ঢাকা, সোমবার,১৮ নভেম্বর ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

অভিমত : পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ কেমন আচরণ?

১৪ মে ২০১৮,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে ‘পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’। বর্তমান সরকারের আমলে সারা দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু ছাগলনাইয়া উপজেলার দিকে তাকালে কেউ বিশ্বাস করবে না যে, দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ছাগলনাইয়াবাসী ২০ বছর ধরে পল্লী বিদ্যুতের কাছে জিম্মি অবস্থায় আছে। সারা দেশে বর্তমানে যেখানে সর্বোচ্চ দু-চার ঘণ্টা লোডশেডিং হয়, সেখানে ছাগলনাইয়ায় প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টায় ১৮-২০ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকে। এটা নিয়মিত ঘটছে। সামান্য ঝড়োবাতাস হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। যেমন- গত ২০ এপ্রিল হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি হয় এবং এ কারণে বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল সকাল ১০টায়। দিন যায় রাত যায় আর বিদ্যুৎ আসে না। বিদ্যুৎ না আসার কারণও জানতে পারেন না কেউ। বিভিন্নজন সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ, আহাজারি, সমালোচনা করতে থাকেন। জানা যায়, ওই দিন পল্লী বিদ্যুতের দুইজন কর্মী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ওই শোকে দায়িত্বরত কর্মীরা কাজ করেননি। এমনিতেই বিদ্যুৎ থাকে না তার ওপর তাদের অবস্থান ধর্মঘট (অঘোষিত)। জনগণের চাপে দ্বিতীয় দিন অন্য উপজেলা থেকে বিদ্যুৎকর্মী এনে লাইন ঠিক করা হলো। কষ্টের মধ্যে দুই দিন পার করতে হয় এলাকাবাসীর। আবার ২৯ এপ্রিল ঝড়-তুফানে কিছু লাইন বিচ্ছিন্ন হয়। তিন দিনেও এটা মেরামত করা হয়নি। তিন দিন পর সীমিত আকারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এভাবে প্রতিদিন বিদ্যুৎ না পাওয়ার কষ্ট ভোগ করে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ছাগলনাইয়াবাসী।
বিদ্যুৎ স্বাভাবিক নিয়মে দিতে না পারলেও প্রতি মাসে মোটাদাগে বিদ্যুৎবিল ধরিয়ে দেয়া হয়। ‘পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’ কারো প্রতিবাদ-আপত্তি শোনে না। আমাদের জনপ্রতিনিধিরাও তাদের এসব অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা চান না। এভাবে কত দিন ছাগলনাইয়াবাসীকে কাটাতে হবে, কোথাও জবাব পাওয়া যায় না। এখান থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি প্রত্যাহারের জন্য জনগণের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি সাধন করে ছাগলনাইয়ার দুঃখ দূর করার ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
হারুনুর রশিদ আরজু
ছাগলনাইয়া, ফেনী।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫