ঢাকা, মঙ্গলবার,২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নিত্যদিন

ইসলামি স্থাপত্য

সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদ

১৪ মে ২০১৮,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট


আজ তোমরা জানবে সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদ সম্পর্কে । এটি আধুনিক ইসলামিক স্থাপত্যের এক চিত্তাকর্ষক উদাহরণ। ব্রুনাইয়ের ২৮তম সুলতানের নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে। মসজিদে ব্যবহার করা পাথর, কার্পেট প্রভৃতি আনা হয়েছিল ইতালি, চীন, ব্রিটেন ও সৌদি আরব থেকে। লিখেছেন মুহাম্মদ রোকনুদ্দৌলাহ্
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে জাঁকালো মসজিদ-দালানগুলোর একটি হিসেবে সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদের সুনাম রয়েছে। এটি শুধু ইবাদতখানাই নয়, একটি দর্শনীয় স্থানও। এটি পর্যটক-আকর্ষক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। ব্রুনাই নদীর তীরের কাছে একটি কৃত্রিম হ্রদে মসজিদটির অবস্থান। একে বৃত্তাকারে ঘিরে আছে কামপং আয়ার নামে একটি জলগ্রাম।
এ মসজিদ আধুনিক ইসলামিক স্থাপত্যের এক চিত্তাকর্ষক উদাহরণ। এটি পরিদর্শনে মনের ওপর গভীর ছাপ ফেলে। ব্রুনাইয়ের মানুষের কাছে মসজিদটি ওই দেশের প্রধান ল্যান্ডমার্ক। রাজধানী বন্দরসেরি বেগাওয়ানের এই মসজিদ অনেক দূর থেকে দেখা যায়।
ব্রুনাইয়ের ২৮তম সুলতানের নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে। ১৯৫৮ সালে মসজিদ-দালানের নির্মাণকাজ শেষ হয়। মসজিদটির নকশা তৈরি করেছিলেন একজন ইতালিয়ান স্থপতি।
মসজিদ-দালানে রয়েছে মর্মর পাথরে তৈরী দৃৃষ্টিনন্দন কয়েকটি মিনার ও সোনালি গম্বুজ। প্রধান গম্বুজটি খাঁটি সোনায় মোড়া। মসজিদের কয়েকটি আঙিনা ও ফুলের বাগান মনোহর। এগুলোতে রয়েছে সুদৃশ্য ফোয়ারা। মসজিদকে ঘিরে থাকা সবুজ গাছের প্রাচুর্য আর ফুলবাগানের মায়া অপূর্ব। ইসলামিক স্থাপত্যের গৌরব আর ফুলের সৌরভে একাকার যেন এক স্বপ্নিল জগৎ। এখানকার হ্রদে থাকা সর্পিলাকার একটি সেতু সত্যিই দেখার মতো। এটি হ্রদ পার হয়ে চলে গেছে জলগ্রামে। মসজিদ স্থাপনাকে সংযুক্ত করে এখানে রয়েছে অপর একটি মর্মর পাথরের সেতু, যা দেখতে সুদৃশ্য জাহাজের মতো। একসময় এটি ব্যবহার করা হতো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য।
মসজিদের উচ্চতা ৫২ মিটার (১৭১ ফুট)। বন্দরসেরি বেগাওয়ানের যেকোনো স্থান থেকে এটি দেখা যেতে পারে। মূল মিনারটি সবচেয়ে উঁচু। এতে রয়েছে একটি কার্যকর আধুনিক এলিভেটর (লিফটবিশেষ), যার মাধ্যমে স্থাপনার শীর্ষে উঠে নগরের বিস্তৃত অবারিত দৃশ্যপট দেখা যায়।
মসজিদের অভ্যন্তরভাগ ইবাদতের জন্য। এখানে ব্যবহার করা হয়েছে চমৎকার পচ্চিকারি (মোজাইক) রঙমিশ্রিত স্বচ্ছ কাচ, খিলান, আধা খিলান, মর্মরস্তম্ভ প্রভৃতি। মসজিদে ব্যবহার করা পাথর, কার্পেট ও অন্যান্য সামগ্রী আনা হয়েছিল ইতালি, চীন, ব্রিটেন ও সৌদি আরব থেকে।
তথ্যসূত্র : ওয়েবসাইট

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫