ঢাকা, শনিবার,২০ এপ্রিল ২০১৯

জাতীয়

প্রস্তুত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়

কির হোসেন লিটন

১৪ মে ২০১৮,সোমবার, ২২:৪৯ | আপডেট: ১৫ মে ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৪:০৭


প্রিন্ট
২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের পুনঃনির্মিত কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভবন

২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের পুনঃনির্মিত কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভবন

প্রায় প্রস্তুত হয়ে গেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ঘষামাজা। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার শিডিউল পেলে যেকোনো মুহূর্তে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। এ ভবন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহের কমতি নেই। অনেকেই আসছেন ভবনটি দেখতে। তারা এসে বাইরে থেকে নির্মাণকাজ দেখে স্মৃতি রোমন্থন করছেন।


যেসব সুবিধা থাকবে নতুন ভবনে
ঐতিহাসিক ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ১০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ১০ তলা এই ভবনটি। এর ৬ ও ৭ তলায় থাকছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়। এখানে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের জন্য বেশ বড় পরিসরে পৃথক কক্ষ এবং সাথে বেলকনিও রয়েছে। অন্যান্য ফ্লোরে রয়েছে কনফারেন্স হল, সেমিনার রুম, ডিজিটাল লাইব্রেরি, ভিআইপি লাউঞ্জ, ক্যান্টিন ও সাংবাদিক লাউঞ্জ। রয়েছে সুসজ্জিত ডরমেটরি। এ ছাড়া নিচ তলায় থাকছে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থাও। দেয়ালের সামনের বাইরের অংশে থাকছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ম্যুরাল। মুক্তিযুদ্ধ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ম্যুরালও রয়েছে দেয়ালের গায়ে।

পুরো কার্যালয়টি থাকছে ওয়াইফাই জোনের আওতায়। কোনো ধরনের অনুদান না নিয়ে সম্পূর্ণ দলীয় তহবিলের অর্থায়নে এই ভবন নির্মিত হয়েছে। ভবনটি নির্মাণের মূল দায়িত্ব পালন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।


এর আগে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল নতুন কার্যালয়ের নতুন ভবনের নকশা অনুমোদন দেন। পরে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু এভিনিউর ভবনে অবস্থিত দলের সব সহযোগী-অঙ্গসংগঠনগুলোকে ৩০ মের মধ্যে অফিস সরানোর জন্য নির্দেশনা দেন। পরে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী সব কার্যালয় স্থানান্তরিত হওয়ার পর ওই বছর ১৭ জুলাই পুরনো স্থাপনা ভাঙা শুরু হয়। ভাঙার কাজ শেষ হলে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়।


এর আগে ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউর চারতলা ভবনটি ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে লিজ নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও সেটা সেই সময় শেষ করা যায়নি। পরে বর্তমান সরকারের আগের মেয়াদে ওই লিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আওয়ামী লীগ। পাশে আরো কিছু জায়গাও দলীয় ফান্ড থেকে ক্রয় করা হয়েছে। লিজ ও জমি ক্রয়প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকারি দল। পরে নকশা প্রস্তুত ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমোদনের পর তা বাস্তবায়নের দিকে যায়।


যেভাবে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ : বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আসার আগ পর্যন্ত স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী ৬৬ বছরের প্রাচীন দল আওয়ামী লীগকে অফিস বদল করতে হয়েছে বারবার। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের অফিস স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। পুরান ঢাকার কে এম দাশ লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আত্মপ্রকাশ করে আওয়ামী লীগ। প্রতিষ্ঠার পর পালাক্রমে নেতৃস্থানীয় নেতাদের বাসায় বসে দল পরিচালনার নীতি-কর্মসূচি গ্রহণ করা হতো। কোনো অফিস ছিল না। তবে ১৯৫৩ সাল থেকে ৯, কানকুন বাড়ি লেনে অস্থায়ী একটি অফিস ব্যবহার করা হতো। ১৯৫৬ সালে পুরান ঢাকার ৫৬, সিমসন রোডে দলের অফিস স্থাপন করা হয়।

১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার পর এর তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৯১, নবাবপুর রোডে দলের অফিস নেন। এর কিছু দিন পর অস্থায়ীভাবে সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলের গলিতে কিছু দিন বসেন নেতারা। পরে পুরানা পল্টনে দু’টি স্থানে দীর্ঘ দিন দলের অফিস ছিল। স্বাধীনতা-উত্তর ১২২, সার্কিট হাউস রোডে কিছু দিনের জন্য আওয়ামী লীগের অফিস ছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আবারো পুরান ঢাকার নবাবপুরে অফিস স্থানান্তরিত হয়। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের হাল ধরার পর ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউর বর্তমান অফিসটি ভাড়া নেয়া হয়। এ ভবনের দোতলায় তখন রেস্টুরেন্ট ছিল। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর ওই রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দিয়ে সেখানে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও আরেক পাশে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় অফিস করা হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫