ঢাকা, বুধবার,১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নিত্যদিন

বিশ্বের নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী : পেন্যান

১৫ মে ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আজ তোমরা জানবে পেন্যান সম্পর্কে । পেন্যানদের আবাসভূমি যেন সৌন্দর্যের রানী।
লিখেছেন মুহাম্মদ রোকনুদ্দৌলাহ্

আশ্চর্য হলেও সত্যি, বৃষ্টিপ্রধান ক্রান্তীয় অঞ্চলের জঙ্গলে (রেইন ফরেস্ট) একসময় অনেক ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী বা জাতি বাস করত। বেশির ভাগ জাতিই এখন হারিয়ে গেছে, টিকে আছে খুবই কম। টিকে থাকা এ রকম একটি জাতি পেন্যান। এরা বাস করে মালয়েশিয়ার সারওয়াক ও বের্নিওতে।
টিকে থাকলে কী হবে, যুগপরিক্রমায় পেন্যানদের অনেক বৈশিষ্ট্যই এখন লুপ্তপ্রায়। আগে এরা ছিল বন-যাযাবর। এখনো এরা বনের অধিবাসী। তবে এদের বেশির ভাগ বনের গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। আগে এরা খাদ্যের সন্ধানে বন থেকে বনান্তরে ঘুরে বেড়াত। বনের ফলমূল আর শিকার করা প্রাণীর মাংসই ছিল এদের খাদ্য।
পেন্যানদের তরুণ প্রজন্ম বর্তমানে ধান ও সবজি চাষ করছে এবং আধুনিকতার দিকে এদের ঝোঁক বেশ। তবে পূর্বপুরুষের শিকারপ্রীতির ধারাও বয়ে চলছে এরা। এদের শিকারের তালিকায় রয়েছে বন্য শূকর, হরিণ, সাপ, বানর, পাখি, টিকটিকি এমনকি পোকামাকড়।
একসময় এরা গাছের বাকলে লজ্জা নিবারণ করত। চামড়াও ব্যবহার করত পোশাক হিসেবে। বর্তমানে এরা তুলার তৈরী কাপড়ের প্রতি ঝুঁকেছে।
পেন্যানরা কথা বলে পেন্যান ভাষায়। এটি অস্ট্রোনেশিয়ান ভাষা পরিবারের মালয়-পলিনেশিয়ান শাখার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এরা মালয় ভাষাও রপ্ত করেছে।
পেন্যান জনসংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। প্রায় সবাই এখন স্থায়ীভাবে বসবাসকারী; মাত্র ২০০ বন-যাযাবর রয়েছে।
পেন্যানদের আবাসভূমি অবর্ণনীয় সৌন্দর্যময়। নদী যেখানে আড়াআড়িভাবে বনভূমিকে বিভক্ত করেছে এবং যেখানে রয়েছে পাহাড়-পর্বতের গুহা ও পাতালপথ বা সুড়ঙ্গÑ এমন জায়গায় থাকতে এরা পছন্দ করে।
পেন্যানরা মোলয় অনুশীলন করে। তার মানে যা প্রয়োজন তার বেশি কখনো নেয়া যাবে না। এটা এদের বিশেষ মানবিক গুণ। লোভের দুনিয়ায় অন্য জাতির মধ্যে সচরাচর এমন গুণ দেখা যায় না।
এরা সর্বপ্রাণবাদে বিশ্বাস করে। তার মানে পাথর, বাতাসÑ সব বস্তুতে প্রাণ আছে।
পেন্যানদের আবাসভূমি বর্তমানে হুমকির মুখে। ব্যাপকভাবে বনের গাছপালা কাটার ফলে এ হুমকির সৃষ্টি হয়েছে। বন যেভাবে ধ্বংস হচ্ছে, এতে জীববৈচিত্র্য লুপ্ত হচ্ছে এবং পেন্যান জাতির বৈশিষ্ট্যও যাচ্ছে বদলে।
কিছু পেন্যান বিশাল জলবন্ধনের (ড্যাম) কারণেও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বাকুন জলবন্ধনের কারণে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর ভূমি বন্যাকবলিত হতে পারে। এতে এখানকার দেশজ পেন্যান এবং বন্য পশুপাখি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছে। তথ্যসূত্র : ওয়েবসাইট

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫