ঢাকা, সোমবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য

এমএল ডায়িংয়ের আইপিও অনুমোদন

পুঁজিবাজার সূচকের পতন গড়াল দশম দিনে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১৬ মে ২০১৮,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সূচক পতনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে পুঁজিবাজারে। গতকাল মঙ্গলবার বাজারের এ পতন গড়াল দশম দিনে। গত ৩০ এপ্রিল শুরু হয় সূচকের পতন। পরে আর উন্নতির মুখ দেখেনি দেশের দুই পুঁজিবাজার সূচক। প্রতিদিনই সূচকের উন্নতি দিয়ে দিন শুরু করা বাজারগুলো লেনদেনের কোনো না কোনো পর্যায়ে বিক্রয়চাপের শিকার হলে সূচকের অবনতি হয়। এ সময় উভয় বাজারেই লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগ দরপতন হয়।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৮ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট হারায়। ৫ হাজর ৫৫৭ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি মঙ্গলবার দিনশেষে নেমে আসে ৫ হাজার ৫৪৮ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের অবনতি হয় যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭৩ ও দশমিক ২৩ পয়েন্ট।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি হয় যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৩৭ ও ৮ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় যথাক্রমে ২ দশমিক ৭৪ ও দশমিক ৮৭ পয়েন্ট।
সূচকের অবনতি হলেও গতকাল উন্নতি হয় দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনে। ঢাকা শেয়ারবাজার ৩৫৫ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে গতকাল যা আগের দিন অপেক্ষা ২৫ কোটি টাকা বেশি। সোমবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৩৩০ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ১৭ কোটি টাকা থেকে ২৯ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন।
এ দিকে বাজারের মন্দার মধ্যেও থেমে নেই আইপিওর অনুমোদন। টেক্সটাইল খাতের একটি কোম্পানি এমএল ডায়িং আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে। গতকাল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬৪৪তম সভায় কোম্পানিটিকে আইপিওর অনুমোদন দেয়া হয়।
কমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
পাওয়া তথ্য অনুসারে এমএল ডায়িং লিমিটেডের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে দুই কোটি সাধারণ শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে ইস্যু প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিশন। আইপিও এর মাধ্যমে কোম্পানিটি ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। উত্তোলিত টাকা দিয়ে কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি ও কলকবজা ক্রয় এবং স্থাপনের পাশাপাশি আইপিওতে খরচ করবে।
৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরে পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া শেয়ারপ্রতি নেট অ্যাসেট ভ্যালু হয়েছে ২৩ টাকা ৭১ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি ভারিত গড় হারে আয় হয়েছে দুই টাকা ৩৫ পয়সা। আইপিও প্রস্তাবের আগের কোম্পানিটি কোনো সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করেনি।
কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এনবিএল ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ও রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
মঙ্গলবার সূচকের উন্নতি দিয়েই দিন শুরু করে দুই পুঁজিবাজার। ঢাকায় ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৫৫৭ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করে বেলা পৌনে ১১টায় পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৫৭৮ পয়েন্টে। অর্থাৎ প্রথম পনের মিনিটে সূচকটির উন্নতি হয় ২১ পয়েন্ট। সূচকের এ অবস্থান থেকেই শুরু হয় বিক্রয়চাপ। দুপুর ১২টায় ডিএসই সূচক নেমে আসে ৫ হাজার ৫৫৬ পয়েন্টে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্রয়চাপ সামলে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে বাজার সূচক। বেলা সাড়ে ১২টায় সূচকটি আবারো ৫ হাজার ৫৭৮ পয়েন্টে পৌঁছে যায়।
কিন্তু সূচকের এ অবস্থান থেকে দ্বিতীয়বারের মতো বিক্রয়চাপ শুরু হয়। দিনের বাকি সময় আর পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হলে দিনশেষে ৮ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৫৪৮ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে স্থির হয় ডিএসই সূচক।
দুই বাজারের বেশির ভাগ খাতেই দরপতন হয় গতকাল। তবে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের আচরণ ছিল মিশ্র। আবার প্রকৌশল, রসায়ন, জ্বালানি ও সিমেন্ট খাতে দর হারায় বেশির ভাগ কোম্পানি। ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ৩৩৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১২৩টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১৫২টি। অপরিবর্তিত ছিল ৫৯টির দর।
অন্য দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৩২টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৮১টির দাম বাড়ে, ১১৮টির কমে এবং ৩৩টি সিকিউরিটিজের দাম অপরিবর্তিত থাকে।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। ২৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৮৩ লাখ ৫৮ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ১৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় ৬৭ লাখ ৭৪ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে বেক্সিমকো লিমিটেড ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, লিগেসি ফুটওয়্যার, কুইন সাউথ টেক্সটাইলস, বিএসআরএম লিমিটেড, রংপুর ডেইরি ফুড, মুন্নু সিরামিকস, বিবিএস ক্যাবলস ও লঙ্কা বাংলা ফিন্যান্স।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫