতায় সীমাহীন দুর্ভোগ দেখা দেয়। নগরীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলির কোথাও হাঁটুপানি কোথাও কোমর পানি জমে যায়। গত বর্ষায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, ডিএসসিসির মেয়র আর সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধানরা এক বছর সময় চেয়ে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারপর বৃষ্টি পানি দ্রুত সরাতে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প। এর মধ্যে খরচ হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। এ দিকে গত বছর বৃষ্টিতে যেসব এলাকা জলাবদ্ধতার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল, এবার বৃষ্টির শুরুতে সেখানে আগের মতো পানি জমতে দেখা যাচ্ছে। তা ছাড়া এখনো সব এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ড্রেনগুলো সংস্কার ও নির্মাণ শেষ হয়নি। এভাবেই অনেক প্রকল্প এখন ঢিমেতালে চলছে। সময়মতো প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় প্রতিটি প্রকল্পের নির্ধারিত ব্যয় বেড়ে যায়। জনগণের অর্থ এভাবে অপচয় করার দায়িত্ব কে নেবে। এ জন্য কাকে দোষী সাব্যস্ত করা হবে। আসলে কথা দিয়েও কেউ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না। রাজধানীকে বাসযোগ্য আধুনিক নগরী গঠন করার অঙ্গীকার করে সিটি করপোরেশনের মেয়রদ্বয় নির্বাচন করেছেন। আর নগরীর দ্রুত উন্নয়ন যাতে নিশ্চিত হয় সে জন্য করপোরেশন দু’ভাগ করা হয়েছিল। অথচ সে উদ্দেশ্য সফল হয়েছে বলে বলা যাবে না।এই জলাবদ্ধতাই শুধু ঢাকার সমস্যা নয়। আগে ঢাকায় বিনোদন পাওয়া যেত, এখন আর বিনোদন নেই। টিকে আছে আর বাড়ছে শুধু সমস্যা। বলতে গেলে ঢাকা এখন সমস্যার নগরী। ঢাকায় পার্কের সংখ্যা হাতেগোনা। যে পার্কগুলো রয়েছে সেগুলোর সৌন্দর্য হারিয়েছে। রাস্তায় হাঁটার মতো ফুটপাথ নেই। জনসংখ্যার আধিক্যে শ্বাস ফেলার স্থান নেই। রাস্তায় প্রতিনিয়ত যানজটে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এই মহানগরী। পৃথিবীর যে ক’টি দেশের রাজধানী বসবাসের জন্য নিকৃষ্ট, তার মধ্যে ঢাকা অন্যতম। রাজধানীতে মানুষের বাড়তি চাপ থাকা অস্বাভাবিক নয়। সব দেশেই এমন চিত্র। কিন্তু ঢাকা সঠিক পরিকল্পনায় গড়ে না ওঠায়, এর সমস্যা জটিল হয়ে পড়েছে। ঢাকা শহরের বাড়িঘর দালানকোঠা কোনোটাই পরিকল্পনা অনুসারে তৈরি করা হয়নি। ঢাকা মহানগরীর অর্ধেক জনসংখ্যা নারী হলেও এই বিষয়টি নগর পকিল্পনা ও উন্নয়নে নারীর প্রয়োজন সুযোগ সুবিধা ও আকাক্সার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় থাকে বলে মনে হয় না। নগর উন্নয়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রকল্প ডিজাইন, বাস্তবায়ন ইত্যাদি বেশির ভাগ কাজে নারীর সংখ্যা কম থাকায় নারীবান্ধব নগর তৈরি হচ্ছে না। ফলে রাস্তাঘাট, ফুটপাথ, মার্কেট, শপিংমল পরিবহন ব্যবস্থা, পাবলিক টয়লেট, পার্ক, উন্মুক্ত স্থানসহ গণপরিসর নারীদের ব্যবহার উপযোগিতা সীমিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। গণপরিসর ও নাগরিক সুবিধাগুলো ডিজাইন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নারীদের চাহিদা ও আকাক্সাকে বিবেচনা করা হলে নারী-পুরুষ সবার জন্য ভালো শহর হতে পারত। প্রতিটি আধুনিক শহরের পরিকল্পনা করার আগে এসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখা হয়। ঢাকার একটি পরিকল্পনা অবশ্য রয়েছে কিন্তু তা যেমন হালনাগাদ নয় তেমনি এটির প্রতি লক্ষ না রেখে ঢাকা প্রতিদিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভূমির মালিকদের ইচ্ছামতো ভূমি ব্যবহার হচ্ছে। ঢাকার উন্নয়ন পকিল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে বটে কিন্তু তাদের ভূমিকা নিয়ে কারো আগ্রহ নেই। ঢাকাসহ বাংলাদেশের শহর নগরের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু কোথাও কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনার অধীনে এসব জনপদ গড়ে উঠছে না। অথচ ভাবতে অবাক লাগে দেশের এসব বিষয়ে ভাবার, পরিকল্পনা প্রণয়নের এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সংস্থা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের কাজের ফল পরিলক্ষিত হয় না। এমন অবস্থা বিরাজ করলে কিভাবে নগরগুলো বাসযোগ্য জনপদে পরিণত হবে। সময় যাবে তার অপরিকল্পিত বিস্তার ঘটবে। আর ভবিষ্যতে নাগরিকদের দুর্ভোগ বাড়বে। ঢাকার আইনশৃঙ্খলা অত্যন্ত খারাপ। চুরি-ছিনতাই, খুন-গুম মিলিয়ে ঢাকা এখন এক অপরাধের নগরীতে পরিণত হয়েছে। এই শহরের শিক্ষাব্যবস্থা বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার মান নেমে গেছে, মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রয়েছে অভাব। শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার কোনো অবস্থান নেই। উপার্জনের স্বল্পতা, জীবন ধারণের পণ্যসামগ্রীর ঊর্ধ্বগতি আর রয়েছে বেকারত্ব। আসলে এই শহরের মানুষ এখন চরম হতাশার মধ্যে জীবনযাপন করছে। এসবের ফলে ঢাকা যেন চলছে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। অথচ নগরীতে ভালোভাবে গড়ে তোলার জন্য এতে দু’টি করপোরেশনে ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু এর সুফল তেমন লক্ষ করা যায়নি। সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে আপন ইচ্ছায় এই মহানগরী বেড়ে চলেছে। বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন শহরের ওপর নিরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, বাসযোগ্যতার সূচকে ঢাকার অবস্থান একেবারে তলানির দিকে ছুটছে। এ বিষয়ে সন্দেহ নেই যে, ঢাকা শহর বসবাসের দৃষ্টিতে এর অধিবাসীদের কাছে কোনো সুখকর স্থান নয়। তারপর জীবন ও জীবিকার কারণে অনেক অভিযোগ নিয়ে মানুষ জীবন পার করে দেয় এই শহরে। অথচ নগর হচ্ছে প্রগতির ইঞ্জিন ও সভ্যতার সূতিকাগার। নগর হলো নিত্যনতুন চিন্তার মহাসড়কের সংযোগস্থল। বুদ্ধিবৃত্তিচর্চা উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্থান। নগর প্রশাসনের উৎকর্ষ ঘটতে হবে, নগরভিত্তিক জীবনযাপনের ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ ঘটবে। মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে। একটি ভালো ও সার্থক শহর হতে গেলে যেসব নিয়ামক একটি শহরে থাকে তার অনেক কিছুই অনুপস্থিত অথবা অপ্রতুল রয়েছে এই রাজধানী ঢাকায়। তবে যে বিষয়গুলোর অভাব প্রকটভাবে সবার ওপর পড়ছে, তার মধ্যে আছে পরিবহনব্যবস্থার দুরবস্থা, পানি নিষ্কাশনের দুর্দশা, নি¤œবিত্ত ও নি¤œমধ্যবিত্তের মানসম্মত আবাসনের অভাব, সবুজ ও উন্মুক্ত স্থানের অভাব, মানসম্পন্ন অবকাঠামোর অভাব, শিক্ষা স্বাস্থ্য সেবাসহ অপ্রতুল নাগরিক পরিষেবা ইত্যাদি। একটি ভালো শহরের দূর লক্ষ্য থাকা অপরিহার্য। সেই লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি ভূমি ব্যবহার ও অবকাঠামো পরিকল্পনা থাকে। ঢাকা শহরের জন্য ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা থাকলেও সে অনুসারে পথ চলা হচ্ছে না। ঢাকায় খোলা ময়দান, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও সবুজের অভাব মানুষের বিনোদন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে দারুণভাবে ব্যাহত করছে। যার কারণে এই শহর তার আকর্ষণ হারাচ্ছে। এই শহরের যানজটের কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আমরা হয়তো অনেকেই জানি না, বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ যানজটের শহর হচ্ছে ঢাকা। একটি বহুজাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রণীত এবং প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ট্রাফিক ইনডেক্স-২০১৮তে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রকাশিত এ সূচকের তথ্য অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে শীর্ষ যানজটের শহরের তালিকায় উপরে রয়েছে ভারতের কলকাতা আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। এর আগে ২০১৭ সালেও ঢাকা একই অবস্থানে ছিল। তবে ২০১৬ সালে তৃতীয় ও ২০১৫ সালে এ অবস্থান ছিল অষ্টমে। এই তথ্য পর্যালোচনা করলে এটাই প্রতীয়মান হয়, যানজটের শহর হিসেবে ঢাকার অবস্থান ক্রমাগত নি¤œগামী হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যানজট নিরসনে গত কয়েক বছরে কিছুই করতে পারেনি। অথচ এ সময়ে শহরে বহু নতুন যান চলাচল শুরু করেছে। এ সূচক প্রণয়নে প্রতিবেদনে কয়েকটি উপসূচক ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সময়সূচক, সময় অপচয় সূচক, অদক্ষতা সূচক ও কার্বন নিঃসরণ সূচক। এর ভেতর সময়ের সূচক ও সময় অপচয় উপসূচকে অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে। জনসংখ্যার আধিক্য ও ঘনবসতিও এ ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে। অদক্ষতার সূচক মূলত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা নির্দেশ করে। অর্থাৎ ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কী প্রভাব ফেলছে তা বিবেচনা করা হয়েছে। অদক্ষতার সূচকে ঢাকা শহর রয়েছে শীর্ষে আর কার্বন নিঃসরণ সূচকে ৩২তম অবস্থানে রয়েছে। সময় সূচকের ক্ষেত্রে কোনো গন্তব্যে পৌঁছানোকে বোঝানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কর্মস্থল বা স্কুলে যাতায়াত সময়কে বিবেচনা করা হয়ছে। আর সময় অপচয় উপসূচকে অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে। জনসংখ্যার আধিক্য ও ঘনবসতি এ ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ঢাকা শহরে ন্যূনতম দূরত্বে কোনো গন্তব্যে পৌঁছতে গড়ে সময় লাগে ৬১ মিনিট। দুই বছর আগে যা ছিল ৫৮ মিনিট। ঢাকা শহরের যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি। প্রায় ৩৩ শতাংশ সড়ক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত গাড়ি। এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকায় যানজটের কারণে প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। বিশাল এই অপচয় রোধ করা যাচ্ছে না। তা ছাড়া ঢাকার মতো এত নি¤œমানের পাবলিক যানবাহন হয়তো আর কোনো দেশের রাজধানীতে নেই। এই সমস্যাকে নিয়ে প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষের বাস এই শহরে। তাদের খোলা নাকে রাস্তায় হেঁটে বা গাড়িতে করে যাওয়া কষ্টকর। নোংরা এই শহর, দূষিত বায়ু সব মিলিয়ে এক দুঃসহ অবস্থা। অথচ সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে চার দিকে নদীবেষ্টিত এই শহর একটি মনোরম শহরে পরিণত হতে পারত। অথচ ঢাকার চার পাশের নদী চরমভাবে দূষিত। পরিকল্পনা নিলে এখনো অবস্থা ফেরানো যায়। একসময় লন্ডনের টেমস নদী ছিল আজকের বুড়িগঙ্গার মতো দূষিত। সঠিক পরিকল্পনার ফলে সেই টেমস আজ হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। এখানে সে উদ্যোগ কোথায়। দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের এসব বিষয়ে কোনো লক্ষ নেই। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে বটে। তবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ব্যয়বহুল। সরকারি সুযোগ রয়েছে বটে তবে তা চাহিদার তুলনায় নিতান্ত স্বল্প। পৌনে দুই কোটি মানুষের এই শহরে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। সুযোগের এই স্বল্পতার কারণে নাগরিকদের ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসার দ্বারস্থ হতে হয়। কিন্তু নি¤œবিত্ত ও নি¤œমধ্যবিত্ত, যাদের সংখ্যা বিপুল তাদের চিকিৎসাসেবা নেয়াটা কষ্টকর। অথচ একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব সব নাগরিকের চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যা ঢাকায় নেই। ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র এবং এই নগরী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নির্বাচনের সময় এই শহরের উন্নয়নের জন্য হাজারো প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। এমন কিছু প্রতিশ্রুতিও তারা দিয়ে থাকেন, যা পূরণ করার এখতিয়ার তাদের নেই। এ কথার অর্থ এই যে, নিছক বাত কি বাত তারা এসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন, তা বাস্তবায়নের বিষয়টি তাদের চিন্তায় থাকে না। মানুষ ভুলিয়ে ভোট নেয়াই এ নিছক লক্ষ্য, যা দোষণীয় একটি বিষয়। এমনটি হচ্ছে বলে ঢাকার উন্নয়ন হয় না। দেশে যদি জবাবদিহির ব্যবস্থা না থাকে তবে এমন পরিণতি ঘটতেই থাকবে। বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় বেশি অভাব হচ্ছে জবাবদিহিতার। রাষ্ট্রীয়ব্যবস্থায় জবাবদিহিতার যে প্রক্রিয়ার বা যে প্রতিষ্ঠান সেটা এখন কার্যকর নেই। শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয় খোদ রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ পর্যন্ত এখন জবাবদিহিতার আওতায় নেই। এটা গোটা প্রশাসনের একটি ত্রুটি। এই মারাত্মক ত্রুটি নিয়েই প্রশাসনব্যবস্থা চলে আসছে। এতে রাজধানী শুধু নয়, গোটা দেশ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়বে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫