ঢাকা, বুধবার,২১ আগস্ট ২০১৯

অর্থনীতি

ব্যাংকে তারল্য সঙ্কট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১৬ মে ২০১৮,বুধবার, ০৭:২৮


প্রিন্ট
ব্যাংকে তারল্য সঙ্কট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

ব্যাংকে তারল্য সঙ্কট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

ব্যাংকিং খাতে তারল্য সঙ্কট প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)। প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণের প্রবৃদ্ধি যে হারে বাড়ছে তার চেয়ে অনেক কম হারে বাড়ছে আমানত। ২০১৫ সালের জুনে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৭ শতাংশ আর আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ দশমিক ১ শতাংশ সেখানে আমানতের প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। এ অবস্থা চলতে থাকলে সামনে তারল্য সঙ্কট আরো বাড়বে।


গতকাল রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ট্রেজারি অপারেশনস অব ব্যাংকস শীর্ষক বার্ষিক পর্যালোচনা কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহা: রাজী হাসান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী।


ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা: রাজী হাসান বলেন, ব্যাংকের ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংককে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমানে ডলারের দাম একটু ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো বিষয়টি নজরদারি করছে যাতে এটি আর না বাড়ে।


মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় বিআইবিএমের অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে বর্তমানে অ্যাডভান্সড ডিপোজিট রেশিও (এডি) ৮৪ দশমিক ৭ শতাংশ। ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না হলে ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে তা ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশে আনা সম্ভব হবে না।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত এ খোদা বলেন, ব্যাংকাররা ব্যাংকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় আরো দক্ষতার পরিচয় না দিলে পুরো ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, ¯েপ্রড পাঁচ শতাংশের নিচে আনতে হবে। বন্ড মার্কেট উন্নয়নে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্র করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য নিষিদ্ধ থাকা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় ভুল নীতির কারণে ২০০৭ সালে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংক। এ কারণে ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল করলে চলবে না।


কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বিআইবিএমের অধ্যাপক মো: নেহাল আহমেদের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। গবেষণা দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বিআইবিএমের প্রভাষক রিফাত জামান সৌরভ, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিডেটের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হেড অব ট্রেজারি মেহেদী জামান এবং ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হেড অব ট্রেজারি আরেকুল আরেফিন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫