ঢাকা, শনিবার,২০ এপ্রিল ২০১৯

সিলেবাস

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা দ্বিতীয় অধ্যায় : ইবাদত

মো: মাছুদুল আমীন শাহীন অধ্যক্ষ, শাহীন ক্যাডেট স্কুল, টাঙ্গাইল

১৬ মে ২০১৮,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

প্রিয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের ‘দ্বিতীয় অধ্যায় : ইবাদত’ থেকে ১টি বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো ।
প্রশ্ন : সব ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি উদার, সহিষ্ণু ও শ্রদ্ধাশীল হওয়ার গুরুত্ব বর্ণনা করো।
উত্তর : ইসলাম উদার মানবতাবোধসম্পন্ন, পরমত সহিষ্ণু একটি আন্তর্জাতিক জীবনব্যবস্থা। ইসলাম সব ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি উদার, সহনশীল ও শ্রদ্ধাশীল। ইসলামে যেমন আছে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় নীতিমালা; তেমনি আছে ন্যায়নীতিভিত্তিক উদার, আন্তঃধর্মীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা। মানবতার ঐক্য, বিশ্বশান্তি ও বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা অপরিসীম। ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ মূলগতভাবে একই পিতামাতা আদম আ: ও হাওয়া আ:-এর সন্তান। ইসলাম মানবতার ঐক্যে বিশ্বাস করে, বিভেদ পছন্দ করে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মানুষ ছিল একই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা বাকারাহ-১২৩)। ইসলাম এত উদার যে, মহানবী সা: ইহুদি, খ্রিষ্টান ধর্মযাজকদের মদিনা মসজিদে ইবাদত করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। নিজের ধর্ম অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয়ার অনুমতি ইসলামে নেই। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ধর্মে জবরদস্তি নেই। (সূরা বাকারাহ-২৫৬)।
হজরত মুহাম্মদ সা: মদিনায় হিজরত করেই একটি বিশ্বখ্যাত সনদপত্র সম্পাদন করেন, যা ইতিহাসে ‘মদিনার সনদ’ নামে খ্যাত। এ সনদ সাম্যের মহান নীতি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জানমালের নিরাপত্তা, সব ধর্মের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ঘোষণা ও রাকবচ। এ সনদের মাধ্যমে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার তথা মানবাধিকার স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত হয়।
মহানবী সা: যুদ্ধের তুলনায় সন্ধি ও সুসম্পর্ক গড়ে তোলাকে বেশি অগ্রাধিকার দেন। হুদায়বিয়ায় তিনি কাফেরদের অন্যায় আবদার মেনে নিয়েও শান্তির উদ্দেশ্যে সন্ধি করেছিলেন। তাবুক বিজয়ের পর আয়লা অধিপতি ইউহান্নার সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। এভাবে শান্তির দূত মহানবী সা: হিজরতের পরেই মদিনা ও তার আশপাশের বিভিন্ন গোত্র ও রাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫