ঢাকা, সোমবার,২৬ আগস্ট ২০১৯

উপমহাদেশ

পরীক্ষায় ফেল ছেলে : মিষ্টি বিলিয়ে বাজনা বাজিয়ে উৎসব পরিবারের!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৬ মে ২০১৮,বুধবার, ১১:৫৬


প্রিন্ট
প্রতিকী ছবি

প্রতিকী ছবি

ছেলে দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় ফেল করেছে। তাতে দুঃখ নেই। বরং মিষ্টি বিলিয়ে, বাজনা বাজিয়ে মেতেছে উত্সবে। এই ঘটনায় চোখ কপালে ওঠে মধ্যপ্রদেশের সাগর শহরের বাসিন্দাদের। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে এর কারণ জানানো হলে বিস্ময়ের ঘোর কেটে সহমর্মিতায় ভরে যায় তাদের হৃদয়।

পরিবারের দাবি, অল্প বয়সের ব্যর্থতা যেন ছেলের মনোবল যেন ভেঙে দিতে না পারে। কারণ, এটাই জীবনের শেষ পরীক্ষা নয়। পরিবারের এক সদস্য বলেছেন, পরীক্ষায় ফেল করে ও বোকার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তা করুক, তা আমরা চাই না।

ওই পরীক্ষার্থী চারটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। কিন্তু ফল জানার পর বাবা যেভাবে তাকে জড়িয়ে ধরল, তাতে অবাক হয়ে যায় সে। এরপর আবার যখন বাবা তার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের ডাকলেন, মিষ্টি বিতরণ করলেন, বাজনা বাজিয়ে শোভাযাত্রা বের করলেন, তখন তো সেই বিস্ময় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায় ওই পরীক্ষার্থীর।

আনন্দ-উত্সবে শেষপর্যন্ত সামিল হন স্থানীয়রাও। তারা ওই ছাত্রের বাবার ইতিবাচক মানসিকতার প্রশংসা না করে পারছেন না।

ওই পরীক্ষার্থীর বাবা সুরেন্দ্র বলেছেন, কোনো একটা ক্ষেত্রে ব্যর্থতা মানেই জীবনের সব সম্ভাবনার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। আমি এই বার্তাই দিতে চাইছি। আমার ছেলের এখন জীবনের অন্য বিকল্পগুলো ইতিবাচক মানসিকতার সঙ্গে খুঁজে দেখতে হবে এবং কখনোই হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের এই মানসিকতায় আপ্লুত ওই পরীক্ষার্থী। সে চাইছে, অন্যান্যদের বাবা-মাও যেন একই ধরনের ইতিবাচক মনোভাব গ্রহণ করেন।

তবে ওই ছাত্র জানিয়েছে,এরপর সে আর পড়াশোনা করবে না। বাবার পরিবহণ ব্যবসাকেই জীবিকা হিসেবে বেছে নেয়ার চেষ্টা করবে।

গত সোমবার মধ্যপ্রদেশ বোর্ডের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ১১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। তাদের মধ্যে ছয়জন মারা গেছে। এবার দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় ৩৪ শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় ৩৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। সূত্র: এবিপি আনন্দ

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫