ঢাকা, সোমবার,২২ এপ্রিল ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

একজন মাহাথিরের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

১১ মে ২০১৮,শুক্রবার, ১৯:৪৬ | আপডেট: ১৩ মে ২০১৮,রবিবার, ১৫:২৩


 ড. আবদুল লতিফ মাসুম

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

প্রিন্ট

ইতিহাস গড়লেন মাহাথির। সাধারণ নির্বাচনে অসাধারণ জয়ের পর মালয়েশিয়ার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। ১০ মে ২০১৮ কুয়ালালামপুরের ঐতিহ্যবাহী ইস্তানা নেগারা রাজপ্রাসাদে এ শপথ অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর আবার তিনি প্রতিষ্ঠিত হলেন মালয় জাতির কর্ণধার হিসেবে। তার বয়স এখন ৯২। সম্ভবত তিনিই বিশে^র সবচেয়ে প্রবীণ রাষ্ট্রনায়ক। এর আগে একটানা প্রায় ২২ বছর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জলাবদ্ধ কৃষিক্ষেত থেকে তিনি মালয়েশিয়াকে রূপান্তরিত করেছেন শিল্পরাষ্ট্রে।

বিশ্বে ১৭তম বৃহৎ বাণিজ্যিক দেশে পরিণত হয় মালয়েশিয়া। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি সুশাসন, ন্যায়নীতি, দেশপ্রেম, অনন্য সাধারণ দূরদৃষ্টি দিয়ে মালয়েশিয়াকে পরিণত করেছেন ‘উদীয়মান ব্যাঘ্রে’। এই দীর্ঘ সময়ের কারণে তিনি অভিযুক্ত হয়েছেন একনায়কত্বে, স্বেচ্ছাচারিতায় এবং ক্ষমতার মোহগ্রস্তে। এসবকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে এবং আন্দোলন ব্যতিরেকে ২০০৩ সালে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান। সমসাময়িক পৃথিবীতে এ ঘটনা বিরল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় ক্ষমতার স্বাদ নেতা-নেত্রীদের মোহগ্রস্ত করে তোলে। তারা চান বংশপরম্পরায় উত্তরাধিকারের শাসন চিরস্থায়ী করতে। আর মাহাথির চাইলেন নিজ হাতে বিকল্প নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে। তিনি বিশ্বাস করলেন তারই রাজনৈতিক গুরু তুন আবদুর রাজাকের সন্তান নাজিব রাজাককে। মাহাথির অনুসৃত আইনের শাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার বিধিব্যবস্থা ক্রমেই ক্ষয়প্রাপ্ত হলো। ব্যক্তিগত শাসন এবং কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা তাকে গ্রাস করল। বিরাট ব্যক্তিগত দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন নাজিব রাজাক। সত্যকে মিথ্যা করার নানা ধরনের কারসাজি দৃশ্যমান হলো। নিজের রাজনৈতিক শিষ্যকে পরামর্শ ও সংশোধনের সুযোগ দিলেন মাহাথির। কিন্তু কোনো কিছুতেই যখন কিছু হলো না, তখন রাজপথে নেমে এলেন তিনি। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, যাকে তিনি ক্ষমতার আমানত অর্পণ করেছিলেন, তার হাতে নানা ধরনের নিগ্রহের শিকার হলেন তিনি। জনগণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাচার, দুর্নীতিবাজ ও জুলুমকারীদের কবর রচনা করেছে।

অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়ার এই ১৪তম সাধারণ নির্বাচনে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের রাজনৈতিক জোট ‘বারিসান ন্যাশনাল’-বিএন কে হারিয়ে মাহাথিরের নেতৃত্বাধীন ‘পাকাতান হারাপান’ জোট সংখ্যাগরিষ্ঠাতা অর্জন করে। একনাগাড়ে ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে শাসনকারী এই জোট প্রথমবারের মতো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে বিতাড়িত হলো। আনুষ্ঠানিক ফলাফলে জানা গেছে, মাহাথিরের নেতৃত্বাধীন জোট পার্লামেন্টে ১২২টি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্য দিকে নাজিব রাজাকের ‘বারিসান ন্যাশনাল’ পেয়েছে ৭৯টি আসন। উল্লেখ্য, পার্লামেন্টের মোট আসন সংখ্যা ২২২। সরকার গঠনের জন্য সংবিধান অনুযায়ী ১১২টি আসন প্রয়োজন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো বারিসান ন্যাশনালের মাধ্যমেই মাহাথির প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এখন তার হাতেই বারিসানের ‘চিরস্থায়ী’ শাসনের অবসান ঘটল। ১৯৫৭ সালে ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর থেকে বারিসান ন্যাশনাল অব্যাহতভাবে ক্ষমতা ভোগ করেছে। নাজিব রাজাকের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে সব পথের সব মতের সব দল ও ব্যক্তিত্ব একাকার হয়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে মাহাথিরকে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। তখন মাহাথির বলেছিলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারই তার দায়িত্ব। তিনি বেশি দিন ক্ষমতায় থাকবেন না। আনোয়ার ইব্রাহিমকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করে তিনি বিদায় নেবেন। নির্বাচনী ঘোষণায় প্রথম দুই বছর মাহাথির এবং পরবর্তী তিন বছর আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের কথা। স্মরণ করা যেতে পারে যে, এই আনোয়ার ইব্রাহিম ছিলেন মাহাথিরের উপপ্রধানমন্ত্রী। আকস্মিকভাবে তাকে বরখাস্ত করেন মাহাথির মোহাম্মদ। তখন তাকে হয়তো ভুল বুঝেছিলেন তিনি। এখন তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বার্থে তার সহযোদ্ধা হিসেবে গ্রহণ করলেন। আর ঘুরে দাঁড়ালেন তার নিজের জোট এবং একসময়ের রাজনৈতিক সহকর্মী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে। কী ছিল সে বিশেষ কারণ যার জন্য এই প্রয়াস? মাহাথির এর উত্তরে বলেন, ‘যে রাজনৈতিক দল দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়, সেই দলে থাকা লজ্জার।’ তাই বিরোধী পক্ষের হয়ে দুর্নীতিবাজদের পতনকে অনিবার্য করে তুলেছেন তিনি। ঐতিহাসিক এ বিজয়ের পর সাংবাদিকদের কাছে মাহাথির বলেন, ‘কোনো প্রতিশোধ নিতে চাই না। চাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে।’

মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনে কখনোই কোনো ব্যাপক ধরনের কারচুপি পরিলক্ষিত হয়নি। এ নির্বাচনেও কারচুপির তেমন কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। বিগত নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন জোটের জনপ্রিয়তা হ্রাসের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছিল। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার সাধারণ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোট পেয়েছিল বিরোধী জোট। তবে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় আসন না পাওয়ায় তারা ক্ষমতায় আসতে পারেনি। পরিবর্তনের জন্য জনগণের আকাক্সক্ষা ক্রমেই জোরদার হচ্ছিল।

এর আগে ক্ষমতাসীন নাজিব রাজাক আমলাতন্ত্র বা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার কোনো অপচেষ্টা করেননি। কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের পক্ষে একটানা ৬৬টি বছর ক্ষমতায় থাকা বিস্ময়কর। তবে এ বিস্ময়ের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক সমঝোতা বা রাজনৈতিক ঐকমত্য (ঘধঃরড়হধষ ঈড়হংবহংঁং)। ধর্মে বর্ণে ও গোত্রে বহুধাবিভক্ত মালয়েশিয়ার গরিষ্ঠ মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল শাসক জোট ছিল বারিসান ন্যাশনাল। বস্তুত ব্রিটিশ ঔপনেবেশিক আমলে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে যে ঐক্যের কাঠামো তৈরি হয়েছিল তাকে ‘সতত সমঝোতা’য় পরিণত করতে সক্ষম হন মালয়েশিয়ার পিতৃ পুরুষরা। মাহাথির মোহাম্মদ তার আত্মজীবনী ‘এ ডক্টর ইন দ্যা হাউজ’ এ অকপটে স্বীকার করেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের জ্ঞান সম্পর্কে আমি লিখেছি, যারা এমন একটি রাজনৈতিক পদ্ধতি গড়ে তুলেছিলেন যার সাহায্যে একটি জটিল সমাজে জন্মগতভাবে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো গণতান্ত্রিকভাবে ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করতে পেরেছে দেশ।’

মাহাথির মোহাম্মদ বিশ্বে নন্দিত রাজনীতিবিদদের একজন। তাকে সফল রাষ্ট্রনায়ক বলে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্রের অনুশীলন ও অনুকরণ নিয়ে পাশ্চাত্যে যখন নেতিবাচক ধারণা তখন মালয়েশিয়ায় একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। মাহাথির মোহাম্মদের ভাষায়, ‘বর্তমান উন্নয়নশীল বিশ্বে সর্বাধিক উন্নত দেশগুলোর মধ্যে একটি মালয়েশিয়া। সে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে আলোকপাত করে দরিদ্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ধনী দেশগুলোর অন্যায়-অবিচারের ওপর। ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়াই সবচেয়ে বেশি সোচ্চার।’ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তার এ ভূমিকার সাথে সাথে নিজ দেশেও দারিদ্র্যনিপীড়ন ও অনাচারের বিরুদ্ধে রয়েছে তার অব্যাহত সংগ্রাম। পাশ্চাত্য তাকে কখনো কখনো বিরূপ ব্যক্তি, বর্ণবাদী, দাম্ভিক এবং ইহুদিবিরোধী ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আন্তর্জাতিক ভাষ্যকারেরা তাকে ‘তৃতীয় বিশ্বের ও উদারপন্থী ইসলামের প্রেরণাদায়ক, নির্ভীক ও স্পষ্টভাষী রক্ষক’ মনে করেন। ডা: মাহাথির তার বিগত শাসনের প্রতিটি বাঁকে সৃজনশীলভাবে ও প্রাচ্যের পথ ও পদ্ধতিতে নতুন এক মূল্যবোধ ও শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। তৃতীয় বিশ্ব তাকে দেখে একজন সফল স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে। তিনি সেই দুর্লভ নেতা যিনি তৃতীয় বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রেরণা জুুগিয়েছেন।

তুন ডা: মাহাথির মোহাম্মদ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের কাছেও প্রেরণার অফুরস্ত উৎস। মালয়েশিয়ায় এই গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এ দেশে যারা গণতন্ত্রের জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করছেন তাদের কাছে একটি মডেল বলে অবশ্যই বিবেচিত হবেন। গোটা বিশ্বেযখন বিকারগ্রস্ত ব্যক্তিতন্ত্রের প্রবল প্রতাপ, তখন মালেয়েশিয়ায় তার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিজয় এ দেশের গণতন্ত্রের আন্দোলন সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করবে। ট্রাম্প পুতিন কিংবা কিম যখন শক্তি, প্রতারণা ও মিথ্যাচারকে তাদের বিজয়ের বাহন হিসেবে পরিণত করেছে, তখন গণতন্ত্রের মাধ্যমে সরকার বদলের ধরন সর্বত্র একটি উদাহরণ হিসেবে গৃহীত হবে। মালেয়েশিয়ায় শক্তিধর নাজিব রাজাক কালো আইন ও কালো তালিকা করে বিরোধী দলকে কুপোকাত করতে চেয়েছেন কিন্তু সম্মিলিত জনতার শক্তি তা রুখে দিয়েছে। ক্ষমতাসীনরা মালয়েশিয়ার জনগণের পক্ষে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করেছে। চীনা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের ব্যবহার করতে চেয়েছে গরিষ্ঠ মালয় জনগণের বিরুদ্ধে। অপর পক্ষে মাহাথির তাদের অভিন্ন রাষ্ট্র কাঠামোয় একীভূত করে জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত করেছেন। এই মধ্যম জাতীয় ঐক্যের নীতি মাহাথিরের বিজয়কে এগিয়ে নিয়ে গেছে। মাহাথির মোহাম্মদের সাথে একীভূত হয়েছে নিপীড়নবিরোধী জনগণ। তিনি ঘোষণা করেছেন চাঁদাবাজি বন্ধ করবেন, দুর্নীতি দমন করবেন এবং বন্ধ হওয়া ছাত্র ঋণ আবার চালু করবেন। বিদেশী বিনিয়োগে দুর্নীতির অবসান ঘটাবেন। বন্ধুত্বের নামে যেসব দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও বিনিয়োগ হয়েছে সেসবকে অস্বচ্ছ ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করেন মাহাথির। নাজিব উন্নয়নের জোয়ার ও প্রবৃদ্ধির উচ্চ হারের দোহাই দিয়ে গণতন্ত্রকে অবদমিত করেছেন। আর মাহাথির স্বচ্ছতা, সততা এবং জনস্বার্থের কথা বলেছেন। ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হওয়ায় মালেয়েশিয়ার জনগণের পক্ষে সরকারের বিপক্ষে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

মাহাথিরের নির্বাচনী প্রচারণা একপর্যায়ে স্থগিত করে দেয়। তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় ও আন্দোলনের মাধ্যমে এসবের মোকাবেলা করেন। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, আনোয়ার ইব্রাহিম ছিলেন তার বিশ^স্ত মিত্র। পরে তিনি রাজনৈতিক শত্রুতে পরিণত হন। শুধু গণতন্ত্রের স্বার্থে তিনি আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে চূড়ান্ত ঐক্য গড়ে তোলেন। আনোয়ার এখন জেলে আছেন। জুন মাসে তার পাঁচ বছর কারাবাস শেষ হওয়ার কথা। মাহাথিরের রাজনৈতিক মহত্বে তিনি হয়তো শিগগিরই বেরিয়ে আসবেন। শিগগিরই তিনি হয়তো কেবিনেটে যোগদান করবেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইব্রাহিমকে একবার শাস্তি দিয়ে তিনি যদি ভুল করে থাকেন, এভাবেই তার প্রায়শ্চিত্য করলেন।

মালেয়েশিয়ার ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীতি, সমাজনীতি ও ধর্মীয় অবস্থান বিবেচনা করলে বাংলাদেশের সাথে এমনকি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিবেচনায় অপূর্ব মিল রয়েছে। বাংলাদেশের জোট-বিজোটের রাজনীতির সাথেও প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। মালেয়েশিয়ার মতো বাংলাদেশেও গণতন্ত্রের আন্দোলন-সংগ্রাম চলছে। পার্থক্য হচ্ছে যে সে দেশে ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরণের স্বার্থে নির্বাচনব্যবস্থাকে তছনছ করে দেয়নি। বাংলাদেশে মাহাথির মোহাম্মদের মতো সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নেই বটে, তবে আমাদের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে রয়েছে একদল পরিপক্ব, অভিজ্ঞ ও ত্যাগী রাজনৈতিক নেতা। মাহাথির যেমন গণতন্ত্রের স্বার্থে বৈপরিত্য সত্ত্বেও একক ঐক্য গড়ে তুলতে পেরেছেন, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের ‘সমষ্টিগত রাজনৈতিক নেতৃত্ব (Collective Political Leadership) একটি অনিবার্য জনগণ-আকাক্সক্ষা। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সাম্প্রতিক ঐক্য প্রক্রিয়া এবং সিভিল সোসাইটির ভূমিকা আশার সঞ্চার করার মতো ঘটনা। ঐক্যের পথ ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার অবকাশ থাকল। জনগণ বিশ^াস করে এককভাবে হোক অথবা সমষ্টিগতভাবে হোক এ মুহূর্তে একজন মাহাথির মোহাম্মদের আগমন, আবির্ভাব ও প্রকাশ অনিবার্য। ১৬ কোটি মানুষের এই দেশ সে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে।

লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫