ঢাকা, বুধবার,২০ নভেম্বর ২০১৯

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য

ব্যাংককে হটিয়ে প্রকৌশল খাত লেনদেনের শীর্ষে

বছরের টানা দরপতনে রেকর্ড পুঁজিবাজারে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১৩ মে ২০১৮,রবিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

চলতি বছরের টানা দরপতনের রেকর্ড গড়েছে পুঁজিবাজার। গত সপ্তাহের দুই কর্মদিবসসহ একটানা সাতটি কর্মদিবসেই পুঁজিবাজারে এ দরপতন ঘটে। বছরে এভাবে একটানা সাত দিন আর দরপতনের ঘটনা ঘটেনি। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে পাঁচ দিন টানা পতনের পর ষষ্ঠদিনেই ঘুরে দাঁড়ায় পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বাজার আচরণের এ অস্বাভাবিকতার কোনো কারণ খুঁজে না পেলেও আরও পতনের আশঙ্কা করছেন।
গত ৩০ এপ্রিল থেকেই পুঁজিবাজরে সূচকের অবনতির শুরু। গত বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। এ সময় দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২৬ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট হারায়। ৩০ এপ্রিল ৫ হাজার ৮১৩ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি গত বৃহস্পতিবার দিনশেষে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫৮৭ দশমিক ২১ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসই -৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে ৯৮ দশমিক ২৮ ও ৩৬ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট।
সূচকের এ অবনতির প্রভাব পড়ে ডিএসইর বাজার মূলধনে। এ সময় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারায় পুঁঁজিবাজারটি। ৩০ এপ্রিল পুঁজিবাজারটির মূলধন ছিল ৪ লাখ ৪ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা যা গত বৃহস্পতিবার দিনশেষে নেমে আসে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকায়।
বাজারের টানা দরপতন সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএসইর বেশ কয়েকজন ট্রেক হোল্ডার হতাশা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এতদিন বলা হচ্ছিল কৌশলগত বিনিয়োগকারীর বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়ায় বাজারে দরপতন ঘটছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা গত ৩ এপ্রিল এটি চূড়ান্ত করে। কিন্তু এর পর একদিনের জন্যও ভালো কাটেনি পুঁজিবাজারের। প্রতিদিনই সকালে সূচকের উন্নতি ঘটা বাজারে শেষদিকে বিক্রয়চাপের শিকার হয়েছে। বাজার আচরণের যে গতি-প্রকৃতি তাতে এ দরপতন আরও দীর্ঘায়িত হওয়াও অসম্ভব নয়। তারা এর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বলতে পারেননি।
তবে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কারণ বাজারে টানা দরপতন ঘটলেও এ সময় ডিএসইর গড় লেনদেন বরাবরই ৫০০ কোটির ওপরে ছিল, যা বাজারে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে। আর সূচকের টানা অবনতির কারণ হিসেবে তারা ব্যাংকিং খাতের দরপতনের ভূমিকাই বেশি বলে মনে করেন। তাই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে একপর্যায়ে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে এমনটিও মনে করেন তারা।
এ দিকে সমাপ্ত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যাংকিং খাতকে পেছনে ফেলে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে প্রকৌশল খাত। বাজারটির মোট লেনদেনের ২১ শতাংশ অবদান ছিল এই খাতে। লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, গত সপ্তাহে প্রকৌশল খাতে পড়ে ১০১ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
১৬ শতাংশ লেনদেন করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। সপ্তাহজুড়ে এই খাতে গড়ে ৮০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১২ শতাংশ লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। লেনদেনের শীর্ষে থাকা অন্য খাতগুলোর মধ্যে ওষুধ-রসায়ন খাতে ১১ শতাংশ, বিবিধ খাতে ১০ শতাংশ, জ্বালানি খাতে ৯ শতাংশ, আইটি, খাদ্য ও আর্থিক খাতে ৩ শতাংশ, জীবনবীমা ও ট্যানারি, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, টেলিকমিউনিকেশন খাতে ২ শতাংশ করে লেনদেন হয়েছে। এছাড়া অন্য খাতগুলোর মধ্যে সাধারণ বীমা, সেবা-আবাসন, ভ্রমণ-অবকাশ খাতে ১ শতাংশ করে লেনদেন হয়েছে।
একই সূত্র অনুসারে বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দর কমেছে ১৫ খাতে। দর বেড়েছে ৫ খাতে। আলোচ্য সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে ব্যাংক খাতে। এই খাতে ৫.৫ শতাংশ দর কমেছে। এরপরে পাট খাতে ৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ দর কমেছে।
অন্য খাতগুলোর মধ্যে সিমেন্ট খাতে দশমিক ৩০ শতাংশ, সিরামিক খাতে ১.৮৮ শতাংশ, খাদ্য-আনুষঙ্গিক খাতে ১ দশমিক ১০ শতাংশ, সাধারণবীমা খাতে ১.৩৮ শতাংশ, জীবনবীমা খাতে ২.৮৭ শতাংশ, বিবিধ খাতে ২.০৭ শতাংশ, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে দশমিক ১৩ শতাংশ দর কমেছে। এ ছাড়া আর্থিক খাতে ২.৫০ শতাংশ, কাগজ খাতে ৩.৫১ শতাংশ, ওষুধ-রসায়ন খাতে ১.১০ শতাংশ, ট্যানারি খাতে দশমিক ৫৭ শতাংশ, টেলিকমিউনিকেশন খাতে দশমিক ৪ শতাংশ ও ভ্রমণ-অবকাশ খাতে ১.৮৮ শতাংশ দর কমেছে।
অন্য দিকে দর বেড়েছে ৫ খাতে। সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ৪.৮৫ শতাংশ, প্রকৌশল খাতে ২.৭২ শতাংশ, জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতে ২.৬২ শতাংশ, আইটি খাতে ৩.০৩ শতাংশ ও বস্ত্র খাতে দশমিক ৯৩ শতাংশ দর বেড়েছে।
আগের সপ্তাহের মতো গত সপ্তাহেও ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লি:। ১৩৭ কোটি ২৭ লাখ ৭২ হাজার টাকায় কোম্পানিটির ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৯১ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়, যা ছিল ডিএসইর সপ্তাহিক লেনদেনের ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। ১০৪ কোটি ৪৮ লাখ ৫২ হাজার টাকায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ ২৩ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ছিল লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে। সপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল ইউনাইটেড পাওয়ার, বিবিএস ক্যাবলস, স্কয়ার ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, নাভানা সিএনজি, ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং মিলস, বিএসআরএম লি: ও ডরিণ পাওয়ার জেনারেশন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫