ঢাকা, শুক্রবার,২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

স্ম র ণ : দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

১৭ মে ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩)। জন্ম কৃষ্ণনগর, পশ্চিমবঙ্গ। সেখানকার রাজবংশের দেওয়ান কার্তিকেয় রায় তার বাবা। ডি এল রায় নামে বহুলপরিচিত। বিশিষ্ট কবি, গীতিকার ও নাট্যকার। ১৮৭৮ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় বৃত্তি লাভ করেন। কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে এফএ ও হুগলি কলেজ থেকে বিএ পাসের পর ১৮৮৪ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে এমএ পাস করেন। ১৮৮২ সালে ছাত্রাবস্থায় প্রথম কাব্যগ্রন্থ আর্যগাথা প্রকাশ। সরকারি বৃত্তি নিয়ে কৃষিবিদ্যা শিক্ষার জন্য বিলেতে গমন। সেখানে পাশ্চাত্য সঙ্গীতের তালিম গ্রহণ এবং ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ Lyrics of Ind. প্রকাশ করেন। অভিনয় ও রঙ্গালয়ের কলাকৌশল সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন। ১৮৮৬ সালে দেশে ফিরে সরকারি চাকরিতে যোগদান। সেটেলমেন্ট অফিসার, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, আবগারি বিভাগের পরিদর্শক এবং ল্যান্ড রেকর্ডস অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার বিভাগের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন।
দুর্বল স্বাস্থ্যের জন্য ১৯১৩ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ। বাংলা কবিতায় নতুন ধরনের আঙ্গিক ও ছন্দের সৃষ্টি এবং ব্যঙ্গ ও হাস্যরসাত্মক কবিতা রচনা করে রবীন্দ্রযুগেই মৌলিকতার পরিচয় প্রদান। বাংলা নাটকে সার্থক দ্বন্দ্বমূলক চরিত্র সৃষ্টির প্রথম কৃতিত্ব তারই। দেশপ্রেম এবং সামাজিক দোষত্রুটির সমালোচনা তার নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তার ঐতিহাসিক নাটকগুলো সমধিক প্রসিদ্ধ। সাজাহান (১৯০৯) তার শ্রেষ্ঠ নাটক। বাংলা সমবেত-কণ্ঠসঙ্গীতের প্রবর্তক। গানে দেশী ও পাশ্চাত্য সুর প্রয়োগ। তার স্বদেশী গানগুলো বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’, ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘যে দিন সুনীল জলধি হতে’ ইত্যাদি দেশাত্মবোধক গান রচনায় অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় প্রদান। হাসির গান রচনার ক্ষেত্রেও অবদান স্মরণীয়। রবীন্দ্র-সাহিত্যের বিরূপ সমালোচক।
রচিত গ্রন্থÑ কাব্য আর্যগাথা (প্রথম ভাগ ১৮৮২, দ্বিতীয় ভাগ ১৮৯৩), মন্দ্র (১৯০২), আলেখ্য (১৯০৭), ত্রিবেণী (১৯১২)। ব্যঙ্গ কবিতাÑ আষাঢ়ে (১৮৯৯), হাসির গান (১৯০০)। কাব্যনাট্য : পাষাণী (১৯০০)। ঐতিহাসিক নাটক : প্রতাপ সিংহ (১৯০৫), দুর্গাদাস (১৯০৬), মেবারপতন (১৩১৫), নূরজাহান (১৯০৮), সাজাহান (১৯০৯), চন্দ্রগুপ্ত (১৯১১), সিংহল-বিজয় (১৯১৬)। সামাজিক নাটক : পরপারে (১৯১২)। বঙ্গনারী (১৯১৬)। নকশা ও প্রহসন : এক ঘরে (১৮৮৯), কল্কি অবতার (১৮৯৫), বিরহ (১৮৯৭), ত্র্যহস্পর্শ (১৯০০), প্রায়শ্চিত্ত (১৯০২), পুনর্জন্ম (১৯১১), আনন্দ-বিদায় (১৯১২)। রোমান্টিক ও পৌরাণিক নাটক সোহরাব-রুস্তম (১৯০৮), সীতা (১৩০৯)। বেশির ভাগ ঐতিহাসিক নাটকই মোগল ও রাজপুত ইতিহাসের অবলম্বনে রচিত। চন্দ্রগুপ্ত (১৯১১), সিংহল-বিজয় (১৯১৬) এ দু’খানি নাটকের কাহিনী প্রাচীন ভারতের ইতিহাস থেকে গৃহীত।
‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিলেও ১৩২০ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে পত্রিকাটি প্রকাশের আগেই পরলোকগমন। মৃত্যু : ১৭-৫-১৯১৩। 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫