ঢাকা, বুধবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৯

রাজশাহী

রাণীনগরে লোকসানে বর্গাচাষিরা

কাজী আনিছুর রহমান ,রাণীনগর (নওগাঁ)

০৯ মে ২০১৮,বুধবার, ১৯:৩৫


প্রিন্ট

নওগাঁর রাণীনগরের কৃষকরা পড়েছেন দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে। উঠতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের ভাল ফলন হলেও দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় লোকসানের মূখে পড়েছেন বর্গাচাষি কৃষকরা। ফলে লোকসানের বোঝা কাঁধে পড়ায় সোনালী হাঁসির পরিবর্তে চরম হতাশায় পড়েছেন তারা।
জানা গেছে,গত আমন মৌসুমে রাণীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় সাড়ে আট হাজার হেক্টর জমির আবাদী ধান সম্পন্ন পানির নিচে তলে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। এতে ব্যপক ক্ষতির মূখে পড়েন কৃষকরা। ওই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এলাকার কৃষকরা কোমড় বেঁধে মাঠে নামেন ইরি-বোরো ধান চাষে। কেউ গোয়ালের গরু,কেউ হাঁস-মূরগী আবার কেউ বা বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে আবার কেউবা বিভিন্ন সমিতি থেকে সুদের উপর টাকা নিয়ে ধান রোপন করেন। প্রথম দিকে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং তেমন রোগ বালায় না থাকায় প্রতিটি জমিতে ধান খুব ভাল হয়েছিল। তবে ধান পাকার সময় শেষের দিকে ব্লাষ্টের আক্রমনের কারনে কিছু কিছু এলাকায় ধানের বেশ ক্ষতিও হয়েছে। ঠিক যে সময় কৃষকরা ধান কেটে ঘড়ে তুলবে সেই সময়েই নেমে আসে দূর্যোগ পূর্ণ আবহাওয়া । এতে ভারী বৃষ্টি,দমকা হাওয়ার সাথে পরতে থাকে শিল। এতে কৃষকরা চরম আতংক আর উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে ধান ঘড়ে তুলতে থাকে। এসময় ঝড় হাওয়া আর বৃষ্টির কারনে অধিকাংশ জমির ধান মাটিতে পড়ে যায় । এছাড়া বৃষ্টির পানিতে এলাকার শতাধীক হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলে যায় । এতে কৃষকরা আরো বেকায়দায় পড়ে যান। তবে ধান ঘড়ে নয়,উঠান পর্যন্ত তুলতে পারলেও স্যাঁত সেঁতে থাকার কারনে বাজারে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারছেননা কৃষকরা । অনেক কৃষকরা জানান, তাদের মারাই করা ধানে গাছ উঠে গেছে। চলতি মৌসুমে সরকারীভাবে ধান ক্রয়ের মূল্য প্রতিমন এক হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ থাকলেও গত ক’দিন ধরে ধানের মোকাম হিসেবে খ্যাত আবাদপুকুর হাটে ৬ শত ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ধানের রকম ভেদে সর্বোচ্চ ৮ শত ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে । ধানে গাছ উঠায় এবং অতিরিক্ত ভিজে থাকায় অনেক ধান অবিক্রিত অবস্থায় পরে আছে কৃষকের উঠানে। কৃষকরা জানান,চলতি মৌসুমে এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে ধান উৎপাদন করতে অঞ্চল ভেদে জমির মালিকদের খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা। তবে বর্গাচষীদের ক্ষেত্রে জমির বর্গাংশসহ খরচ পরেছে প্রায় ১৬ থেকে ১৯ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে বর্তমানে ধানের ফলন হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ মন পর্যন্ত। এতে ধান বিক্রি করে জমির মালিকরা কিছু লাভবান হলেও লোকসানের মূখে পড়েছেন বর্গাচাষীরা । ফলে সোনালী স্বপ্নের পরিবর্তে ঋনের বোঝা ঘাড়ে পড়ায় এবং গত আমন মৌসুমের ক্ষতি এবং উঠতি বোরো ধানের ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে উঠবেন তা নিয়ে চরম হতাশা ও দিশে হারা হয়ে পরেছেন তারা।
উপজেলার মাধাইমুড়ি গ্রামের বর্গাচাষী কৃষক আনন্দ চন্দ্র জানান, তিনি কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ তুলে প্রায় তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে বোরো আবাদ করেছেন। কিন্তু দূর্যোগ পূর্ণ আবহাওয়ার কারনে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে না পারায় প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় আড়াই থেকে চার হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। করজগ্রামের কৃষক হামিদুলসহ এলাকার অন্যান্য বর্গাচাষী কৃষকরা জানান,ধানের ফলন ভাল হলেও আবহাওয়ার কারনে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় খুব লোকসান হয়েছে তাদের । কিভাবে এ লোকসান কাটিয়ে উঠবে তা নিয়ে চরম হতাশায় রয়েছেন তারা।
এব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা এএসএম গোলাম সারোওয়ার জানান,চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১৮ হাজার ৮শত ৭৫ হেক্টর জমিতে ধান রোপন করা হয়েছিল। তাতে ধানের উৎপাদন লক্ষ মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে প্রায় এক লক্ষ দশ হাজার সাত শত এক মেট্রিকটন। ধানের ফলনের সাথে কৃষকরা দাম ভাল পেলে অনেক লাভবান হতেন বলে জানান তিনি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫