ঢাকা, বুধবার,২৬ জুন ২০১৯

প্রথম পাতা

বিরোধীদলীয় নেতাদের অব্যাহত আটকে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে গুরুত্ব

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

১৮ মে ২০১৮,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডি প্রধান মার্ক গ্রিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বন্ধুদের খোলামেলা ও আন্তরিকতার সাথে কথা বলতে পারা উচিত। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতাদের অব্যাহতভাবে আটক ও সাংবাদিকদের হয়রানিতে বাংলাদেশের অন্য বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মতো যুক্তরাষ্ট্রও উদ্বিগ্ন। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, যা এ দেশের মানুষের মতামতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাবে।
বাংলাদেশে তিন দিনের সফর শেষে গতকাল রাজধানীর আমেরিকান কাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্ক গ্রিন এ কথা বলেন। সফরকালে তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। ঢাকায় বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সাথে। দীর্ঘ দিন কংগ্রেসম্যান, রাষ্ট্রদূত ও মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ অ্যাকাউন্টের বোর্ড অব ডিরেক্টরে দায়িত্ব পালনকারী গ্রিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনে তৃতীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। সংবাদ সম্মেলনের পরই তিনি মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিডোর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে গেছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গ্রিন বলেন, মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা এবং জনগণের ভোটের অধিকারের প্রতি আমরা বিশ্বাসী। এসব নীতিতেই যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত হতে চেষ্টা করে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর।
সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রিফম্যান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। আমরা এ ক্ষেত্রে একে অপরকে সম্মান করি। যুক্তরাষ্ট্র আশা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিচারে আইনের স্বচ্ছ ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তিনি বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ ও যথাসময়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায়। তবে ওই নির্বাচনে অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। এসব অভিযোগ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সাথে সহিংসতা এড়াতে সব রাজনৈতিক দলকে আইনের আওতায় কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আহ্বান জানায়। সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এটি প্রয়োজন।
ইউএসএআইডির প্রশাসক বলেন, সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদি সুরাহার জন্য এর মূল কারণগুলো মোকাবেলায় মনোযোগ দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই আজ আমি মিয়ানমার যাবো। সেখানে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে সঙ্কট নিরসনে তাদের ভূমিকা পালনের তাগাদা দেবো। এর মধ্যে রয়েছে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি দেয়া, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া উদ্বাস্তুদের স্বেচ্ছা ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং মিয়ানমারের সম্প্রদায়গুলো মধ্যে বৈষম্য দূর করা।
গ্রিন বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার বাংলাদেশের ভূমিকাকে প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিহাস রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো ভয়াবহ নৃশংসতাকে মনে রাখবে। তেমনি মনে রাখবে বিপদগ্রস্ত এসব মানুষকে আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা। কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষই রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সবার আগে এগিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্কট নিয়ে জানতে ও শুনতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে আমি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করছি। সঙ্কট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের করণীয় নির্ধারণে আমার অভিজ্ঞতার কথা ওয়াশিংটনকে জানাবো। চলতি সপ্তাহে আমি রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর জন্য ৪৪ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছি। ২০১৭ অর্থবছরে এ সঙ্কট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র মোট ৩০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। কক্সবাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে নেয়া প্রকল্পগুলো খাদ্য, সুরক্ষা, জরুরি আশ্রয়স্থল নির্মাণ, খাবার পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্য খাতে উদ্বাস্তুদের সহায়তা দিয়ে আসছে। বর্ষা মওসুমকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ দিনের অংশীদারিত্ব, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে মার্ক গ্রিন বলেন, বাংলাদেশে ইউএসএআইডির শিকড় গভীরভাবে প্রথিত। স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক শাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একসাথে কাজ করছে। এখন আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বাস্তু সঙ্কট মোকাবেলায় কাজ করছি। বাংলাদেশ একসময় বহির্বিশ্ব থেকে খাদ্যসহায়তা নিত। আর আজ বিপুলসংখ্যক উদ্বাস্তুর জন্য সহায়তা হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এক দশক ধরে ছয় শতাংশের ওপর জিডিপি ধরে রাখা বিরাট অগ্রগতি। অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত রাখতে ভবিষ্যতে আমরা একসাথে কাজ করব।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের জনসংখ্যা, উদ্বাস্তু ও অভিবাসনবিষয়ক ব্যুরোর উপসহকারী মন্ত্রী মার্ক স্টরিলা ও ইউএসএআইডির মুখপাত্র কেটন মেকেসকি।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫