ঢাকা, সোমবার,১৮ নভেম্বর ২০১৯

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য

৯ দিনে ২৫৬ পয়েন্ট সূচক হারাল ডিএসই

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১৫ মে ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

পতন থামছে না পুঁজিবাজারে। থামছে না বাজার সূচকের অবনতি। গতকালও দেশের দুই পুঁজিবাজারে সূচকের অবনতি হয়। আর এভাবে টানা নবম দিন পার করল পুঁজিবাজারগুলো। আর এ ৯ দিনে প্রধান সূচকটির ২৫৬ পয়েন্ট হারায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। গতকাল লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে এসে ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও শেষ রক্ষা হয়নি। এ পর্যায়ে সৃষ্ট বিক্রয়চাপের ফলে সূচকের অবনতি দিয়েই দিন শেষ করে পুঁজিবাজারগুলো। এ সময় দুই পুঁজিবাজারেই লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগ দর হারানোর পাশাপাশি কমেছে লেনদেন।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১ দশমিক ০৯ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ৫ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে ৫ হাজার ৫৯২ পয়েন্টে পৌঁছলেও বিক্রয়চাপের কারণে দিনশেষে ১ দশমিক ০৯ পয়েন্ট অবনতি হয়। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের অবনতি হয় যথাক্রমে দশমিক ৬৯ ও দশমিক ৫০১ পয়েন্ট।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি হয় যথাক্রমে ৫০ দশমিক ৯৯ ও ৩১ দশমিক ১৮ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় যথাক্রমে ৪ দশমিক ৪৭ ও ৩ দশমিক ৮১ পয়েন্ট।
সূচকের পাশাপাশি অবনতি হয় ডিএসইর লেনদেনে। দেশের প্রধান এ পুঁজিবাজারটিতে গতকাল ৩৩০ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়, যা আগের দিন অপেক্ষা ৪৮ কোটি টাকা কম। রোববার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৩৭৮ কোটি টাকা। এভাবে মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে ৫৬০ কোটি টাকা থেকে ৩৩০ কোটিতে নেমে এলো ডিএসইর লেনদেন। গত বৃহস্পতিবার ৫৬০ কোটি টাকা লেনদেন করে ডিএসই। তবে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ১৭ কোটিতেই স্থির ছিল লেনদেন।
সূচক ও লেনদেনের ধারাবাহিক এ অবনতি নতুন করে শঙ্কায় ফেলেছে বিনিয়োগকারীদের। গতকাল ডিএসইর কয়েকটি ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ট্রেডিং ফ্লোরে কয়েকজন বিনিয়োগকারীর কাছে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে তারা তাদের হতাশার কথা জানান। নয়া দিগন্তকে তারা বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ইতিবাচক কথা শোনা গেলেও বাস্তবতা ভিন্ন। এখানে প্রতিদিনই সূচক হারাচ্ছে। গত তিন মাসের মধ্যে হাতে গোনা ক’দিন মাত্র ভালো ছিল বাজার। বাকি দিনগুলোতে পতন হয়েছে বাজার সূচকের।
তারা আরো বলেন, অন্যান্য সময়ে এ ধরনের পতনের একপর্যায়ে বাজার ঘুরে দাঁড়ালেও এবার তা হচ্ছে না। অথচ অর্থনীতির কোনো বিভাগেই খারাপ কিছু শোনা যাচ্ছে না। তা হলে পুঁজিবাজারের এ অবস্থা কেন? তারা মনে করেন, এভাবে সূচকের অবনতি অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে বাজার থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিতে পারে। তখন পতন আরো ত্বরান্বিত হবে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য আসা উচিত বলে মনে করেন তারা। যাতে করে চলমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা স্বস্তি পান।
গতকালও দিনের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী ছিল পুঁজিবাজার সূচক। ঢাকায় ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করে বেলা ১১টায় পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৫৭৩ পয়েন্টে। আগের দিনগুলোর মতোই সূচকের এ অবস্থান থেকে শুরু হয় বিক্রয়চাপ। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ চাপ অব্যাহত থাকলে সূচক নেমে আসে ৫ হাজার ৫৪৬ পয়েন্টে।
বেলা পৌনে ১টায় হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে ডিএসই সূচক। পরে বেলা সোয়া ১টায় ডিএসই সূচক পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৫৯২ পয়েন্টে। এ সময় ৩৪ পয়েন্ট উন্নতি হয় সূচকটির। কিন্তু বেলা দেড়টায় ফের বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে বাজারটি। দিনশেষে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের পুরোটাই হারিয়ে বসে ডিএসই।
গতকালও ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। ২৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৭১ লাখ ৪০ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাাকয় ৭ লাখ ৯৯ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে ইউনাইটেড পাওয়ার ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমেÑ ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং, বেক্সিমকো লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক, বিএসআরএম লিমিটেড, উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি, বিবিএস ক্যাবলস, গ্রামীণফোন ও মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫