ঢাকা, সোমবার,১৮ নভেম্বর ২০১৯

বিবিধ

কাল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কালবৈশাখীসহ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে

বাসস

০৮ মে ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৩:২৪ | আপডেট: ০৮ মে ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৪:৩৭


প্রিন্ট
বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে

বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আগামীকাল বুধবার থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। আজ মঙ্গলবার সকালে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কম থাকলেও আগামীকাল থেকে খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর, মাদারী পুর ও শরীয়তপরে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। তবে কুমিল্লা, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও নারায়নগঞ্জসহ সিলেট, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের অনেক জায়গায় বৃষ্টি ও ছোট আকারের কালবৈশাখী ঝড় অব্যাহত থাকবে। সেই সাথে বিজলী চমকানোসহ বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস আজ বাসসকে জানান, আগামীকাল থেকে খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর, মাদারী পুর ও শরীয়তপুরসহ সারাদেশে বৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের অনেক জায়গায় বৃষ্টি ও ছোট আকারের কালবৈশাখী ঝড় অব্যাহত থাকবে।

আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ ও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরায় ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে শ্রীমঙ্গলে ২০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ নেকোনায় ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এসময় শ্রীমঙ্গলে ৫৮ মিলিমিটার ও চট্টগ্রামে ৫৬ মলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপ বিহার ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ অবস্থান করছে। এর বর্ধিতাংশ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

 

সারাদিন কালবৈশাখীসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে

হামিম উল কবির

নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে। আজ সারাদিন রবীনদ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার এ ক’টি চরণ হয়তো অনেকেই আওড়াবেন। বৈশাখে মেঘে ভরা আকাশের গর্জন ও বজ্র বিদ্যুৎ হয়তো আজ দেখবেন অনেকে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মোস্তফা কামাল পলাশ কানাডা থেকে জানিয়েছেন, আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে বাংলাদেশের আকাশের যে চিত্র দেখা গেছে তা পর্যবেক্ষণে বলা যায়, আজ সারা দেশে প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

একমাত্র রাজশাহীর আশপাশের কয়েকটি জেলা বাদে সারা দেশে সঞ্চালনশীল (কনভেকটিভ) মেঘের সৃষ্টি হওয়া শুরু হয়েছে। কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্রে বাংলাদেশের মানচিত্রের উপর যে সাদা-সাদা মেঘের ফোটা দেখা যাচ্ছে এই ধরনের মেঘকে আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়ে থাকে পপ-কর্ণ মেঘ। বাংলাদের প্রেক্ষিতে আমরা মুড়ি/খই মেঘও বলতে পারি। এই নামকরণ করার কারণ হলো গরম বালুর মধ্যে ভুট্টা বা চাল ছেড়ে দিলে যেমন করে ভুট্টা বা চাল ফুটে ভুট্টা/ধানের খই বা মুড়ি তৈরি হয় একইভাবে ভূ-পৃষ্ঠে সকাল বেলার সূর্যের আলো পড়ার সাথে সাথে কনভেকটিভ মেঘের সৃষ্টি হতে থাকে। আর এই কনভেকটিভ মেঘ হলো বজ্রবৃষ্টি হওয়ার প্রধান শর্ত।

আজ মঙ্গলবার সকাল বেলায়ই ঢাকা, বৃহত্তর ফরিদপুর, যশোর, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রংপুর, সিলেট, কুমিল্লা জেলার আশপাশের প্রতিটি জেলায় কনভেকটিভ মেঘের সৃষ্টি হওয়া শুরু হয়েছে। ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে ইতিমধ্যেই শক্তিশালী সঞ্চলণশীল মেঘের সৃষ্টি হয়েছে ও বজ্রপাত হচ্ছে। আগামী ১ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে উপরের প্রতিটি জেলায় বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই প্রবল। আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখলেই বা মেঘের প্রথম গর্জনটি শোনার পরে এক সেকেন্ডও দেরি না করে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করা উচিৎ। এই কালবৈশাখীর সময় বজ্রবিদ্যুৎ হতে পারে আজ। সাবধানে চলাফেরা না করলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মৃত্যুর কারণ হতে পারে বজ্রপাত।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫