ঢাকা, সোমবার,২২ এপ্রিল ২০১৯

জাতীয়

রাজধানীর মুগদায় নার্সিং ইনস্টিটিউট উদ্বোধন

চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ব্যাংকক দৌড়াতে হবে কেন : প্রধানমন্ত্রী

বাসস

১২ মে ২০১৮,শনিবার, ২৩:১১


প্রিন্ট
এনআইএএনইআর-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কোইকার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট প্রদান

এনআইএএনইআর-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কোইকার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট প্রদান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দেয়ার ওপর গুরুত্ব আরওপ করে রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ নিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা বিষয় আমরা দেখি রোগ নির্ণয়ের (ডায়াগনসিস) ব্যাপারে কেন যেন কোথায় একটা বিরাট ভুল হয়ে যায়। যদিও যন্ত্রপাতি এখন অনেক উন্নত। তবে সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে।’


প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে রাজধানীর মুগদায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (এনআইএএনইআর) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।


শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক মডার্ন মেশিন এখন, সেগুলো চালানোর মতো বা সেগুলো রিডিং করার মতো বা সেগুলো দেখার মতো সে ধরনের স্কিলড মানুষ তৈরি করা প্রয়োজন। সেখানে কী করতে হবে, আমার মনে হয় আপনারা সেভাবেই ব্যবস্থা নেবেন। আপনারা উদ্যোগ নিয়ে কী করতে হবে বলেন, আমরা করে দেবো। কোনো অসুবিধা নাই,’ আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, এ বিষয়টার সুরাহা হওয়া দরকার নইলে আমাদের একজন কেউ রোগী হলেই দৌড়াতে হবে সিঙ্গাপুর, দৌড়াতে হবে ব্যাংকক, থাইল্যান্ড, ইন্ডিয়া অমুক জায়গায়, কেন? আর তারা ভালোভাবে যদি পারে, আমরা কেন পারব না? এ প্রশ্নটাই বারবার আমার মনে হয়।


আমাদেরও পারতে হবে। সমমানের সমমর্যাদার চিকিৎসাসেবা আমরাও দিতে পারব। সেই অভিজ্ঞতা, সেই শক্তিটা আমাদের অর্জন করতে হবে,’ বলেন তিনি।


স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, কোইকা সহসভাপতি কিয়াংগুন সুল, কোইকার সাউথ এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর মহাপরিচালক ইয়ো ইয়ং কিং অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো: সিরাজুল হক খান স্বাগত বক্তৃতা করেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে সেবা দেয়ার মনোভাবটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা। কাজেই আমাদের নার্স, ডাক্তার এবং সংশ্লিষ্ট যারা তাদের মনে সব সময় এ কথাটাই থাকতে হবেÑ মানুষ যখন রোগী হয়ে আসে তখন ওষুধের থেকেও ডাক্তার নার্সদের ব্যবহার, তাদের কথাবার্তা এবং তাদের সহানুভূতিশীল মনোভাব থেকেই কিন্তু অর্ধেক রোগ ভালো হয়ে যেতে পারে। আর আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধটা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশে রোগীর তুলনায় ডাক্তার ও নার্সদের অপ্রতুলতার বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়েই ডাক্তারদের একটু সংযত হওয়ার পরামর্শ দেন।


চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সরকার হাসপাতাল করে দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এসব হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দেন।


অনুষ্ঠানে মুগদায় নার্সিং ইনস্টিটিউট হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে একটি মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি স্থাপনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী দাবি তুললে প্রধানমন্ত্রী সাবের চৌধুরীকেই এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আহ্বান জানান।


বিভাগীয় শহরগুলোতে সরকারি উদ্যোগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় করা হচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও এখন বেসরকারি খাতটাকেই উন্মুক্ত করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এখানে বেসরকারি উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় করা হলে সব রকম সহযোগিতা করবেন বলেও জানান।


রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাসেবায় নার্সিং একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সেবা হওয়া উচিত বিশ্বমানের।

এ দর্শন থেকেই ২০১০ সালে দণি কোরিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফরের সময় আমি কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের নার্সিং শিা ও সার্ভিসের উন্নয়নে সহযোগিতার অনুরোধ জানাই। কোরিয়া সরকার কোইকার (কেওআইসিএ) মাধ্যমে বাংলাদেশে নার্সিং শিার মান উন্নয়নে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (এনআইএএনইআর) নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।


তিনি বলেন, জানুয়ারি ২০১৬ থেকে মাস্টার্স ইন নার্সিং ও নার্সিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ে রিসার্চ কোর্স চালু করা হয়। সে জন্য প্রধানমন্ত্রী কোরিয়া সরকার এবং কোইকাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।


তিনি বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ৪৪৫ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ প্রদান করেছি। আরও পাঁচ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং প্রায় এক হাজার ২০০ জন মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


স্বাস্থ্যসেবা বিস্তৃৃত করায় তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২ নম্বর ইউনিট, কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতাল এবং জাতীয় নাক, কান, গলা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম চালু, গোপালগঞ্জে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চু ইনস্টিটিউট, আগারগাঁওয়ে নিউরো সায়েন্স হাসপাতাল, বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে বার্ন ইউনিট স্থাপন, হাসপাতালগুলোতে টেলিমেডিসিন সেবা সম্প্রসারণ এবং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং গাজীপুরে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ স্থাপন করা হয়েছে।


চাঁনখারপুলে বিশেষায়িত ও অত্যাধুনিক শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট নির্মাণ কাজও শেষপর্যায়ে বলেন তিনি।


তিনি বলেন, তার সরকার গত ৯ বছরে নতুন ১৩ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে এবং আরও ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের ল্েয প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী ১২ মে আধুনিক নার্সিংয়ের প্রবর্তক মহীয়সী নারী ফোরেন্স নাইটিংগেলের জন্মদিন হওয়ায় তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।


বক্তৃতার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান।


তিনি বলেন, ‘আজকে স্বাধীন জাতি হিসেবে আমরা মনে করি বিশ্ব দরবারে একটা উচ্চমর্যাদা পেয়েছি। স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর মাধ্যমে পৃথিবীর ৫৭তম দেশ হিসেবে এখন আমরা অবস্থান করছি।’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫