ঢাকা, মঙ্গলবার,২০ আগস্ট ২০১৯

সিলেট

দিরাইয়ে ট্রিপল মার্ডার মামলার পুনঃতদন্ত করবে পিবিআই

ইমরান হোসাইন, দিরাই-শাল্লা (সুনামগঞ্জ)

১৮ মে ২০১৮,শুক্রবার, ১৫:৪৮


প্রিন্ট

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বহুল আলোচিত কোটি টাকার জলমহাল দখল নিয়ে সুরঞ্জিত-মতিউর গ্রুপের বন্দুক যুদ্ধে তিন জেলের প্রানহানির ঘটনার দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেনি আদালত। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) এর মাধ্যমে পুনঃতদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন সুনামগঞ্জের আদালতের (দিরাই )আমলগ্রনকারী বিচারিক আদালত।
গত ৪ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. জহিরুল হক কবির আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেয়ার পর মামলার বাদী একরার হোসেন নারাজি প্রদান করলে দুই কার্যদিবস শুনানি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিজ্ঞ আদালত এ আদেশ প্রদান করেন।
গত বছর ১৭ জানুয়ারী সকাল ১০ টায় দিরাই উপজেলার ঘোড়ামারা সাতপাকিয়া প্রকাশিত জারলিয়া জলমহালের নিয়ন্ত্রন ও কোটি টাকার বানিজ্য নিয়ে দিরাই-শাল্লার তৎকালীন সংসদ সদস্য,সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ মতিউর রহমান এর অনুসারী লোকদের মাঝে এই রক্তক্ষয়ী বন্দুক হয়। বন্দুক যুদ্ধে মতিউর অনুসারী যুবলীগ নেতা একরার হোসেনের পক্ষের ৩জন নিহত হয়। বন্দুক যুদ্ধের হতাহতের ঘটনায় দিরাই উপজেলা চেয়ারম্যান,দিরাই পৌরমেয়র,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকসহ ৩৯ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেন প্রতিপক্ষ একরার হোসেন।
এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের (সুরঞ্জিত অনুসারী) প্রভাবশালী তিন নেতা ও জনপ্রতিনিধিগন আসামী হওয়ায় বিপাকে পরে যায় দিরাই থানা পুলিশ। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের আদেশে ও পুলিশ হেড কেয়াটারের নির্দেশের প্রেক্ষিতে সি আই ডি মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করে। প্রায় দেড় মাস পর দিরাই পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া, উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী প্রদীপ রায়, এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারী মেয়রপুত্র উজ্জল মিয়া ও তার ছোট ভাই তাসকির মিয়াসহ আটজন উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের অন্তর্বর্তিকালিন জামিন নিয়েছিলেন। কিন্তু জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও তারা আর নি¤œ আদালতে যাননি। এদিকে আলোচিত তিন খুনের মামলা তদন্ত শেষ করে এক বছর ২ মাস পর আদালতে চার্জসীট দাখিল করেন সি আই ডি পরিদর্শক জহিরূল হক কবির। মামলার এজাহারের মুল আসামী মোশাররফ মিয়া, প্রদীপ রায়, হাফিজুর রহমান তালুকদার ও মেয়রের দুই পুত্রসহ ৯জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তদন্ত কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাবে ও অনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে এই অভিযোগপত্র দিয়েছেন এমন অভিযোগ এনে ধার্য তারিখে উক্ত অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী একরার হোসেন। নারাজি আবেদনের বিষয়ে দুই কার্যদিবস শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করেন দিরাই বিচারিক আদালতের বিজ্ঞ বিচারক। এ ব্যাপারে মামলার বাদী একরার হোসেন বলেন,‘দিনে-দুুপুরে প্রকাশ্যে তিনজন মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হলো। অথচ অভিযোগপত্রে সিআইডি’র তদন্ত কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাবে ও অনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে মূল আসামিদের বাধ দিয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছিলেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫